27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিট্রাম্প অনুমোদন দিলেন রাশিয়া তেল কেনা দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা বিলকে

ট্রাম্প অনুমোদন দিলেন রাশিয়া তেল কেনা দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা বিলকে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিলকে সম্মতি জানিয়ে, কংগ্রেসে দ্রুত ভোটের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। এই ঘোষণাটি রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বুধবারের সাক্ষাতে ট্রাম্পের স্বীকৃতি পাওয়ার পর জানানো হয়।

বিলটি রাশিয়ার শক্তি রপ্তানি, বিশেষ করে তেল-গ্যাস কেনা দেশগুলোকে লক্ষ্য করে, কারণ মস্কো ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনায় অগ্রসর হতে ব্যর্থ হয়েছে। রাশিয়া ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণ করে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যাপক নিন্দা ও নিষেধাজ্ঞার সূত্রপাত করে।

গ্রাহাম উল্লেখ করেন, এই আইনটি ট্রাম্পকে এমন দেশগুলোকে শাস্তি দিতে সক্ষম করবে যারা সস্তা রাশিয়ান তেল কিনে পুতিনের সামরিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে। তিনি চীন, ভারত ও ব্রাজিলকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন, যেহেতু এই তিনটি দেশ রাশিয়ার তেল ক্রয়ের শীর্ষে রয়েছে।

সেনেটর গ্রাহাম, যিনি দক্ষিণ ক্যারোলিনার প্রতিনিধি, দ্রুত দ্বিপাক্ষিক সমর্থন নিয়ে ভোটের আশা প্রকাশ করেছেন এবং বলছেন, পরের সপ্তাহে বিলটি পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপটি রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থায়নকে কঠিন করে তুলবে।

অন্যদিকে, সিনেট ও হাউসের নেতৃত্ববৃন্দ এখনও ভোটের সময়সূচি নির্ধারণে দ্বিধা দেখাচ্ছেন। ট্রাম্পের ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের ইচ্ছা, যা রাশিয়ার তেল ক্রয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ, এই বিলের অগ্রগতিকে প্রভাবিত করছে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তার মতে, নভেম্বর মাসে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, যদি বিলটি পার্লামেন্টে পাশ হয় তবে তিনি স্বাক্ষর করবেন, তবে শর্ত থাকবে যে নিষেধাজ্ঞার ভাষা এমনভাবে গঠন হবে যাতে তিনি তার নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারেন।

ইউক্রেনের যুদ্ধ সমাপ্তির দিকে আলোচনার গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্র বুধবার ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলোর একটি বিস্তৃত জোটকে নিরাপত্তা গ্যারান্টি প্রদান করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই গ্যারান্টিগুলোতে রাশিয়া পুনরায় আক্রমণ করলে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা অন্তর্ভুক্ত।

কিন্তু মস্কো এখনও কোনো স্পষ্ট সমঝোতার ইঙ্গিত দেয়নি। কিয়েভের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার কিছু শর্তে পরিবর্তনের দাবি করা হয়েছে, যা রাশিয়ার মূল দাবিগুলোকে সমর্থন করে। তাই, রাশিয়া এখনো কোনো পাবলিকভাবে স্বীকৃত সমঝোতা প্রকাশ করেনি।

বিলের সম্ভাব্য ভোটের ফলে চীন, ভারত ও ব্রাজিলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কেও প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ভারত, যাকে ট্রাম্প শুল্কের মাধ্যমে চাপ দিতে চান, তার রাশিয়ান তেল ক্রয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।

বৈধভাবে গৃহীত হলে, নিষেধাজ্ঞা বিলটি রাশিয়ার তেল রপ্তানির মূলধন প্রবাহকে সীমিত করবে এবং পুতিনের সামরিক বাজেটের ওপর চাপ বাড়াবে। তবে, একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক তেল বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, যা তেল-নির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।

সেনেটের অভ্যন্তরে কিছু ডেমোক্র্যাটিক সদস্যও এই বিলের ব্যাপারে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন, কারণ তারা যুক্তি দেন যে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা আরোপের বদলে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা উচিত। তবুও, গ্রাহাম উল্লেখ করেন, দ্বিপাক্ষিক সমর্থন পাওয়া গেলে বিলটি দ্রুত অগ্রসর হতে পারে।

বিলের পরবর্তী ধাপ হবে হাউসের অনুমোদন এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর। যদি সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে, তবে রাশিয়ার তেল ক্রেতা দেশগুলোর ওপর আর্থিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়বে, যা ইউক্রেনের যুদ্ধের সমাধানে নতুন গতিপথ তৈরি করতে পারে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments