ঢাকার তেজগাঁও থানা অধীনে ৭ জানুয়ারি রাত ৮টার পরে তেজতুরি বাজারে গুলিবিদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। অজানা গোষ্ঠী গুলি চালিয়ে মুছাব্বির এবং তার সঙ্গে থাকা দুইজনকে আঘাত করে। গুলি‑আঘাতপ্রাপ্তদের মধ্যে মুছাব্বিরকে পরে প্যানথপথের বি.আর.বি. হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। অন্য গুলিবিদ্ধ, ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সুফিয়ান বেপারী মাসুদ (বয়স ৫০), ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ঘটনাস্থল থেকে ফিরে এসে তেজগাঁও থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করেন। তিনি জানান, বহুদিন ধরে তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল এবং কেউ তাকে ক্ষতি করতে পারে এমন ভয় তাকে তাড়া করছিল। তবে তিনি সন্দেহভাজনদের পরিচয় বা সংখ্যা সম্পর্কে কোনো তথ্য দেননি। তেজগাঁও থানা এই এজাহারকে মামলা রূপে রেকর্ড করেছে এবং তদন্তের দায়িত্বে ওসি কোইশূন্য মারমা রয়েছেন।
থানার ওসি মারমা জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বর্তমানে সন্দেহভাজনদের নাম প্রকাশ করা হয়নি; তবে তিন থেকে চারজনকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তদন্ত দল বিভিন্ন মিডিয়া সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এবং সব প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করে মামলাটি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
গুলিবিদ্ধের ঘটনাস্থল তেজতুরি বাজার, যা বসুন্ধরা সিটির পেছনে এবং এ.টি.এন. বাংলার বিপরীত পাশে অবস্থিত। গুলি চালিয়ে অজানা গোষ্ঠী মুছাব্বির এবং তার সঙ্গীদের লক্ষ্যবস্তু করে একাধিক রাউন্ড গুলি করে। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে মুছাব্বিরের মৃত্যু এবং মাসুদের গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি অন্য দুইজনেরও আঘাতের তথ্য পাওয়া যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান, তবে মুছাব্বিরের অবস্থা দ্রুত অবনতি হয়।
তেজগাঁও থানার তদন্তকর্তারা এখন পর্যন্ত কোনো সরাসরি সাক্ষী বা ভিডিও প্রমাণ পায়নি, তবে গুলিবিদ্ধের গাড়ি ও গুলির কেসে ফোরেনসিক বিশ্লেষণ চালু রয়েছে। সন্দেহভাজনদের সনাক্তকরণের জন্য ফোন রেকর্ড, সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় তথ্যদাতাদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। ওসি মারমা উল্লেখ করেন, তদন্তের অগ্রগতি দ্রুত করতে সকল প্রাসঙ্গিক সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং অপরাধী সনাক্ত হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুছাব্বিরের পরিবার ও বন্ধুবান্ধব শোক প্রকাশ করে এবং তদন্তের স্বচ্ছতা ও দ্রুততা দাবি করে। তেজগাঁও থানার কর্মকর্তারা জানান, মামলাটি দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য আদালতে উপস্থাপন করা হবে। বর্তমানে তদন্ত চলমান, সন্দেহভাজনদের সনাক্তকরণ এবং মামলার আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরবর্তী তথ্য জানানো হবে।



