গাইবান্ধা জেলার থানসিংহপুর, বৌয়ালী ইউনিয়নের মাঠে ৭ জানুয়ারি (বুধবার) তীব্র শীতের মাঝখানে রংপুর রাইডার্স ও সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবাল যৌথভাবে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল শীতের কঠিন সময়ে গৃহহীন ও দরিদ্র পরিবারকে তাপসঞ্চারী সহায়তা প্রদান করা।
বিতরণ অনুষ্ঠানে রাইডার্সের অপারেশনস হেড ও টি-স্পোর্টসের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর তাসভীর উল ইসলাম উদ্বোধন করেন। তার সঙ্গে বৌয়ালী ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুর ইসলাম সাবু, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. আমজাদ হোসেন, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব মহফিল হোসেন, কলেজ শিক্ষক আজিজুল ইসলাম এবং এইচ.এম. শাহনেওয়াজ সমিতির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রথম দিনেই দুই হাজারের বেশি নারী-পুরুষ এই উষ্ণ সহায়তা পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে দুইটি মাদরাসা শিক্ষার্থী, জাহেদুল ও নাকিব, কম্বল হাতে তুলে নিলেই তাদের মুখে হাসি ফুটে ওঠে। নাকিব উচ্ছ্বসিত হয়ে বলল, “আজ রাতে কম্বলে একা ঘুমাব।” জাহেদুলের কথায় একই রকম উত্তেজনা দেখা যায়, যা শীতের কষ্টকে সাময়িকভাবে দূর করে।
বয়সী শিশু বেওয়া (৭) ও সবুরনেচা (৭) কম্বল পেয়ে আনন্দে উল্লাস করে। বেওয়া জানান, শীতের ১৫-১৬ দিন ধরে ঘুমাতে পারছিল না, আর এখন গরম কাপড় পেয়ে স্বস্তি বোধ করছে। এই ধরনের সরল আনন্দই স্থানীয়দের জন্য বড় সান্ত্বনা।
গাইবান্ধার শীতকালীন পরিস্থিতি বিশেষভাবে কঠিন। ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে জনজীবন ব্যাহত হয়েছে; মানুষ গরমের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহে সংগ্রাম করছে। কম্বল বিতরণে অংশগ্রহণকারী অনেকেই থানসিংহপুর কাঁচারি, খামার বৌয়ালিয়া, খেয়াঘাট ও পার্শ্ববর্তী গ্রাম থেকে এসেছেন।
খেয়াঘাটের ৭৫ বছর বয়সী আমিনুল ইসলাম বলেন, এই শীতের মতো এত কষ্টের দিন তিনি আগে কখনো দেখেননি। পুরনো পাতলা কম্বল দিয়ে রাতে ঘুমানো কঠিন, আর সরকারী কম্বল পেতে কখনো সুযোগ পাননি। রংপুর রাইডার্সের এই উদ্যোগের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “বসুন্ধরা গ্রুপের মানুষদের গরিবের জন্য ভালোবাসা আছে, আল্লাহ তাদের হায়াত দারাজ করুন।”
থানসিংহপুরের ৭৫ বছর বয়সী আনোয়ারা বেগম জানান, তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন, তবে শীতের কারণে কাজের সুযোগ কমে গিয়েছে এবং মাঝে মাঝে ভিক্ষা করতে হয়। কম্বল পেয়ে তিনি উল্লেখযোগ্য স্বস্তি পেয়েছেন, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনে বড় পরিবর্তন আনবে।
কম্বল হাতে ৬৫ বছর বয়সী জাহেদুল ইসলাম বলেন, দুই ছেলে শ্রমিকের কাজ করে, কিন্তু শীতের কঠিন সময়ে পরিবার চালাতে পারছেন না। তিনি যোগ করেন, “অভাবের সংসারে শীতে খুব কষ্ট হচ্ছিল, এখন এই কম্বল আমাদের জন্য বড় সাহায্য।” তার কথায় স্থানীয়দের আর্থিক ও শারীরিক কষ্টের বাস্তব চিত্র ফুটে ওঠে।
বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, শীতের মৌসুমে এই ধরনের মানবিক সহায়তা দুর্বল গোষ্ঠীর জন্য অপরিহার্য। তারা ভবিষ্যতে আরও বেশি পরিবারকে সমর্থন দেওয়ার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও এনজিওদের সঙ্গে সমন্বয় করে কম্বল, গরম কাপড় ও খাবার বিতরণ চালিয়ে যাওয়া হবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে গাইবান্ধার বহু পরিবার শীতের কষ্ট থেকে সাময়িক মুক্তি পেয়েছে। কম্বল বিতরণ শুধু শারীরিক উষ্ণতা নয়, বরং সামাজিক সংহতি ও পারস্পরিক সহায়তার বার্তা বহন করে। স্থানীয় মানুষদের কৃতজ্ঞতা ও আশাবাদ ভবিষ্যতে এমন মানবিক প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট করে।
শীতের কঠিন সময়ে গাইবান্ধার বাসিন্দাদের জন্য এই ধরনের সহায়তা অপরিহার্য, এবং রংপুর রাইডার্স ও সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের যৌথ প্রচেষ্টা স্থানীয় সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যায়। সম্প্রদায়ের সমর্থন ও ধারাবাহিক উদ্যোগই শীতের কষ্টকে কমিয়ে, মানুষের জীবনের মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



