শাজিরা উপজেলায় আজ প্রভাতে গুঁড়ি বোমা তৈরির কাজের সময় একটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। ঘটনাস্থল ছিল জাজিরা উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের মুলাই বেপারী কাঁদি গ্রামে, যেখানে একটি টিন শেডের ছাদ উড়ে গিয়ে গাছের নিচে গুঁড়ি ফাঁদে পরিণত হয়।
বিস্ফোরণে ৩২ বছর বয়সী সোহান বেপারী, দেলওয়ার বেপারীর পুত্র, নিহত হন। তার দেহ গার্লিকের ক্ষেতের কাছাকাছি পাওয়া যায়। একই সময়ে ৩২ বছর বয়সী আরমান মোল্লা ও ২৮ বছর বয়সী মো. নাবিন আহত হন। দুজনই স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা পেয়ে ধাক্কা মারার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেফারেল করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুই মাস আগে সাগর বেপারী এই টিন শেডটি নির্মাণ করেছিলেন। বিস্ফোরণের পর现场ে বোমা তৈরির কাঁচামাল এবং অন্যান্য উপকরণ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে গৃহের ছাদ উড়ে গিয়ে পুরো কাঠামো ধ্বংস হয়ে যায়।
স্থানীয় পুলিশ অফিসার-ইন-চার্জের মতে, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে বোমা তৈরির কাজের সময়ই বিস্ফোরণ ঘটেছে। মৃতের দেহ কীভাবে ক্ষেতের মধ্যে পৌঁছেছে, তা এখনও তদন্তাধীন। সোহানের বিরুদ্ধে আগে থেকেই আক্রমণসহ বেশ কিছু মামলা দায়ের ছিল।
গত রবিবারই একই অঞ্চলে গুঁড়ি বোমার বড় ধাক্কা ঘটেছিল। বুধাইরহাট বাজারে দুই দলীয় বিরোধের কারণে একশেরও বেশি গুঁড়ি বোমা বিস্ফোরিত হয়। সেই ঘটনার ফলে ২০ বছর বয়সী জাবেদ শেখ আহত হন এবং ঢাকা হাসপাতালে ভর্তি হয়। পুলিশ ঐ দিন চারটি বালতি গুঁড়ি বোমা উদ্ধার করেছিল।
সোহানের বোন মজেদা আখতার জানান, তার ভাই সম্প্রতি স্থানীয় নাসির বেপারীর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছিলেন। মামলার কারণে সোহান বাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন বাড়িতে লুকিয়ে থাকতেন এবং গত রাত প্রায় ১১ টার দিকে বাড়ি ত্যাগ করেন।
শাজিরা উপজেলায় কুড্ডুস বেপারী ও জালিল মাদবারের সমর্থকদের মধ্যে নিয়মিত সংঘর্ষ দেখা যায়। স্থানীয় শাসন ও ক্ষমতার দখল নিয়ে এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। পূর্বে ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল ও ২০২২ সালের ২ নভেম্বর বিলাশপুরে গুঁড়ি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা জাতীয় দৃষ্টিগোচর হয়।
পুলিশ বর্তমানে ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে গৃহস্থালির গুঁড়ি বোমা তৈরির অপরাধে মামলা দায়ের করা হবে। তদন্ত চলাকালে স্থানীয় জনগণকে নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং কোনো অবৈধ কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকতে সতর্ক করা হয়েছে।
বিস্ফোরণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা প্রদান এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং গুঁড়ি বোমা তৈরির উপকরণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।



