শক্তি ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফৌজুল কবির খান গতকাল গৃহমন্ত্রকের অধীনে অনুষ্ঠিত সরকারী ক্রয় পরামর্শক পরিষদের বৈঠকে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক এলপিজি সিলিন্ডার ঘাটতি ও দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সরবরাহের ঘাটতি থেকে নয়।
উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের এলপিজি ব্যবসার প্রায় ৯৮ শতাংশই বেসরকারি সংস্থা পরিচালনা করে, আর সরকারী অংশ প্রায় দুই শতাংশই। তাই সরবরাহের কোনো বড় বাধা সরকারী দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।
উপদেষ্টা আরও ব্যাখ্যা করেন, দামের তীব্র উত্থান ও সাময়িক ঘাটতি মূলত পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের সমন্বিত জালিয়াতি ও পরিকল্পিত কৌশলের ফল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই পরিস্থিতি কোনো স্বাভাবিক বাজারের পরিবর্তন নয়, বরং কৌশলগতভাবে গঠিত।
সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী, গত মাসের তুলনায় এলপিজি আমদানি পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সরবরাহের ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, “আমদানি দিক থেকে কোনো সংকটের কারণ নেই,” এবং উল্লেখ করেন যে কিছু বিক্রেতা সাম্প্রতিক বর্ণিত মূল্য সমন্বয়ের পর উচ্চ মূল্যের প্রত্যাশায় সরবরাহ আটকে রেখেছেন।
দাম বৃদ্ধি ৫০ টাকার বেশি সিলিন্ডার ভিত্তিতে ঘটেছে, যা ভোক্তাদের উপর অতিরিক্ত বোঝা সৃষ্টি করেছে। উপদেষ্টা বলেন, এই অতিরিক্ত মূল্য বৃদ্ধি মূলত বাজারে জোটবদ্ধ বিক্রেতাদের দ্বারা গৃহীত কৌশল। তিনি এ বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেন, “এটি স্বাভাবিক বাজারের গতি নয়, বরং সমন্বিত জালিয়াতি।”
বাজারের স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য সরকার দেশব্যাপী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জেলা পর্যায়ে মোবাইল কোর্ট স্থাপন করে হোর্ডিং, জোরপূর্বক বন্ধ এবং কৃত্রিম সরবরাহ ব্যাঘাত রোধে তদবির করা হচ্ছে।
ক্যাবিনেট সেক্রেটারির নির্দেশে জেলা প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে, যাতে কোনো বিক্রেতা অবৈধভাবে সিলিন্ডার সংরক্ষণ বা দামের অতিরিক্ত বৃদ্ধি না করতে পারে।
এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করা এবং বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ-চাহিদার ভারসাম্য বজায় রাখা। সরকারী তদারকি অব্যাহত থাকবে, এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে ভবিষ্যতে এমন জালিয়াতি পুনরাবৃত্তি না হয়।
অতএব, বর্তমান পরিস্থিতিতে এলপিজি সরবরাহে কোনো উল্লেখযোগ্য ঘাটতি নেই, এবং দামের অস্বাভাবিক উত্থান মূলত বাজারের অভ্যন্তরীণ জালিয়াতি থেকে উদ্ভূত। ভোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল সরকারী তদবিরের প্রতি নজর রাখা এবং কোনো অনিয়মের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো।
এলপিজি বাজারের এই অস্থিরতা ব্যবসা ও গৃহস্থালী উভয়ের জন্যই চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে গৃহস্থালী ব্যবহারকারীরা অতিরিক্ত খরচের মুখোমুখি হচ্ছেন, যা গৃহস্থালী বাজেটের উপর চাপ বাড়াচ্ছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, যদি বাজারে জালিয়াতি নিয়ন্ত্রণ না করা হয়, তবে দামের উত্থান আরও তীব্র হতে পারে এবং ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাবে। তাই সরকারী তদবিরের কার্যকারিতা এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
অবশেষে, উল্লেখ করা দরকার যে, নিহত মুসাব্বীর, যিনি ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, তার মৃত্যু সম্প্রতি ঘটেছে। তার অবদান ও স্মৃতি সমাজে সম্মানিত থাকবে।



