জামালপুর সদর উপজেলায় গত রাতের মাগরিব নামাজের পর একটি পার্টিতে সংঘটিত মারামারির ফলে ১৬ বছর বয়সী জিহাদ নামের কিশোরকে ছুরি দিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি গাহেরপাড়া গ্রাম থেকে আসা জিহাদের আত্মীয়ের বাড়ির কাছাকাছি ঘটেছে। স্থানীয় পুলিশ অফিসার‑ইন‑চার্জ মিজানুর রহমানের মতে, অপরাধটি গৃহস্থালির পার্টি শেষে ঘটেছে।
বিক্রয়কৃত তথ্য অনুযায়ী, জিহাদ ছিলেন ফিরুজ আহমেদের পুত্র, গাহেরপাড়া গ্রাম থেকে। তার পরিবার জানায়, জিহাদ শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় সমাজে পরিচিত একটি শান্তিপ্রিয় কিশোর। মৃত্যুর সময় তার বয়স মাত্র ষোলো বছর, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জামালপুর সদর থানা অফিসার‑ইন‑চার্জ মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর নিশ্চিত করেন যে জিহাদকে ছুরি দিয়ে গুলি করা হয়েছে এবং এটি একটি হত্যাকাণ্ড। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে, তবে এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
মাগরিব নামাজের পর জিহাদের আত্মীয়ের বাড়িতে একটি “মুরি পার্টি” অনুষ্ঠিত হচ্ছিল, যেখানে স্থানীয় তরুণরা একত্রিত হয়েছিল। পার্টির সময় কিছু তরুণের মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তর্ক শুরু হয়, যা দ্রুতই শারীরিক ঝগড়ায় রূপ নেয়। এই তর্কের মূল অংশে মুন্না ও সাঈদ নামের দুই যুবকের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়।
মুন্না ও সাঈদের তর্ক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পার্টির পরিবেশ উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। জিহাদ, যিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, তর্কে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করেন, ফলে তিনি দুজনের মধ্যে সংঘর্ষের কেন্দ্রে পড়ে যান।
অভিযুক্ত মুন্না, জিহাদের পেছন থেকে ধারালো কোনো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। আহত জিহাদকে তৎক্ষণাৎ পার্টি স্থান থেকে বের করে নিকটবর্তী জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর জিহাদকে গুরুতর অবস্থায় ভর্তি করা হয়, তবে চিকিৎসা দলের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তার প্রাণ হারিয়ে যায়। হাসপাতালে উপস্থিত ডাক্তাররা জানান, জিহাদকে গৃহে আনা শারীরিক ক্ষতি অত্যন্ত গুরুতর ছিল এবং রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
জিহাদের চাচা সাকিব ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জানান, তিনি জিহাদকে তীব্র অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেছেন, তবে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি। সাকিব তৎক্ষণাৎ সংশ্লিষ্ট সকলকে গ্রেফতার করার দাবি জানিয়ে জরুরি আইনি ব্যবস্থা চেয়েছেন।
পুলিশ ঘটনাস্থল এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর পর স্থানীয় তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে। অফিসার‑ইন‑চার্জ মিজানুর রহমান উল্লেখ করেন, তদন্ত চলমান এবং প্রমাণ সংগ্রহের পর যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে, গত রাতের মধ্যে কোনো ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট (FIR) দায়ের করা হয়নি, যা পরবর্তী আদালতিক প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে তদন্তের অগ্রগতি এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতার নিশ্চিত করার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি ত্বরিত কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।



