27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনবম জাতীয় পে‑স্কেল ও গ্রেড বিন্যাসের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা আজের বৈঠকে

নবম জাতীয় পে‑স্কেল ও গ্রেড বিন্যাসের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা আজের বৈঠকে

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সিভিল সেবা বিভাগে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা শেষ হতে পারে, কারণ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ের কমিশন কক্ষের দরজা খুলে গুরুত্বপূর্ণ এক সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে নবম জাতীয় পে‑স্কেল ও গ্রেড কাঠামো সম্পর্কিত চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারিত হতে পারে।

বছরের পর বছর ধরে পে‑স্কেল সংস্কারের দাবিগুলো বিভিন্ন স্তরে তীব্রতা পেয়েছে; শেষমেশ এখন পর্যন্ত অপেক্ষা শেষের দিকে। সরকারী কর্মচারীদের বেতন ও পদোন্নতির কাঠামো পুনর্গঠন করার লক্ষ্যে গঠিত পে‑কমিশন, জুলাই মাসে গৃহীত অস্থায়ী নির্দেশনা অনুসারে ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার সময়সীমা পেয়েছে।

আজকের সভা সচিবালয়ের কমিশন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে কমিশনের সকল সদস্য উপস্থিত থাকবে। বৈঠকের মূল এজেন্ডা নবম পে‑স্কেল প্রস্তাবনা, গ্রেড সংখ্যা এবং বেতন কাঠামোর সামগ্রিক রূপান্তর।

বর্তমানে সরকারী কর্মচারীদের জন্য বিশটি ভিন্ন গ্রেড চালু রয়েছে, যা বেতন স্তরকে বিভাজিত করে। তবে নতুন পে‑স্কেলে এই গ্রেড সংখ্যা কমিয়ে আনার দাবি সাম্প্রতিক সময়ে তীব্রতা পেয়েছে, কারণ অনেক বিশ্লেষক ও নীতিনির্ধারক এটিকে আধুনিকায়নের বাধা হিসেবে দেখছেন।

কমিশনের কিছু সদস্য গ্রেড সংখ্যা হ্রাসের পক্ষে যুক্তি দেন, তারা বলেন যে কম গ্রেডের মাধ্যমে বেতন কাঠামো সহজ হবে এবং পদোন্নতি প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হবে। এ ধরনের রূপান্তর কর্মচারীদের জন্য দ্রুত ও ন্যায্য বেতন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারে।

অন্যদিকে, কমিশনের অন্য একটি গোষ্ঠী বর্তমান বিশটি গ্রেড বজায় রাখার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেয়। তাদের মতে, বিদ্যমান গ্রেড ব্যবস্থা কর্মচারীর দক্ষতা ও দায়িত্বের স্তরকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করে, এবং হঠাৎ পরিবর্তন কর্মশক্তির মনোবলকে প্রভাবিত করতে পারে।

বৈঠকের ফলাফল কেবল গ্রেড সংখ্যা নয়, বরং নতুন পে‑স্কেলের বেসিক পে, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধার কাঠামোও নির্ধারণ করবে। যদি গ্রেড সংখ্যা কমে যায়, তবে বেতন স্তরের পুনর্গঠন এবং পদোন্নতির মানদণ্ড পুনঃনির্ধারণের প্রয়োজন হবে।

সেশন শেষে সরকারকে চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারিত হতে পারে। এই সুপারিশের লক্ষ্য হবে বাস্তবসম্মত ও কর্মচারীদের গ্রহণযোগ্য একটি মডেল উপস্থাপন করা, যা দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে।

কমিশনের কাছে এখনো ফেব্রুয়ারি ১৪ তারিখ পর্যন্ত সময় রয়েছে, যার মধ্যে তারা চূড়ান্ত প্রস্তাবনা প্রস্তুত করে সরকারকে উপস্থাপন করবে। এই সময়সীমা জুলাই মাসে গৃহীত অস্থায়ী নির্দেশনার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছে।

রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, পে‑স্কেল সংস্কার দেশের নির্বাচনী চক্রের পূর্বে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সরকারী কর্মচারীদের বেতন কাঠামোর পরিবর্তন ভোটারদের কাছে সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি হিসেবে উপস্থাপিত হতে পারে।

অন্যদিকে, বিরোধী দল ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোও এই প্রক্রিয়ার ফলাফল ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তারা নিশ্চিত করতে চায় যে নতুন পে‑স্কেল কর্মচারীর বাস্তবিক চাহিদা ও মজুরির ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

বৈঠকের পরবর্তী ধাপ হবে চূড়ান্ত সুপারিশের খসড়া প্রস্তুত করা, যা সরকারী অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে নতুন পে‑স্কেল ও গ্রেড কাঠামো আগামী আর্থিক বছরের শুরুতে কার্যকর হতে পারে, ফলে সরকারী কর্মচারীর বেতন ও পদোন্নতির প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments