বিএপিএল ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও নোয়াখালি এক্সপ্রেস মুখোমুখি হয়ে ২০ ওভার সীমার টি২০ ফরম্যাটে খেলেছে। রাজশাহী ২০ ওভারে ১৫১ রান ছয়টি উইকেট নিয়ে শেষ করে, নোয়াখালি ১৩ ওভারে ৮৪ রান থেকে দুইটি উইকেট নিয়ে শেষ করেছে। ফলে রাজশাহী ১৮ রান পার্থক্যে জয়লাভ করে।
রাজশাহীর ব্যাটিং শুরুতে তানজিদ হাসান ও মোহাম্মদ ওয়াসিম ওপেনিংয়ে নেমে ২২ রান ত্রুটিহীনভাবে সংগ্রহ করে, তৃতীয় ওভারে কোনো উইকেট না নেয়। নোয়াখালীর পেসার হাসান মুরাদ প্রথম ওভারটি মেদেন নেন, এরপর মোহাম্মদ নবী দ্বিতীয় ওভারে মাত্র তিন রান দিয়ে ব্যাটিং শেষ করেন।
নোয়াখালীর দুই ওপেনার তৃতীয় ওভারে ব্যাটিং শুরু করে, প্রথম বলেই হাসান মাহমুদ লেগবাই থেকে চার রান সংগ্রহ করেন। পরের বলেই ওয়াসিম ছক্কা মারেন, চতুর্থ ও পঞ্চম বলেই দুটো চারের সংযোজন হয়। ফলে হাসান তার প্রথম ওভারে একাই ১৯ রান যোগ করেন, যদিও তিনি ওই ওভারে কিছুটা অপ্রতুল বোলিংও করেন। ওয়াসিম ১৭ রান এবং তানজিদ মাত্র এক রান রেখে অচল অবস্থায় রইলেন।
বিনুরা ফার্নান্দো শেষ বলটি করার পর মন্তব্যকারী মাজহার উদ্দিন উল্লেখ করেন, রাজশাহীর স্কোর প্রায় বিশ রান কমে থাকলেও দলটি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাঠ ছেড়ে যায়। শেষ ওভারে বিনুরা পাঁচ রান দিয়ে মাহিদুলের উইকেট নেন, ফলে নোয়াখালি শেষ পাঁচ ওভারে তিনটি উইকেট হারিয়ে ৫৫ রান যোগ করতে সক্ষম হয়। শেষ দশ ওভারে তারা চারটি উইকেটের বিনিময়ে ৭৭ রান সংগ্রহ করে।
নোয়াখালীর সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ সৌম্য ও শাহাদতের মধ্যে গড়ে ওঠে, যেখানে দুজনই ৫৭ রান করে দলকে সমর্থন করেন। সৌম্য ৫৯ রান এবং শাহাদত ৩০ রান করে, আর শেষের দিকে নবী ২৬তম বলেই ৩৫ রান করে শেষ করেন। এই পারফরম্যান্স নোয়াখালীর সর্বোচ্চ ইনিংস হিসেবে রেকর্ড হয়।
রাজশাহীর পেসার রিপন মন্ডল ২ উইকেটের সঙ্গে ২৭ রান দেন, যার মধ্যে ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলেই নবী ছক্কা মারেন। তৃতীয় বলেই ডিপ মিডউইকেটে তানজিম হাসানকে ক্যাচ দিয়ে আউট করেন, ফলে নবী ২৬ বলে ৩৫ রান করে। রিপনের মুখে এই উইকেটের পর হাসি ফুটে ওঠে।
নোয়াখালি ১৮ ওভারে ৩ উইকেটের সঙ্গে ১৩৩ রান সংগ্রহ করে। রাজশাহীর পেসার বিনুরার ১৮তম ওভারের পঞ্চম বলেই নোয়াখালীর আফগান ব্যাটসম্যান নবী সরাসরি ক্যাচে আউট হন। তবে উল্টো ফ্রি হিটের জন্য উম্পায়ার নো বল ডাকা সত্ত্বেও, বিনুরা অবাক হয়ে দেখেন নবী ২৯ রান এবং হায়দার ২ রান অবিরত থাকে।
নোয়াখালীর ১৩ ওভারে ২ উইকেটের সঙ্গে ৮৪ রান থাকে, যেখানে নাজমুল হোসেন দলকে বলার আগে উল্লেখ করেন, এবার তিনি নিজেও বোলিং করতে চান। এই মন্তব্য দলীয় মনোভাবকে উজ্জীবিত করে।
সারসংক্ষেপে, রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ব্যাটিং শক্তি ১৫১/৫ স্কোরে প্রকাশ পায়, যেখানে নোয়াখালি এক্সপ্রেসের সর্বোচ্চ স্কোর ১৩ ওভারে ৮৪ রান। রিপন মন্ডল ও বিনুরার বোলিং পারফরম্যান্স দলকে জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যৎ ম্যাচে উভয় দলই তাদের কৌশল ও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সকে আরও উন্নত করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে।



