ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আজ (৮ জানুয়ারি) গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি মোকাবিলায় তৎক্ষণাৎ এবং কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানায়। দলটির যুগ্মমহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমানের বিবৃতি অনুযায়ী, দেশের লক্ষ লক্ষ পরিবার দৈনন্দিন রান্নার জন্য এলপিজি গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, বিশেষ করে নগর এলাকায় বিকল্পের কোনো সুযোগ নেই।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান উল্লেখ করেন, “দেশের লাখ লাখ পরিবার দৈনন্দিন রান্নার জন্য এলপি গ্যাসের ওপরে নির্ভরশীল। বিশেষ করে শহুরে পরিবারে অন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করারও সুযোগ নাই। জীবন ধারণের এমন গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ নিয়ে গত কয়েকদিন যা হচ্ছে এবং পরিস্থিতির যে গতিপথ বোঝা যাচ্ছে তা হতাশাজনক।” তিনি গ্যাসের ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে জনগণের উদ্বেগকে তুলে ধরেন এবং সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান।
এলপিজি গ্যাসের আমদানি মূলত বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল, যা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, “এলপি গ্যাস আমদানি নির্ভর হওয়ায় এর সঙ্গে বিশ্বরাজনীতির ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। পরিবর্তিত বিশ্বরাজনীতির সঙ্গে সমন্বয় করে কৌশল নির্ধারণ করা উচিৎ ছিলো। এই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অবহেলা, অদক্ষতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে হবে।” তিনি সরকারের নীতি ও কৌশলগত পরিকল্পনার ঘাটতি উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাজের মান যাচাইয়ের দাবি তোলেন।
গ্যাসের আমদানি, বিতরণ ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থা এবং সরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবকে তিনি সমস্যার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। “এলপি গ্যাস আমদানি, বিতরণ ও বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ত পক্ষগুলো এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাঝে সমন্বয়হীনতা ও স্বার্থ কেন্দ্রিক দ্বন্দ্ব পরিস্থিতিতে এত জটিল করেছে। পুরো ব্যবস্থাপনায় নাগরিকের স্বার্থ দেখার কেউ নাই।” তিনি বলেন, এই অদক্ষতা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ক্ষতিতে পরিণত হয়েছে।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমানের মতে, গ্যাসের ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধি কেবল আর্থিক বোঝা বাড়াচ্ছে না, বরং গৃহস্থালির দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “তাই এই ক্ষেত্রে সরকারকে দ্রুত, যৌক্তিক ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। যে করেই হোক জনগণের ভোগান্তি লাঘব করতেই হবে। কারো কোনো কারসাজি থাকলে তা শক্তহাতে দমন করতে হবে।” এভাবে তিনি সরকারের দায়িত্বকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।
ইসলামী আন্দোলনের এই দাবি সরকারী দপ্তরের নিকট থেকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলে, রাজনৈতিক আলোচনায় গ্যাস সমস্যার গুরুত্ব বাড়বে বলে বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিয়েছেন। গ্যাসের ঘাটতি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোতে।
অন্যদিকে, সরকার গ্যাস সরবরাহের সমস্যার সমাধানে কিছু স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে, তবে ইসলামি আন্দোলন এই পদক্ষেপগুলোকে যথেষ্ট না বলে সমালোচনা করেছে। তারা দাবি করে, দীর্ঘমেয়াদী নীতি গঠন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কৌশল প্রণয়নই সমাধানের মূল।
গ্যাস সমস্যার সমাধানে সরকারী দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে, নতুন নীতি প্রণয়ন, আমদানি চুক্তি পুনর্বিবেচনা এবং দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রয়োজন। ইসলামি আন্দোলন এই দিকগুলোকে ত্বরান্বিত করার জন্য সরকারের ওপর চাপ বাড়াবে বলে জানিয়েছে।
এই দাবি দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ভিন্ন হতে পারে। কিছু দল গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলায় বাজারের স্বচ্ছতা এবং প্রতিযোগিতা বাড়ানোর পক্ষে সাড়া দিয়েছে, তবে ইসলামি আন্দোলন সরাসরি সরকারের দায়িত্বকে জোর দিয়ে দাবি করেছে।
গ্যাস সমস্যার রাজনৈতিক প্রভাবের দিক থেকে, এই বিষয়টি আসন্ন নির্বাচনী পর্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভোটারদের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলা এই সমস্যার সমাধান না হলে, রাজনৈতিক দলগুলোর জনপ্রিয়তা হ্রাস পেতে পারে।
অধিকন্তু, গ্যাসের ঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধি সামাজিক অশান্তি বাড়াতে পারে, বিশেষ করে নগর এলাকায় যেখানে গ্যাসের ব্যবহার সর্বাধিক। সরকার যদি দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে জনমতকে প্রভাবিত করে প্রতিবাদ ও প্রতিবন্ধকতা দেখা দিতে পারে।
ইসলামী আন্দোলন এই পরিস্থিতিতে সরকারের দ্রুত, যৌক্তিক এবং কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান পুনর্বার জানিয়ে, গ্যাস সমস্যার সমাধানে সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সমন্বয় ও স্বার্থপরতা দূর করার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, গ্যাসের ঘাটতি শুধুমাত্র একটি অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, এটি নাগরিকের মৌলিক জীবনের অধিকারকেও প্রভাবিত করে।
গ্যাস সমস্যার সমাধানে সরকার কী ধরনের নীতি গ্রহণ করবে, তা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে কিনা, তা সময়ই প্রকাশ করবে। তবে ইসলামি আন্দোলনের এই দাবি দেশের গ্যাস নীতি গঠনে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে।



