২৪ বছর বয়সী কানাডিয়ান অভিনেতা হাডসন উইলিয়ামস বুধবার রাতে NBC-র ‘দ্য টুনাইট শো’তে প্রথমবারের মতো উপস্থিত হন। শোটি নিউ ইয়র্কের ৩০ রকফেলার প্লাজা-তে রেকর্ড করা হয় এবং হোস্ট জিমি ফ্যালনের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ দর্শকদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের স্রোত তৈরি করে। উইলিয়ামসের উপস্থিতি ‘হিটেড রিভ্যাল্রি’ সিরিজের জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে তুলেছে, যা তার চরিত্র শেইন হোল্যান্ডার ও সহ-অভিনেতা কনর স্টোরির সঙ্গে গড়ে ওঠা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ওপর ভিত্তি করে।
শোয়ের স্টুডিওতে দর্শকরা হাডসনকে দেখার জন্য রাতারাতি অপেক্ষা করছিলেন; সামাজিক মাধ্যমে তার আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক ভক্ত NBC ভবনের সামনে জমায়েত হয়। শোয়ের শুরুতে ফ্যালন হাডসনের নাম উল্লেখ করতেই দর্শকরা তালি দিয়ে উল্লাস করে, যা স্টুডিওতে তীব্র উচ্ছ্বাসের পরিবেশ তৈরি করে।
মঞ্চে উঠে হাডসন একটি জিঞ্জার এলে খুলে পান করে, সঙ্গে তার চরিত্রের স্বাক্ষর গ্লাস পরেন, যা শেইন হোল্যান্ডারকে স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি মঞ্চে হাস্যরসের ছলে উপস্থিত দর্শকদের “বাইরের ফ্রিকস” বলে উল্লেখ করে, যারা তার আসার অপেক্ষা করছিল। তার এই স্বাভাবিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ স্বভাব দর্শকদের সঙ্গে দ্রুত সংযোগ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
শোয়ের এক অংশে ফ্যালন ও দ্য রুটের তরিক ট্রটার (ব্ল্যাক থট) ‘হিটেড রিভ্যাল্রি’র প্রধান চরিত্র শেইন ও ইল্যা সম্পর্কে তীব্র বিতর্কে লিপ্ত হন। দুজনেই সিরিজের চরিত্রের অনুভূতি ও উদ্দেশ্য নিয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন, ফলে মঞ্চে হালকা উত্তেজনা দেখা যায়। হাডসন তখন মঞ্চে এসে দুজনের মতামতকে স্বীকৃতি দেন, বলেন উভয়ই সঠিক।
অতিথি চেলসি হ্যান্ডলারও শোতে উপস্থিত ছিলেন এবং হাডসন ও তার সহ-অভিনেতাদের নিয়ে রসিকতা করেন, বলেন তিনি “হিটেড রিভ্যাল্রি”র দুইজনের সঙ্গে ত্রিকোণ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। তার এই মন্তব্য শোতে আরেকটি হাস্যকর মুহূর্ত যোগ করে, যা দর্শকদের হাসি ফোটায়।
ইন্টারভিউতে হাডসন সিরিজের সবচেয়ে কঠিন দিক হিসেবে তার চরিত্রের এবং কনর স্টোরির চরিত্র ইল্যা রোজানোভের মধ্যে গড়ে ওঠা প্রতিদ্বন্দ্বিতা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এই অংশটি সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং, কারণ আমরা শুটিংয়ের সময়ই একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছি।” এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, বাস্তব জীবনে বন্ধুত্বের সত্ত্বেও স্ক্রিনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা বজায় রাখতে হয়।
সিজন‑২ সম্পর্কে হাডসন কিছুই প্রকাশ না করলেও তিনি ভবিষ্যৎ গল্পের কিছু ইঙ্গিত দেন। তিনি উল্লেখ করেন, “কিছু দুষ্টু চরিত্র, বড় বড় খলনায়ক থাকবে। প্রথম সিজন ছিল অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ, আর দ্বিতীয় সিজন হবে বাহ্যিক যুদ্ধ।” এই বাক্যগুলো দর্শকদের মধ্যে সিরিজের পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে কৌতূহল বাড়িয়ে দেয়।
শোয়ের শেষে হাডসন দর্শকদের সঙ্গে বিদায় নেন, আবারও তার চরিত্রের গ্লাস পরে এবং হাসি মুখে। তিনি বলেন, “আপনাদের সমর্থন ছাড়া আমি এখানে পৌঁছাতে পারতাম না।” তার এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ দর্শকদের মধ্যে ইতিবাচক অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।
‘দ্য টুনাইট শো’তে হাডসনের এই প্রথম উপস্থিতি তার ক্যারিয়ারের নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শোয়ের উচ্চ রেটিং এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তার জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
বিনোদন জগতের এই নতুন সংযোগের মাধ্যমে হাডসন উইলিয়ামসের ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোতে আরও বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ হবে, বিশেষ করে ‘হিটেড রিভ্যাল্রি’ সিরিজের সিজন‑২ রিলিজের দিকে। দর্শক ও সমালোচক উভয়ই তার পারফরম্যান্সকে প্রশংসা করছেন এবং পরবর্তী পর্বে কী ঘটবে তা নিয়ে আগ্রহী।
এই ঘটনাটি দেখায় কীভাবে লেট-নাইট টক শোগুলো নতুন প্রতিভাকে বৃহৎ দর্শকের সামনে উপস্থাপন করতে পারে এবং একই সঙ্গে জনপ্রিয় সিরিজের প্রচারকে ত্বরান্বিত করে। হাডসনের উপস্থিতি এবং তার সিরিজের ইঙ্গিতগুলো ভবিষ্যতে আরও বড় সুযোগের দরজা খুলে দিতে পারে।



