বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ৩ জানুয়ারি সিলেটে তার প্রথম আঞ্চলিক অফিসের দরজা খুলে দিল, যা দেশের ক্রিকেটকে বিকেন্দ্রীকরণ ও গ্রাসরুট উন্নয়নের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অফিসটি সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের অফিসের মধ্যে নির্ধারিত একটি স্থান থেকে পরিচালিত হবে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত পরিসরে কাজ করবে।
প্রাথমিক অবকাঠামোতে হেড অফ ক্রিকেটের জন্য একটি কক্ষ, পরামর্শদাতাদের জন্য একটি ছোট লাউঞ্জ এবং বিভাগীয় ও জেলা কোচদের জন্য একটি মিটিং রুম অন্তর্ভুক্ত থাকবে; অধিকাংশ তাত্ক্ষণিক চাহিদা বিদ্যমান সুবিধা দিয়ে পূরণ করা হবে।
কর্মী নিয়োগ ধীরে ধীরে হবে; অফিসে হিসাব, প্রশাসন, লজিস্টিক এবং গেম ডেভেলপমেন্টের কাজ সামলাতে চার থেকে পাঁচজন কর্মীকে বিসিবি পেরোলের আওতায় যুক্ত করা হবে।
প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সিলেটের হেড অফ ক্রিকেটের নিয়োগের জন্য একটি সংবাদপত্র বিজ্ঞাপন আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
নিয়োগের মানদণ্ডে শক্তিশালী ক্রিকেট জ্ঞান, বিশেষত প্রাক্তন খেলোয়াড়ের অভিজ্ঞতা, পাশাপাশি নেতৃত্ব, শাসন, ব্যবস্থাপনা এবং যোগাযোগ দক্ষতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল গ্রাসরুট স্তরে বছরের পর বছর ক্রিকেট কার্যক্রমকে একসাথে সংহত করা, যাতে খেলোয়াড়দের ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত হয়।
অফিসের নাম রাখা হয়েছে ‘রিজিওনাল ক্রিকেট সেন্টার’, যার কাঠামো অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং ভারতের মতো দেশগুলোর সফল মডেল থেকে অনুপ্রাণিত।
এর মাধ্যমে গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকাশের পথে রাখা হবে, যাতে তারা পর্যাপ্ত সুযোগ না পেয়ে বাদ না পড়ে।
বসন্ত ও বর্ষাকালের দীর্ঘ মেঘলা সময়কেও মাথায় রেখে, সিলেটের এই কেন্দ্রটি মৌসুমী বাধা অতিক্রম করে সর্বদা প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে।
বিসিবি আশা করে যে, আঞ্চলিক অফিসের স্থাপন ও ধীরে ধীরে কর্মী বৃদ্ধি দেশের ক্রিকেটের ভিত্তি শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও প্রতিভা উপস্থাপন করবে।
এই নতুন কাঠামো সিলেটের স্থানীয় ক্রিকেটের উত্থানকে ত্বরান্বিত করবে এবং দেশের সামগ্রিক ক্রীড়া নীতিতে একটি মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত হবে।



