রাজশাহী দল টস জিতার পর অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের নির্দেশে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিল। টস জয়ের মুহূর্তে দলের কৌশলগত দৃষ্টিকোণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে, কারণ পিচের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে স্পিনের ব্যবহার বাড়বে বলে আশা করা যায়।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাজশাহীর পূর্বের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সিলেটের তিনটি পূর্ববর্তী ম্যাচে প্রথম দুইটি টসে জয় পেলে দলটি বোলিংয়ে এগিয়ে গিয়েছিল, আর তৃতীয় ম্যাচে সুপার ওভারের মাধ্যমে জয় পেয়ে টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করেছিল।
ম্যাচে দু’দলই পূর্ণ দলে উপস্থিত হয়েছে। রাজশাহীর দলে রয়েছে মোহাম্মদ ওয়াসিম, তানজিদ হাসান, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন, উইকেটকিপার মুশফিকুর রহিম, ইয়াসির আলী, রায়ান বার্ল, মেহরব হোসেন, তানজিম হাসান, রিপন মন্ডল, বিনুরা ফার্নান্দো ও হাসান মুরাদ। সিলেটের দলে সৌম্য সরকার, মাজ সাদাকাত, শাহাদত হোসেন, উইকেটকিপার মাহিদুল ইসলাম, জাকের আলী, মোহাম্মদ নবী, অধিনায়ক হায়দার আলী, হাসান মাহমুদ, জহির খান, আবু জায়েদ ও মেহেদী হাসান অন্তর্ভুক্ত।
পিচের অবস্থা সম্পর্কে শ্রীলঙ্কার সাবেক অলরাউন্ডার পারভেজ মাহরুফের বিশ্লেষণ প্রকাশ পেয়েছে। তিনি জানান, আজকের পিচে আগে ছয়টি ম্যাচ খেলা হয়েছে এবং পিচটি সামান্য অমসৃণ দেখাচ্ছে। পিচে বেশ কিছু বড় ফাটল দেখা গেছে, যা স্পিনের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে।
মাহরুফের মতে, পিচের বর্তমান অবস্থা স্পিনারদের জন্য উপযোগী, তাই রাজশাহীর বোলিংয়ের সিদ্ধান্তটি পিচের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই পিচে ১৫০ থেকে ১৬০ রানের মধ্যে স্কোরে জয়লাভের সম্ভাবনা বেশি।
টস জয়ের পর বোলিংয়ে অগ্রসর হওয়া রাজশাহীর কৌশলকে পিচের স্পিন-সহায়ক প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত করা যায়। পিচে বড় ফাটল এবং অমসৃণতা স্পিনারদের জন্য টার্নিং গতি বাড়াতে পারে, ফলে ব্যাটসম্যানের জন্য স্কোরিং কঠিন হতে পারে।
সিলেটের অধিনায়ক হায়দার আলী টস জিতার পর ব্যাটিংয়ে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার দলও পিচের বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে স্পিনের মোকাবিলায় পরিকল্পনা গড়ে তুলবে বলে ধারণা করা যায়।
সিলেটের উইকেটকিপার মাহিদুল ইসলাম পিচের ফাটল এবং অমসৃণতা সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন, যা ব্যাটসম্যানের পা-দৌড়ে প্রভাব ফেলতে পারে। তার মন্তব্য দলকে ফিল্ডিং এবং রান রক্ষা করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মনোযোগ দিতে নির্দেশ করে।
রাজশাহীর উইকেটকিপার মুশফিকুর রহিম পিচের স্পিন-সহায়ক প্রকৃতির প্রতি বিশেষ দৃষ্টিপাত করেছেন। তিনি বলছেন, স্পিনারদের গতি এবং দিক পরিবর্তন ব্যাটসম্যানের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে, ফলে দ্রুত উইকেট নেওয়া সম্ভব হতে পারে।
বোলিং দলে রাজশাহীর প্রধান দায়িত্বশীলরা মোহাম্মদ ওয়াসিম, তানজিদ হাসান এবং রায়ান বার্লের মতো দ্রুত গতি ও স্পিনের সমন্বয়কারী। তাদের পারফরম্যান্স পিচের ফাটল ও অমসৃণতা ব্যবহার করে সিলেটের ব্যাটসম্যানকে চাপে রাখতে পারে।
সিলেটের বোলিং দলে জাকের আলী, মোহাম্মদ নবী এবং হাসান মাহমুদের মতো খেলোয়াড়রা রয়েছে। তারা পিচের স্পিন-সহায়ক বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়ে রক্ষণাত্মক কৌশল গড়ে তুলবে, যাতে রাজশাহীর ব্যাটসম্যানের স্কোরিং সুযোগ সীমিত থাকে।
ম্যাচের পরবর্তী পর্যায়ে উভয় দলই পিচের অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। স্পিনের ব্যবহার, ফিল্ডিং অবস্থান এবং ব্যাটিং পরিকল্পনা পিচের ফাটল ও অমসৃণতার ওপর নির্ভরশীল হবে। এই শর্তে ম্যাচের ফলাফল নির্ভর করবে কৌশলগত সিদ্ধান্তের যথার্থতার ওপর।



