সৌদি আরব ও পাকিস্তান রিয়াদ ও ইসলামাবাদের মধ্যে চলমান আলোচনার মাধ্যমে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের ঋণকে জিএফ‑১৭ যুদ্ধবিমানের ক্রয় চুক্তিতে রূপান্তর করার পরিকল্পনা চালু করেছে। দুই দেশের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির ধারাবাহিকতায় এই আলোচনাটি উঠে এসেছে, যেখানে সৌদি আরবের সামরিক আধিপত্য বজায় রাখতে আধুনিক যুদ্ধবিমানের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, সম্ভাব্য চুক্তির মোট মূল্য চার বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এতে ঋণ সমন্বয়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত দুই বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত। সৌদি আরবের লক্ষ্য হল ইয়েমেনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থিত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তার বিমানবাহিনীর সক্ষমতা শক্তিশালী করা।
গত বছর দু’দেশের স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি এই আলোচনার ভিত্তি তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিবেশে সৌদি‑পাকিস্তান সম্পর্কের গুরুত্ব বাড়ছে, বিশেষ করে সৌদি আরবের তেল-সমৃদ্ধ অর্থনীতির সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তার ঐতিহাসিক বন্ধনকে বিবেচনা করলে।
দীর্ঘ সময় ধরে দু’দেশের মধ্যে আর্থিক ও সামরিক সহযোগিতা চলমান। সৌদি আরব পাকিস্তানের আর্থিক সংকট কাটাতে ঋণ, তেল ও জ্বালানি সহায়তা প্রদান করেছে, আর পাকিস্তান তার দক্ষ সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে সৌদির সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান তার সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি বাড়াতে সক্রিয় হয়েছে; লিবিয়ার খলিফা হাফতার বাহিনীর কাছে চার বিলিয়ন ডলারের জিএফ‑১৭ বিক্রির চুক্তি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
মে মাসে ভারতের সঙ্গে আকাশপথে সংক্ষিপ্ত লড়াইয়ে জিএফ‑১৭ এর কার্যকারিতা প্রমাণিত হওয়ার পর থেকে আরব দেশগুলোর মধ্যে এই বিমানের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে, ২০২৬ সালের শুরুর দিকে ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রক্সি গোষ্ঠী এসটিসির অগ্রযাত্রা রোধে সৌদি বিমান বাহিনীর ভূমিকা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের চীনা প্রযুক্তির এই যুদ্ধবিমান সংগ্রহের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া নিয়ে অনুমান চলছে। বর্তমানে ওয়াশিংটন ও রিয়াদ এফ‑৩৫৫ যুদ্ধবিমান নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সৌদি আরবের সামরিক ক্রয় কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে।
এই চুক্তি যদি চূড়ান্ত হয়, তবে এটি সৌদি আরবের সামরিক আধুনিকীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং পাকিস্তানের রপ্তানি বাজারে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। একই সঙ্গে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোতে পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে সৌদি আরবের বিমানবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ইউএইউ সমর্থিত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তার কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এফ‑৩৫৫ আলোচনার অগ্রগতি এবং সৌদি আরবের জিএফ‑১৭ ক্রয়ের সম্ভাবনা দু’টি বিষয়ই ভবিষ্যতে অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিকোণ থেকে, পাকিস্তানের চীনা-প্রযুক্তি ভিত্তিক যুদ্ধবিমান গ্রহণের ফলে নিরাপত্তা সহযোগিতার পুনঃমূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে।
সৌদি‑পাকিস্তান চুক্তি শেষ পর্যন্ত কী রূপ নেবে, তা নির্ভর করবে ঋণ সমন্বয়, অতিরিক্ত সরঞ্জাম ক্রয় এবং আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর কূটনৈতিক অবস্থানের উপর। তবে বর্তমান পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে, দু’দেশের মধ্যে সামরিক ও আর্থিক সহযোগিতা নতুন মাত্রা অর্জন করতে চলেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিবেশে নতুন গতিবিধি তৈরি করবে।



