প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৭ অর্থবছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। তিনি ট্রুথ সোশ্যালের মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, নতুন বাজেট প্রস্তাবের মোট পরিমাণ $১.৫ ট্রিলিয়ন, যা বর্তমান বাজেটের তুলনায় প্রায় অর্ধেক বেশি। এই আর্থিক প্রস্তাবটি কংগ্রেসের অনুমোদনের জন্য এখনো অপেক্ষমাণ।
ট্রাম্পের মতে, এই বিশাল ব্যয় তার স্বপ্নের সামরিক বাহিনী গড়ার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। তিনি “ড্রিম মিলিটারি” শব্দটি ব্যবহার করে ভবিষ্যৎ শক্তিশালী রক্ষা ব্যবস্থা গঠনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। অনুমোদিত হলে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতে সর্বোচ্চ ব্যয়ের রেকর্ড গড়ে তুলবে।
প্রস্তাবিত বাজেটের মূল উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে “গোল্ডেন ডোম” নামে পরিচিত আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং নতুন প্রজন্মের যুদ্ধজাহাজের একটি বিশাল বহর। উভয় প্রকল্পই উচ্চ প্রযুক্তি ভিত্তিক এবং বর্তমানের $১ ট্রিলিয়ন বাজেটের মধ্যে বাস্তবায়ন করা কঠিন বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন।
এই ঘোষণার সময়, ফেডারেল সরকার এখনও চলতি অর্থবছরের সামরিক ব্যয়ের বিলের চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। কংগ্রেসের কিছু সদস্যের কাছ থেকে এই বিলের অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রিপাবলিকান দলের একটি অংশ জাতীয় জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত সামরিক ব্যয় বাড়ানোর দাবি করে আসছে।
ট্রাম্পের প্রস্তাবের প্রতি রিপাবলিকান শিবিরের বেশ কয়েকজন নেতা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। হাউজ আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সদস্য ডন বেকন উল্লেখ করেছেন যে, এই আর্থিক পরিকল্পনা বিমান বাহিনী, নৌ বাহিনী এবং পারমাণবিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের জন্য অপরিহার্য। তিনি এটিকে দেশের সামরিক কাঠামো আধুনিকায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
অন্যদিকে, প্রতিরক্ষা শিল্পের কিছু বড় ঠিকাদার ব্যয়ের ধীরগতি এবং উচ্চ মূল্যের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা যুক্তি দিয়েছেন যে, এত বড় আর্থিক পরিমাণের ব্যবহারিকতা এবং প্রকল্পের সময়সূচি সম্পর্কে স্পষ্টতা দরকার। এই উদ্বেগগুলো বাজেট অনুমোদনের আগে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।
ট্রাম্পের সামরিক নীতি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছে। তার শাসনকালে, প্রতিরক্ষা বিভাগকে পুনরায় “ওয়ার ডিপার্টমেন্ট” নামে পুনঃনামকরণ করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনটি সামরিক শক্তিকে নীতি নির্ধারণের মূল হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরার লক্ষ্যে করা হয়।
প্রস্তাবিত $১.৫ ট্রিলিয়ন বাজেটের মধ্যে “গোল্ডেন ডোম” সিস্টেমের জন্য উল্লেখযোগ্য তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে। এই সিস্টেমটি উচ্চ গতির ক্ষেপণাস্ত্র এবং বোমা থেকে দেশের আকাশ রক্ষা করার জন্য উন্নত রাডার ও ইন্টারসেপ্টর প্রযুক্তি ব্যবহার করবে বলে জানা যায়।
নতুন যুদ্ধজাহাজের পরিকল্পনায় বহুমুখী ক্ষমতা, স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম এবং উন্নত রাডার অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই জাহাজগুলোকে সমুদ্রের আধিপত্য বজায় রাখতে এবং বহুমাত্রিক হুমকির মোকাবিলায় সক্ষম করা হবে। তবে, এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও উৎপাদন ক্ষমতা এখনো সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত নয়।
কংগ্রেসের অনুমোদন প্রক্রিয়া চলাকালীন, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কিছু সদস্য বাজেটের আকার ও অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা যুক্তি দিয়েছেন যে, অতিরিক্ত সামরিক ব্যয় সামাজিক কল্যাণ ও অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা তহবিলকে হ্রাস করতে পারে।
বাজেট প্রস্তাবের সমর্থকরা দাবি করেন যে, বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিবেশের পরিবর্তন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী করা জরুরি। তারা উল্লেখ করেন যে, “ড্রিম মিলিটারি” প্রকল্পগুলো ভবিষ্যৎ হাইব্রিড যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও অবকাঠামো গড়ে তুলবে।
বিলটি যদি কংগ্রেসের অনুমোদন পায়, তবে ২০২৭ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় প্রায় $১.৫ ট্রিলিয়ন পৌঁছাবে, যা পূর্বের সর্বোচ্চ রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাবে। এই পরিমাণের ব্যয় জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশের কাছাকাছি হবে, যা পূর্বে রিপাবলিকানদের দাবিকৃত লক্ষ্য।
সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্পের নতুন বাজেট প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতি ও আর্থিক অগ্রাধিকারের পুনর্মূল্যায়নের সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। কংগ্রেসের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়, এই প্রস্তাবের বাস্তবায়ন সম্ভাবনা এবং তার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে থাকবে।



