টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশের এক সপ্তাহ পরে, আইসিসি ২০ দলের গ্রুপে বাংলাদেশের নামের পরিবর্তে আইসল্যান্ডের নাম দেখা যায়। এই পরিবর্তনটি আইসল্যান্ড ক্রিকেটের অফিসিয়াল টুইটার (এক্স) অ্যাকাউন্টে মজার পোস্টের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়, যেখানে সি গ্রুপে বাংলাদেশের জায়গায় আইসল্যান্ডের নাম বসানো হয়েছে।
আইসল্যান্ডের ক্রিকেট দল সামাজিক মিডিয়ায় নিয়মিত ভাইরাল পোস্টের জন্য পরিচিত, যদিও তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বড় শক্তি নয়। এইবার তাদের পোস্টে বাংলাদেশের নাম বাদ পড়া নিয়ে হাস্যকর মন্তব্য করা হয়, যা ভক্তদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, বিশ্বকাপের ভেন্যু নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও রয়ে গেছে। আইসিসি সূচি ও গ্রুপিং প্রকাশের পরেও বাংলাদেশ দলকে ভারতে খেলতে হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে দলীয় ক্যাপ্টেন লিটন দাস এবং তানজিদ হাসান তামিমের ভারতীয় মাটিতে খেলা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে বিসিবি আইসিসিকে চিঠি পাঠায়।
বিসিবি গত শুক্রবার আইসিসিকে বিকল্প ভেন্যু চাওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন জানায়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে দলীয় পারফরম্যান্স ও খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। এই আবেদনটি আইসিসির সঙ্গে আলোচনার সূচনা করে।
ভারতীয় মিডিয়ায় কিছু প্রতিবেদন প্রকাশ পায়, যেখানে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশকে ভারতের মাঠেই খেলতে না পারলে পয়েন্ট কাটা হতে পারে এবং আইসিসি বিসিবিকে শেষ মুহূর্তে ভেন্যু পরিবর্তনের চূড়ান্ত দাবি জানিয়েছে। তবে এই তথ্যগুলোকে বিসিবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে খণ্ডন করেছে।
বিসিবি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, “বাংলাদেশ দলের স্বার্থ সংক্রান্ত যেকোনো বিষয় আইসিসি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।” এই বিবৃতি স্পষ্ট করে যে, দলটি নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ নিয়ে আইসিসির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানের নাম বাদ পড়ার পর ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়টি তীব্রতর হয়। এক খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে পুরো দলের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে, এ নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন তোলা হয়।
বিসিবি গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাসুদ পাইলটও ভারতে খেলা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে দলীয় মনোভাব ও পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
আইসিসি থেকে চিঠির জবাব পাওয়ার পর, বিসিবি ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে নীতিনির্ধারকদের একটি বৈঠক করে। বৈঠকের সময় নিরাপত্তা পরিকল্পনা, ভেন্যু বিকল্প এবং আন্তর্জাতিক নিয়মাবলী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকের সমাপ্তিতে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানান, “প্রয়োজনে আইসিসিকে আবারও আমাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করা হবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, দলীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য সব সম্ভাব্য উপায় অনুসন্ধান করা হবে।
টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধন থেকে মাত্র এক মাস বাকি, তবে ভেন্যু সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা এখনও সমাধান হয়নি। আইসিসি ও বিসিবি উভয়ই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সময়মতো গ্রুপ ও সূচি চূড়ান্ত করার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্বকাপের শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ দলকে কোন ভেন্যুতে খেলতে হবে, তা নির্ধারণের জন্য আইসিসি ও বিসিবি পরবর্তী সপ্তাহে অতিরিক্ত আলোচনা করার পরিকল্পনা করেছে। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এই আলোচনার মূল লক্ষ্য।



