22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

প্রধান বিচারপতির আদেশের পর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে আদালত প্রাঙ্গণে কোনো ধরনের অস্ত্র, গুলিবিদ্ধ, বিস্ফোরক এবং মাদকদ্রব্য বহন করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নির্দেশনা তৎক্ষণাৎ কার্যকরী এবং সকল আদালত কর্মী, আইনজীবী, সহকারী ও দর্শনার্থীর উপর সমানভাবে প্রযোজ্য। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আদালতে কোনো মিছিল, স্লোগান, প্রচার, সভা বা বিক্ষোভের অনুমতি নেই।

বিধিমালার ভিত্তি হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (হাইকোর্ট বিভাগ) বিধিমালা, ১৯৭৩, যা ১২ নভেম্বর ২০১২ তারিখে সংশোধিত হয়েছে, তার অধ্যায়‑১৬এ‑এর বিধি‑৩, ধারা‑৪ উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিধি স্পষ্টভাবে বলে যে, আদালত ভবনের কোনো অংশে বা প্রাঙ্গণে কোনো ব্যক্তি, তিনি বারের সদস্য, আইনজীবী সহকারী, আদালত কর্মী বা অন্য কোনো ব্যক্তি মিছিল, স্লোগান, প্রচার, সভা বা বিক্ষোভে অংশ নিতে পারবেন না। একই সঙ্গে বৈধ ও অবৈধ সব ধরনের অস্ত্র, গুলিবিদ্ধ, বিস্ফোরক এবং মাদকদ্রব্যের বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার স্বার্থে নির্ধারিত পার্কিং স্থান ব্যতীত গেটের সামনে, রাস্তায় বা ভবনের প্রবেশদ্বারের সামনে গাড়ি ও রিক্সা পার্ক করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। পার্কিং লঙ্ঘনকারীকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় শাস্তি আরোপ করা হবে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল আদালত প্রবেশদ্বার ও পার্কিং এলাকায় অপ্রয়োজনীয় গাড়ি জমা রোধ করে জরুরি সেবা ও নিরাপত্তা কর্মীদের দ্রুত চলাচল নিশ্চিত করা।

সুপ্রিম কোর্টের অভ্যন্তরে কাজ করা আইনজীবী ও কর্মীরা এই নতুন নিয়মের ব্যাপারে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন। তারা উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে আদালতে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা বাড়তে দেখা গিয়েছে এবং কঠোর নিয়মাবলী সবার জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। তবে কিছু আইনজীবী পার্কিং সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, কারণ সীমিত পার্কিং স্থানের কারণে তাদের ক্লায়েন্টদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা কঠিন হতে পারে।

সুপ্রিম কোর্টের নিরাপত্তা বিভাগ এই আদেশকে দেশের সর্বোচ্চ বিচারিক প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা মানদণ্ড উঁচু করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। তারা জানিয়েছেন যে, পূর্বে আদালতে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা প্রয়োজনীয় করে তুলেছে। নতুন বিধান অনুসারে, নিরাপত্তা কর্মীরা প্রাঙ্গণে প্রবেশের আগে সকল ব্যক্তির উপর তল্লাশি চালাতে পারবেন এবং সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া গেলে তা সঙ্গে সঙ্গে বাজেয়াপ্ত করা হবে।

এই আদেশের ফলে অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও অনুরূপ নিরাপত্তা নীতি গ্রহণের সম্ভাবনা বাড়ছে। বিশেষ করে উচ্চ নিরাপত্তা প্রয়োজনীয়তা সম্পন্ন সংস্থাগুলোতে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্যের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি বাড়তে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, আদালতে নিরাপত্তা জোরদার করা দেশের আইন শাসন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, তবে একই সঙ্গে আইনজীবী ও সাধারণ নাগরিকের চলাচল সহজ করার জন্য যথাযথ সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আদেশে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এই বিধি লঙ্ঘনকারীকে শাস্তি দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আদালত ভবিষ্যতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত অতিরিক্ত নির্দেশনা জারি করতে পারে, যা প্রাঙ্গণের সুষ্ঠু পরিচালনা ও সকল অংশগ্রহণকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ বিচারিক প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্য স্পষ্ট হয়েছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments