27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাফিফা যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা অভিযানে শাস্তি না নেওয়ার সম্ভাবনা

ফিফা যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা অভিযানে শাস্তি না নেওয়ার সম্ভাবনা

ফিফা (FIFA) যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা ওপর সামরিক অভিযানকে নিয়ে কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলের শাসন সংস্থা তার বিধিবিধানের সীমার মধ্যে থেকে, রাষ্ট্রের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে হস্তক্ষেপ না করার নীতি অনুসরণ করে।

ফিফার সংবিধানে এমন কোনো ধারা নেই যা কোনো দেশ অন্য দেশে আক্রমণ করলে বা বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে আটক করলে সরাসরি শাস্তি আরোপের অনুমতি দেয়। সংস্থার শাস্তি কেবল তার সদস্য সংস্থাগুলোর ওপরই প্রযোজ্য, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল সমিতি (US Soccer) যদি কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করে তবে শাস্তি হতে পারে, তবে রাষ্ট্রের ওপর নয়।

সংবিধানের ধারা ৩-এ উল্লেখ আছে যে ফিফা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকারকে সম্মান করতে এবং সুরক্ষিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এই ধারাটি মানবাধিকার রক্ষার জন্য নীতি নির্দেশ করে, সরাসরি সামরিক আক্রমণ বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের জন্য শাস্তি আরোপের ভিত্তি নয়। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে সদস্য সংস্থার স্থগিতাদেশের বিধান (ধারা ১৬ ও ১৯) কেবল ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রমে প্রযোজ্য, জাতীয় সরকারের ওপর নয়।

ফিফার শৃঙ্খলাবদ্ধ কোডেও অন্য দেশের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ধারা নেই। কোডের পরিসর ক্রীড়া-সংক্রান্ত বৈষম্য, প্রতিযোগিতা বিধিলঙ্ঘন ইত্যাদিতে সীমাবদ্ধ, যা রাষ্ট্রের নীতি বা সামরিক কার্যক্রমকে নিয়ন্ত্রণ করে না।

রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সময় ফিফা কিছু শাস্তি আরোপ করলেও, তা আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর অধীনে এবং স্পষ্টভাবে সংবিধানের নির্দিষ্ট ধারা অনুযায়ী করা হয়েছিল। ভেনেজুয়েলা ক্ষেত্রে, ফিফা সংবিধানে রাশিয়ার মতোই কোনো বিধান না থাকায়, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর একই রকম শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা কম।

এদিকে, ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে গতি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো একত্রে আয়োজক দেশ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে এবং টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নেবে। এই পরিবর্তন বিশ্বকাপকে সর্ববৃহৎ দর্শকসংখ্যার প্রতিযোগিতায় পরিণত করেছে।

টিকিটের চাহিদা ইতিমধ্যে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে; ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত বিক্রয় ডেটা অনুযায়ী, টিকিটের চাহিদা পূর্বের কোনো টুর্নামেন্টের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এই উচ্চ চাহিদা বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক আকর্ষণকে আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং আয়োজক দেশগুলোকে বিশাল আর্থিক সুবিধা দেবে।

বিশ্বকাপের বিজয়ী দলকে পুরস্কার হিসেবে ৬০০ কোটি টাকা প্রদান করা হবে, যা পূর্বের টুর্নামেন্টের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এই অর্থের বড় অংশ টুর্নামেন্টের আয়, টেলিভিশন অধিকার এবং স্পনসরশিপ থেকে আসবে, এবং এটি অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়নে পুনঃবিনিয়োগের সুযোগ দেবে।

ফিফা যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা অভিযানে শাস্তি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত, যদিও রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত, সংস্থার আইনগত কাঠামো এবং শাসন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সংস্থার শৃঙ্খলা কোড এবং সংবিধান স্পষ্টভাবে ক্রীড়া সংস্থার আচরণ নিয়ন্ত্রণে মনোযোগ দেয়, রাষ্ট্রের সামরিক বা রাজনৈতিক নীতি নয়। ফলে, যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল সমিতি যদি কোনো ক্রীড়া-সংক্রান্ত লঙ্ঘন না করে, তবে ফিফা থেকে কোনো শাস্তি প্রত্যাশা করা কঠিন।

বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এবং টিকিটের বিশাল চাহিদা দেখিয়ে দেয় যে, ফুটবলের বাণিজ্যিক দিক এখনো রাজনৈতিক বিবাদকে ছাপিয়ে গেছে। আয়োজক দেশগুলোকে বিশাল আর্থিক দায়িত্ব এবং সুবিধা উভয়ই রয়েছে, এবং এই দায়িত্বের মধ্যে ফিফা সংস্থার নীতি মেনে চলা অন্তর্ভুক্ত।

সারসংক্ষেপে, ফিফা যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলা অভিযানে শাস্তি না নেওয়ার সম্ভাবনা বেশি, কারণ সংবিধানে এমন কোনো বিধান নেই যা রাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডকে শাস্তি আরোপের ভিত্তি করে। একই সঙ্গে, ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এবং টিকিটের রেকর্ড চাহিদা ফুটবলের বাণিজ্যিক ও ক্রীড়া দিকের গুরুত্বকে পুনরায় জোরদার করেছে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments