দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষের দিকে ঢাকার বিভিন্ন বাজারে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। ব্যবসায়িক সমবায় সমিতি লিমিটেডের ঘোষণায় বলা হয়েছে, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি স্থগিত থাকবে। এদিকে, জ্বালানি বিভাগের পাঁচটি উদ্যোগের মাধ্যমে এলপিজি আমদানি বাড়িয়ে সরবরাহের ঘাটতি কমানোর পরিকল্পনা চালু হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলেছে, যাতে শুল্ক হ্রাস এবং আমদানি প্রক্রিয়ার সহজতা নিশ্চিত হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) শুল্ক কমানোর জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে লোন সাপোর্ট সহজ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) পাঁচটি নির্দিষ্ট কোম্পানিকে অতিরিক্ত আমদানি অনুমোদনের জন্য চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে।
এই উদ্যোগগুলোকে কেন্দ্র করে, এলপিজি ব্যবসায়িক সমবায় সমিতি লিমিটেড বৃহস্পতিবার থেকে বিক্রি বন্ধ রাখবে বলে জানিয়েছে। সমিতি দাবি করে, তাদের আর্থিক দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সিলিন্ডার সরবরাহ থামিয়ে রাখবে। সমিতির মতে, ঢাকা, গাজীপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জে বিক্রি ইতিমধ্যে বন্ধ, অন্য জেলাগুলোতে বিক্রি চলমান।
বিক্রয় বন্ধের পর, সমিতি বিকেলেই বিইআরসির সঙ্গে বৈঠক করার পরিকল্পনা করেছে। বৈঠকের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে, ব্যবসায়ীরা আবার বিক্রি চালু করবেন কিনা তা নির্ধারিত হবে। সমিতি স্পষ্ট করে বলেছে, যদি তাদের দাবি মেনে নেওয়া হয় তবে সিলিন্ডার বিক্রি পুনরায় শুরু হবে, না হলে বন্ধই থাকবে।
পূর্বে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, ব্যবসায়ীরা আমদানি বাড়ানোর অনুমতি পায়নি। এর পর জ্বালানি বিভাগ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে শুল্ক হ্রাস এবং আমদানি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার কাজ শুরু করে। লোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক জানিয়েছেন, সরবরাহ অবিলম্বে বাড়ানো সম্ভব না হলেও আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই বাজারে অতিরিক্ত গ্যাস পৌঁছাবে।
শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে গ্যাসের দাম কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে আমদানি বাড়তে সময় লাগবে বলে আমদানিকারকরা সতর্কতা দিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেন, নতুন শিপমেন্ট এবং কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে, ফলে সরবরাহের ঘাটতি তৎক্ষণাৎ দূর হবে না।
বৈশ্বিক গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশ সরকার স্থানীয় বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপগুলোকে জরুরি বলে বিবেচনা করছে। শুল্ক কমিয়ে এবং আর্থিক সহায়তা সহজ করে, আমদানি প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হবে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের জন্য দাম হ্রাসে সহায়তা করবে।
বাজারে গ্যাসের দামের ওঠানামা ইতিমধ্যে ভোক্তাদের ওপর চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে শীতকালে গরমের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সিলিন্ডারের দামও বাড়ে। ব্যবসায়িক সমবায়ের বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্ত এই দামের উত্থানকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে, যদি না দ্রুত আমদানি বাড়ে।
বিইআরসির অনুমোদিত পাঁচটি কোম্পানির অতিরিক্ত আমদানি অনুমোদন হলে, বাজারে নতুন সাপ্লাই প্রবেশের সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে, এই কোম্পানিগুলোকে লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স এবং গুদামজাতকরণ সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি শুল্ক হ্রাস এবং লোন সুবিধা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে গ্যাসের মোট সরবরাহের ঘাটতি কমে আসবে। তবে, দীর্ঘমেয়াদে গ্যাসের চাহিদা বাড়তে থাকবে, ফলে সরকারকে ধারাবাহিকভাবে আমদানি পরিকল্পনা ও স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
সামগ্রিকভাবে, বর্তমান এলপিজি সংকটের সমাধানে সরকারী উদ্যোগ এবং ব্যবসায়িক সমবায়ের পদক্ষেপ দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। শুল্ক হ্রাস, আর্থিক সহায়তা এবং অতিরিক্ত আমদানি অনুমোদন দ্রুত বাস্তবায়িত হলে, বাজারে সরবরাহের ঘাটতি কমে ভোক্তাদের ওপর চাপ হ্রাস পাবে। তবে, বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং ব্যবসায়িক দাবির সমন্বয় না হলে বিক্রি বন্ধের মতো পদক্ষেপ পুনরায় দেখা দিতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে, ভোক্তাদের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হল গ্যাসের দাম ও সরবরাহের স্থিতিশীলতা। সরকার ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয়মূলক আলোচনা দ্রুত শেষ হলে, বাজারে স্বাভাবিকতা ফিরে আসার সম্ভাবনা বেশি।



