বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন ৭ জানুয়ারি এক নোটিশে আদালত প্রাঙ্গণ ও ভবনে মিছিল, স্লোগান ও সমাবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধের নির্দেশ জারি করেছে। নিরাপত্তা রক্ষা এবং অফিসের শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি ও কর্মচারীর আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এই আদেশটি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর স্বাক্ষরে প্রকাশিত এবং প্রধান বিচারপতির নির্দেশে কার্যকর করা হয়েছে। এটি পূর্বে ডিসেম্বর ২০২৫-এ জারি করা নিষেধাজ্ঞা নির্দেশনার ধারাবাহিকতা, যা আদালত প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধারাবাহিকভাবে জোরদার করা হয়েছে। আদেশের মাধ্যমে আদালত প্রাঙ্গণে কোনো ধরনের প্রতিবাদ বা সমাবেশের সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হয়েছে।
আদালতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ (হাইকোর্ট ডিভিশন) রুলস, ১৯৭৩-এ নির্ধারিত বিধানকে ভিত্তি করা হয়েছে। এতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি, বারের সদস্য, আইনজীবী, সহকারী বা আদালতের কর্মী আদালত প্রাঙ্গণ বা ভবনের কোনো অংশে মিছিল, স্লোগান, প্রচার, সভা বা বিক্ষোভে অংশ নিতে পারবেন না। এই নিষেধাজ্ঞা সকল ধরণের প্রকাশ্য সমাবেশকে অন্তর্ভুক্ত করে, যার মধ্যে ছোট দলীয় আলোচনা বা স্লোগান শুটিংও অন্তর্ভুক্ত। তাই আদালত ভবনের ভিতরে ও বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই কঠোর নজরদারি বজায় থাকবে।
অতিরিক্তভাবে, আদালত ভবনের গেটের সামনে গাড়ি বা রিকশা পার্কিং নির্ধারিত স্থান ছাড়া সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যাতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা বজায় থাকে। বৈধ ও অবৈধ যেকোনো অস্ত্র, মারণাস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকদ্রব্য বহন করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই বিধানগুলো আদালতের পরিবেশকে নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ রাখতে সহায়তা করবে।
দুর্নীতির ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট শূন্য সহনশীলতা নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছে; সেবাগ্রহীতা ও আদালত কর্মচারীর মধ্যে কোনো আর্থিক লেনদেন বা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কোনো ধরনের ঘুষ, অনুদান বা অন্য কোনো অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই নীতি আদালতের স্বচ্ছতা ও জনসাধারণের আস্থাকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছে।
কর্মচারীর শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকাল ৯ টার আগে অফিসে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত সময়ের আগে কর্মস্থল ত্যাগ করা যাবে না; এ ধরনের অনুপস্থিতি অনুচিত আচরণ হিসেবে গণ্য হবে এবং বিভাগীয় শাস্তি আরোপিত হবে। দেরি করে উপস্থিতি বা অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিতি হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অফিস চলাকালীন সকল কর্মচারীকে নির্ধারিত ফরমাল পোশাক পরিধান করতে হবে এবং পরিচয়পত্র দৃশ্যমান রাখতে হবে। ডেস্কে কোনো কাজ অসমাপ্ত রেখে যাওয়া যাবে না, যা কর্মদক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই নির্দেশনা কর্মস্থলের পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।
এই আদেশের কার্যকারিতা তৎক্ষণাৎ শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কোনো লঙ্ঘন ঘটলে সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদেশের তাৎক্ষণিক কার্যকর হওয়ায় আদালত প্র



