28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসামন্ত্রণালয় এলপিজি ভ্যাট ও অগ্রিম কর হ্রাসের সুপারিশ পাঠালেন

মন্ত্রণালয় এলপিজি ভ্যাট ও অগ্রিম কর হ্রাসের সুপারিশ পাঠালেন

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) একটি চিঠি পাঠিয়ে এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে ভ্যাট এবং অগ্রিম করের হ্রাসের পরামর্শ দিয়েছে। এই পদক্ষেপটি গ্যাসের চাহিদা পূরণে বাধা সৃষ্টি করা তীব্র সংকটের মোকাবেলায় নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশই বেসরকারি কোম্পানির মাধ্যমে আমদানি করা হয়। এই গ্যাসের বেশিরভাগই শিল্পখাত ও গৃহস্থালি ব্যবহারে নিযুক্ত, যা দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের জন্য অপরিহার্য।

শীতকালে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের হ্রাস এবং দেশীয় পাইপলাইন গ্যাসের সীমিত প্রবাহের ফলে এলপিজি দামের ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেখা যায়। দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গৃহস্থালি ও শিল্পখাতের ব্যয়ও বাড়ে, যা সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি ও ক্রয়ক্ষমতায় প্রভাব ফেলে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এলপিজি বাজারে তীব্র ঘাটতি দেখা দিচ্ছে, যা সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। গ্যাসের ঘাটতি বাড়লে রান্না, হিটিং এবং শিল্প উৎপাদনের ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

মন্ত্রণালয় এই সুপারিশটি এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) এর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পরামর্শের পর প্রণয়ন করেছে। লোয়াবের প্রতিনিধিরা বাজারের বাস্তব অবস্থা ও সরবরাহ চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে এই পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়েছেন।

ভ্যাট হ্রাসের মাধ্যমে গ্যাসের মূল্যে সরাসরি হ্রাসের আশা করা হচ্ছে, যা শেষ ব্যবহারকারীকে সাশ্রয়ী দামে গ্যাস সরবরাহে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে অগ্রিম কর প্রত্যাহার করলে আমদানিকৃত গ্যাসের মোট খরচ কমে, ফলে আমদানি কোম্পানিগুলোর আর্থিক চাপ হ্রাস পাবে।

বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি এই কর হ্রাসের সুপারিশ এনবিআর অনুমোদন করে, তবে এলপিজি গ্যাসের দাম স্বল্পমেয়াদে কমে আসতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে গ্যাসের সরবরাহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবকাঠামো উন্নয়ন ও বৈচিত্র্যকরণের প্রয়োজন থাকবে।

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, গ্যাসের দাম কমলে গৃহস্থালি ব্যয় হ্রাস পাবে, ফলে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। শিল্পখাতে গ্যাসের সাশ্রয়ী সরবরাহ উৎপাদন খরচ কমিয়ে প্রতিযোগিতামূলকতা বাড়াতে পারে।

তবে কর হ্রাসের ফলে সরকারের রাজস্বে স্বল্পমেয়াদে হ্রাসের সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে অন্য কোনো কর বা ফি বাড়ানোর সম্ভাবনা সরকার বিবেচনা করতে পারে, যা সামগ্রিক আর্থিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে।

শীতকালীন গ্যাস সংকটের প্রভাব কমাতে মন্ত্রণালয় ও লোয়াবের সমন্বিত পদক্ষেপের গুরুত্ব স্পষ্ট। সরবরাহের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে কাঁচামাল আমদানি, গুদামজাতকরণ এবং বিতরণ নেটওয়ার্কের দক্ষতা বাড়াতে হবে।

ভবিষ্যতে গ্যাসের চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা থাকায়, সরকারকে দীর্ঘমেয়াদী নীতি গড়ে তুলতে হবে। গ্যাসের বিকল্প জ্বালানি উৎসের উন্নয়ন, গ্যাস সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং রিফাইনারির ক্ষমতা বৃদ্ধি এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হতে পারে।

সারসংক্ষেপে, মন্ত্রণালয়ের ভ্যাট ও অগ্রিম কর হ্রাসের সুপারিশ এলপিজি বাজারের বর্তমান সংকট লাঘবের একটি তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই নীতি বাস্তবায়িত হলে গ্যাসের দাম কমে সরবরাহ স্থিতিশীল হবে, তবে রাজস্বের সাময়িক হ্রাস ও দীর্ঘমেয়াদী সরবরাহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত কৌশল প্রয়োজন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments