22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসানয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের টাকা দুই দফায় ফেরত

নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের টাকা দুই দফায় ফেরত

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে যে, বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত আমানতকারীরা তাদের জমা দুই পর্যায়ে পাবে। সরকারী তহবিলের মাধ্যমে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা এই সমাধানে ব্যবহার করা হবে।

বন্দের তালিকায় পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি), এফএএস ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স এবং প্রিমিয়ার লিজিং অন্তর্ভুক্ত। এসব প্রতিষ্ঠানের অবসায়ন প্রক্রিয়া এখনো শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন পরিচালককে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হবে। এছাড়া দুইজন অতিরিক্ত কর্মকর্তা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করবেন, যাতে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা যায়। প্রশাসকগণকে দায়িত্ব দেওয়ার পরই প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে।

সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ব্যাংক এই তহবিল সরবরাহ করবে এবং আমানতকারীদের সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দেওয়া নিশ্চিত করবে। তহবিলের সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার পরই অবসায়ন প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে।

এই নয়টি প্রতিষ্ঠানের সমস্যার মূল কারণের মধ্যে প্রথম চারটি—পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, বিআইএফসি এবং এফএএস ফাইন্যান্স—প্রশান্ত কুমার (পি.কে.) হালদারের আর্থিক অনিয়ম। হালদারের জড়িতি এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণদাতা থেকে ঋণগ্রহীতা রূপে পরিণত করে দেয়।

আভিভা ফাইন্যান্সের ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের সাইফুল আলমের (এস আলম) নাম উঠে এসেছে, যাকে পূর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহকর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পি.কে. হালদারও এস আলমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন, যা আর্থিক নীতির স্বচ্ছতায় প্রশ্ন তুলেছে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালে এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠে। তদুপরি, ঋণগ্রহীতাদের ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা হ্রাস পায়, ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো আর গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে সক্ষম হয় না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ. মনসুরের মতে, অবসায়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আইনি পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে, সম্পদের মূল্যায়ন করে দ্রুত নগদীকরণ করা হবে, যাতে আমানতকারীদের টাকা রোজার আগেই প্রদান করা যায়।

প্রতিষ্ঠানগুলোর নন-পারফরমিং লোন (এনপিএল) অনুপাত বর্তমানে ৯০ শতাংশের উপরে। এই উচ্চ অনুপাত নির্দেশ করে যে অধিকাংশ ঋণই পুনরুদ্ধারযোগ্য নয়, যা সম্পদ বিক্রয়ের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহকে কঠিন করে তুলছে।

অবসায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর, সরকার দুই কিস্তিতে টাকা প্রদান করবে। প্রথম কিস্তি অবসায়ন ঘোষণার পরই জমা হবে, আর দ্বিতীয় কিস্তি সম্পদের বিক্রয় ও নগদীকরণ শেষে প্রদান করা হবে।

বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই পদক্ষেপটি আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে, একই সঙ্গে ঋণদাতাদের জন্য ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ উচ্চ এনপিএল অনুপাত ভবিষ্যতে নতুন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্রেডিট রেটিংকে প্রভাবিত করতে পারে।

সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার একসাথে কাজ করে আমানতকারীদের সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। অবসায়ন প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা, সম্পদের সঠিক মূল্যায়ন এবং তহবিলের সময়মতো মুক্তি এই উদ্যোগের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments