কানাডার টরন্টোর ইউনিভার্সিটি‑রোজডেল এলাকা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড ৫ জানুয়ারি সামাজিক মাধ্যম এক্সে (পূর্বের টুইটার) তার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে সরে গেছেন। একই দিন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি তাকে দেশের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেন। ফ্রিল্যান্ডের এই পদত্যাগ ও নতুন দায়িত্বের সংযোজন দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন গতিপথ তৈরি করবে।
ফ্রিল্যান্ড এক পোস্টে লিখে জানান, তিনি সংসদ সদস্যের দায়িত্ব থেকে সরে গিয়ে জেলেনস্কির পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করবেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে ইউক্রেন গণতন্ত্রের রক্ষায় মুখ্য ভূমিকা পালন করছে এবং কানাডার সমর্থন এই সংগ্রামের কেন্দ্রে রয়েছে। তার এই মন্তব্যে তিনি কানাডা‑ইউক্রেন সম্পর্কের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।
পদত্যাগের ঘোষণা একদিন আগে, ২৪ ডিসেম্বর, ফ্রিল্যান্ড জেলেনস্কির কাছ থেকে উপদেষ্টা পদ প্রস্তাব পেয়েছিলেন এবং তা কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর কাছে জানিয়ে দেন। তিনি বলেন, এই ভূমিকা স্বেচ্ছায় এবং অর্ধেক সময়ের ভিত্তিতে গ্রহণ করা হবে, ফলে সংসদীয় দায়িত্বের সঙ্গে কোনো সংঘাত হবে না। একই সঙ্গে তিনি কানাডা সরকারের ইউক্রেন পুনর্গঠন বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি পদ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন, যা তিনি সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির মন্ত্রিসভা ছাড়ার পর গ্রহণ করেছিলেন।
ফ্রিল্যান্ডের পদত্যাগের পর, কনজারভেটিভ পার্টির এমপি মাইকেল চংসহ বিরোধী দলের কিছু নেতা তীব্র সমালোচনা প্রকাশ করেন। চং উল্লেখ করেন, কোনো কানাডীয় সংসদ সদস্য একই সঙ্গে কোনো বিদেশি সরকারের উপদেষ্টা হতে পারবেন না এবং তাকে একটিই নির্বাচন করতে হবে – সংসদ সদস্যের পদ নাকি উপদেষ্টা পদ। এই মন্তব্যের পেছনে পার্টির নীতি ও স্বার্থের সংঘাতের ইঙ্গিত রয়েছে।
বিরোধী দলের এই উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায় ফ্রিল্যান্ড স্পষ্ট করেন, উপদেষ্টা পদটি অবৈতনিক এবং অস্থায়ী প্রকৃতির, যা তার সংসদীয় দায়িত্বের সঙ্গে কোনো বিরোধ সৃষ্টি করবে না। তিনি আরও বলেন, ২২ ডিসেম্বর জেলেনস্কি থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর ২৪ ডিসেম্বর কানাডার প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি জানিয়ে দেন এবং তৎপরতা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
ফ্রিল্যান্ডের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গত কয়েক বছরেই বেশ আলোচিত হয়েছে। ফেডারেল নির্বাচনের আগে ও পরে তিনি ইউক্রেনে তহবিল পাঠানোর বিষয়েও ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। তার এই পদত্যাগ ও নতুন দায়িত্বের সংযোজন কানাডার অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক স্তরে তার প্রভাবকে পুনরায় নির্ধারণের সুযোগ তৈরি করবে।
অধিকন্তু, ফ্রিল্যান্ড জুলাই মাসে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি একাডেমিক পদ গ্রহণের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। এই পদটি তার রাজনৈতিক জীবনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং তার আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ককে আরও বিস্তৃত করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এই পরিবর্তনের ফলে কানাডার পার্লামেন্টে ফ্রিল্যান্ডের সিট খালি হবে এবং তার বিকল্প নির্বাচনের জন্য একটি বিশেষ নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে, জেলেনস্কির পরামর্শদাতা হিসেবে তার ভূমিকা ইউক্রেনের আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদার করতে পারে, বিশেষ করে কানাডার আর্থিক ও কূটনৈতিক সহায়তা বাড়ানোর ক্ষেত্রে।
সারসংক্ষেপে, ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডের পদত্যাগ ও জেলেনস্কির উপদেষ্টা নিযুক্তি কানাডা‑ইউক্রেন সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা নির্দেশ করে। তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বিরোধী দলের সমালোচনা দুটোই দেশের রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলবে, যা পরবর্তী সময়ে পার্লামেন্টীয় পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকাশ পাবে।



