ঢাকা শহরের উত্তরা ও নিকুঞ্জা এলাকায় অবৈধভাবে আইফোন সমাবেশের কাজ চালাচ্ছিলেন বলে সন্দেহভাজন তিন চীনা নাগরিককে গতকাল পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ডিটেকটিভ শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত তান জিয়ান, উ জুন এবং ডং হংওয়েইকে গৃহে গিয়ে গোপন ল্যাব ও বিপুল পরিমাণ পণ্য জব্দ করা হয়।
সকাল ৩:৩০ টায় উত্তরা পশ্চিমের সেক্টর ১৩-এ গৃহে অনুসন্ধান চালিয়ে তান জিয়ানের বাড়ি থেকে ৫৮টি আইফোন এবং কিছু স্পেয়ার পার্টস জব্দ করা হয়। তিনি গ্রেফতার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তদন্তকারীরা তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিকুঞ্জা-১, খিলখেট থানা এলাকার বাড়িতে অভিযান চালায়।
সন্ধ্যা ৫:৩০ টায় নিকুঞ্জা বাড়িতে উ জুন ও ডং হংওয়েইকে আটক করা হয় এবং গোপন ল্যাবের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়। সেখানে অতিরিক্ত ৩০৫টি আইফোন, বিভিন্ন মডেলের স্পেয়ার পার্টস এবং ফোন সমাবেশের যন্ত্রপাতি পাওয়া যায়। এছাড়া আটটি বিদেশি মদ্যপ পানীয়ের বোতল ও টাকায় ২৬,০০০ টাকার নগদ অর্থও জব্দ করা হয়।
মোহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল, ডিটেকটিভ শাখার মিরপুর বিভাগের ডেপুটি কমিশনার, জানিয়েছেন, এই গ্যাং প্রায় এক বছর অর্ধেক সময় ধরে গোপন ল্যাব চালিয়ে ট্যাক্স এড়িয়ে আইফোনের অংশগুলো আলাদা করে আমদানি করে সমাবেশ করত। সমাবেশের পর তৈরি পণ্যগুলোকে মূল আইফোনের মতোই বাজারে বিক্রি করা হতো।
অভিযুক্তরা সমাবেশকৃত ফোনগুলোকে মূল পণ্যের মতোই প্যাকেজিং করে বিক্রেতা ও গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করত, ফলে গ্রাহকরা নকল পণ্য কিনে ফেলছিলেন। ডিপি কর্মকর্তার মতে, এই ধরনের জালিয়াতি এক বছর অর্ধেকেরও বেশি সময় ধরে চালিয়ে আসছে এবং ইতিমধ্যে বাজারে বিপুল পরিমাণ নকল ফোন ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে কিছু স্থানীয় ব্যক্তির নাম পাওয়া গিয়েছে, তবে তাদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা যায়নি। তদন্তকারী দল এখনো সংশ্লিষ্ট সকলের ওপর বিস্তারিত অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গ্রেফতারকৃত তিনজনকে শীঘ্রই আদালতে হাজির করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ উৎপাদন, ট্যাক্স ফাঁকি এবং ভোক্তা প্রতারণা সংক্রান্ত অভিযোগে মামলা দায়েরের সম্ভাবনা রয়েছে। আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
ডিটেকটিভ শাখা উল্লেখ করেছে, এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ কোনো গ্যাং গঠন রোধে নজরদারি বাড়ানো হবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো ইতিমধ্যে অন্যান্য সন্দেহজনক স্থানে নজরদারি বাড়িয়ে চলেছে।
এই ঘটনা দেশের ইলেকট্রনিক পণ্যের বাজারে নকল পণ্যের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করে নকল পণ্যের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে বলে কর্মকর্তারা আশাবাদী।



