ইরানের রাজধানী তেহরানের পশ্চিমে অবস্থিত ম্যালার্ড কাউন্টিতে পুলিশ কর্মকর্তা শাহিন দেহগান ছুরি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। ঘটনাটি গত কয়েক ঘন্টা আগে ঘটেছে, যখন তিনি প্রতিবাদকারীদের নিয়ন্ত্রণে লিপ্ত ছিলেন। দেহগানের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে এবং দায়িত্বশীলদের সনাক্তকরণের কাজ চালু রয়েছে।
অস্থিরতা ২৮ ডিসেম্বর শুরু হয়, যখন তেহরানের ব্যবসায়ীরা মূল্যবৃদ্ধি এবং রিয়ালের অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে। এই প্রতিবাদ দ্রুত অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২৫টি প্রদেশে বিস্তৃত হয়। সরকারী ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর সহ বহু ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রতিবাদগুলো ২০২২-২০২৩ সালে মহসা আমিনি হত্যার পর দেশের সর্ববৃহৎ সামাজিক আন্দোলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এখনও এই আন্দোলন ২০২২-২০২৩ সালের প্রতিবাদ বা ২০০৯ সালের নির্বাচনী অস্বীকারের পরের বিশাল প্রতিবাদগুলোর সমান মাত্রায় পৌঁছায়নি। তবুও, বর্তমান অস্থিরতা ইরানের শাসন ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, বিশেষ করে দেশের তীব্র অর্থনৈতিক সংকট এবং গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে।
ম্যালার্ডে ঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের পর, নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলো দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহে নিয়োজিত। দেহগানের পরিবার ও সহকর্মীরা শোক প্রকাশ করে এবং শিকারের দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি দাবি করে।
অর্থনৈতিক সমস্যার পাশাপাশি, ইরানের রাজনৈতিক জোটের মধ্যে এনসিপি (নতুন সংহতি পার্টি) অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, যা শাসক গোষ্ঠীর গণতান্ত্রিক গণনা আরও জটিল করে তুলছে। এই রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে প্রভাবিত করতে পারে এবং ভবিষ্যতে নিরাপত্তা নীতির পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন হতে পারে।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীরা মূলত মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং জীবনের ব্যয়বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের দাবি অনুযায়ী, সরকার দ্রুত মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং মুদ্রা স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেবে। তবে, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই সময়ে, ইরানের নিরাপত্তা সংস্থা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অপরাধী সনাক্তকরণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য শেয়ার করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনি দায়িত্ব নিশ্চিত করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, ম্যালার্ডে ঘটিত এই হত্যাকাণ্ড ইরানের চলমান অস্থিরতার একটি নতুন দিক উন্মোচন করেছে। সরকারকে এখন অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান, নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক জোটের জটিলতা মোকাবিলায় সমন্বিত নীতি গ্রহণের প্রয়োজন।



