27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধতেজগাঁও তেজতুরী বাজারে গুলিবিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক নেতা ও ভ্যান মালিকের সহকারী আহত

তেজগাঁও তেজতুরী বাজারে গুলিবিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক নেতা ও ভ্যান মালিকের সহকারী আহত

গত বুধবার রাত প্রায় আটটায় তেজগাঁওয়ের তেজতুরী বাজারে গলির মোড়ে গুলি চালিয়ে দুই ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। গুলির লক্ষ্য ছিল ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, যিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে আরেকজন ছিলেন কারওয়ান বাজার ভ্যান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান, যাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মোস্তাফিজুর রহমান ওই এলাকায় বাস করতেন না; তিনি অন্য কোনো পাড়া থেকে মাঝে মাঝে তেজতুরী বাজারে যেতেন। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে তার ঠিকানা প্রকাশ করা হয়নি। তার পরিবার গুলির পরপরই এজাহার দাখিল করে, যেখানে অপরিচিত ব্যক্তিদের সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী এজাহারটি আনুষ্ঠানিক মামলায় রূপান্তরিত হবে।

গোলাপি রঙের স্টার কাবাবের পেছনের গলিতে গুলি চালানো হয়, যা তেজতুরী বাজারের একটি ব্যস্ত পথ। গুলির সময় প্রায় রাত সাড়ে আটটা, যখন এলাকায় বেশ কিছু মানুষ কেনাকাটা ও খাবার খাওয়ার জন্য উপস্থিত ছিলেন। গুলি চালিয়ে দুজন সন্দেহভাজন দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

মোস্তাফিজুর রহমান, যাকে স্থানীয়ভাবে মুছাব্বির নামেও চেনা যায়, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি দলের বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তার মৃত্যু দল ও স্থানীয় সমাজে শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গুলির পরপরই তার পরিবারকে জানানো হয় এবং শোক প্রকাশের জন্য স্থানীয় সংস্থাগুলো সমবেত হয়।

আবু সুফিয়ান গুলির ফলে গুরুতর আঘাত পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি কারওয়ান বাজারের ভ্যান মালিক সমিতির প্রধান হিসেবে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। হাসপাতালে তার অবস্থার আপডেট জানানো হয়েছে, তবে বর্তমানে তার স্বাস্থ্যের সঠিক অবস্থা প্রকাশ করা হয়নি।

তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার ফজলুল করিম গুলির পর তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানিয়ে বলেন, গুলির পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনো পরিষ্কার হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, গুলির সময় দুজন অপরিচিত ব্যক্তি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং গুলি চালানোর পর দ্রুত সরে গেছেন। বর্তমানে পুলিশ দল গুলির নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে।

পুলিশের মতে, গুলির সময় গলির আশেপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা ছিল, যা থেকে সম্ভাব্য সন্দেহভাজনের চেহারা ও গতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া, গুলির সময় উপস্থিত থাকা সাক্ষীদের বিবৃতি নেওয়া হয়েছে এবং গুলি চালানোর অস্ত্রের ধরন নির্ণয়ের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালু করা হয়েছে।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, গুলির শিকারদের পরিবার এজাহার দাখিলের মাধ্যমে অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে চেয়েছে। এজাহারে অপরিচিত ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তবে তাদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী, যদি সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করা যায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে।

গণতান্ত্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে, পুলিশ গুলির শিকারদের বাড়ির ঠিকানা গোপন রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পেট্রোলিং চালু করা হয়েছে এবং গুলির ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।

গুলির প্রকৃত উদ্দেশ্য ও সন্দেহভাজনদের সনাক্তকরণে তদন্ত চলমান। পুলিশ সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি, গুলির সময় গলিতে উপস্থিত থাকা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মালিকদের কাছেও তথ্য সংগ্রহ করছে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী আপডেট পাওয়া গেলে জনসাধারণকে জানানো হবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments