বাংলাদেশ রেলওয়ে কন্টেইনার পরিবহন থেকে অর্জিত আয় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাত্র ৭৭ কোটি টাকায় নেমে, যা ২০১৫-১৬ সালের পর থেকে সর্বনিম্ন স্তর। এই হ্রাসের ফলে রেলওয়ের ঐতিহ্যবাহী লাভজনক সেক্টরটি আর পূর্বের মতো আর্থিক সমর্থন দিতে পারছে না।
পরিবহন ও বাণিজ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কন্টেইনার আয় ২০২১-২২ অর্থবছরে শীর্ষে পৌঁছে ১৩৫ কোটি টাকা ছিল; এরপর ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেয়ে এই বছর ৭৭ কোটি টাকায় শেষ হয়েছে। একই সময়ে, কন্টেইনারে পরিবহনকৃত পণ্যের পরিমাণও তীব্রভাবে কমে গেছে। ২০২১-২২ সালে রেলওয়ে ১৫.৬ লক্ষ টন পণ্য পরিবহন করলেও, গত অর্থবছরে তা প্রায় অর্ধেকে নেমে ৭.৩ লক্ষ টনে পৌঁছেছে।
এই পতনের প্রধান কারণ হিসেবে ইঞ্জিনের ঘাটতি চিহ্নিত করা হয়েছে। ১৯৮৬-৮৭ অর্থবছরে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে কন্টেইনার সেবা চালু হওয়ার পর থেকে এই রুটের জন্য নির্ধারিত ১৩টি লোকোমোটিভের মধ্যে নিয়মিত মাত্র পাঁচ থেকে ছয়টি ইঞ্জিনই সরবরাহ করা হচ্ছে। ইঞ্জিনের অভাবে নির্ধারিত সময়সূচি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ডে দৈনিক চার জোড়া কন্টেইনার ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও, অধিকাংশ দিন মাত্র দুই জোড়া ট্রেনই চলতে পারছে। এই ঘাটতি রেলওয়ের সেবা সময়সূচি ও গ্রাহকের প্রত্যাশাকে প্রভাবিত করছে।
ইয়ার্ডের প্রধান মাস্টার নাজরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, “আমাদের ১৩টি লোকোমোটিভের প্রয়োজন, কিন্তু নিয়মিত মাত্র পাঁচ-ছয়টি পাওয়া যায়; তাই নির্ধারিত ট্রেন চালানো সম্ভব হচ্ছে না।” তার এই মন্তব্য রেলওয়ের অবকাঠামোগত সমস্যার স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।
গত সপ্তাহে ইয়ার্ড পরিদর্শনের সময় তিনটি পূর্ণ লোডেড রেককে ইঞ্জিনের অভাবে চলাচল বন্ধ অবস্থায় দেখা যায়। এই রেকগুলো দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরও চালু করা সম্ভব হয়নি, যা পণ্যের সময়মত ডেলিভারিতে বাধা সৃষ্টি করেছে।
এ spite of these operational setbacks, many shippers continue to prefer container trains because they offer higher cargo security and the convenience of completing customs clearance at Kamalapur ICD, where all relevant agencies are co‑located. This advantage keeps demand alive despite irregular services.
রেলওয়ের কন্টেইনার আয়ের ধারাবাহিক হ্রাস দেশের মোট লজিস্টিকস খাতে প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন। রেলওয়ের আয়-ব্যয় ভারসাম্য নিকট ভবিষ্যতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে, বিশেষত যখন সড়ক ও সমুদ্রপথের প্রতিযোগিতা বাড়ছে।
অধিক লোকোমোটিভ সরবরাহ না হলে কন্টেইনার সেবার পুনরুদ্ধার কঠিন হবে এবং রেলওয়ের আর্থিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী চাপ বাড়বে। সরকার ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে ইঞ্জিনের ঘাটতি দূর করার পদক্ষেপ নিতে হবে, নতুবা কন্টেইনার সেক্টরের আয় আরও হ্রাস পাবে এবং দেশের বাণিজ্যিক লজিস্টিকসের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সারসংক্ষেপে, কন্টেইনার আয় ৯ বছরের সর্বনিম্নে নেমে যাওয়া রেলওয়ের জন্য সতর্ক সংকেত। ইঞ্জিনের ঘাটতি, সেবা সময়সূচির অনিয়ম এবং পণ্যের পরিমাণের হ্রাস একসাথে রেলওয়ের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও বাজারের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ণ করছে। দ্রুত সমাধান না হলে রেলওয়ের ঐতিহ্যবাহী লাভজনক সেক্টরটি আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।



