বার্সেলোনা স্পেনীয় সুপার কাপের সেমি-ফাইনালে সৌদি আরবের জেদ্দার কিং আবদুল্লাহ স্পোর্টস সিটিতে অ্যাথলেটিক বিলবাওকে ৫-০ পার্থক্যে পরাজিত করে ফাইনালের পথে অগ্রসর হয়েছে। রাফিনহা দু’বার নেটের জাল ছুঁড়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন, ফলে বার্সেলোনার শিরোপা যাত্রা আরও দৃঢ় হয়।
ম্যাচের সূচনা থেকেই বার্সেলোনার আধিপত্য স্পষ্ট ছিল। হ্যান্সি ফ্লিকের দল লামিন ইয়ামালকে বেঞ্চে রেখে খেললেও, তরুণ তারকা কোনো বাধা না দিয়ে দলকে সহজে জয়ী করতে সাহায্য করে। এই জয় দিয়ে বার্সেলোনা এখন পর্যন্ত সব প্রতিযোগিতায় নয়টি ধারাবাহিক জয় রেকর্ড করেছে।
প্রথম গোলটি ২২তম মিনিটে ফের্রান টোরেসের দায়িত্বে আসে। ফার্মিন লোপেজের শট ভুলভাবে গিয়ে টোরেসের পায়ের কাছে পড়ে, এবং তিনি তা সহজে গলে নেন। এরপর রাফিনহা দ্রুতই লোপেজকে পাস দেন, যিনি শটটি শীর্ষ কোণে গিয়ে দ্বিতীয় গোলের সঞ্চার করেন।
রাফিনহা ম্যাচের পর সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর জন্য সর্বদা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং নিজেকে সর্বোচ্চ বলে কখনোই দাবি করবেন না। তিনি যোগ করেন, “আমি সর্বোচ্চ স্তরে থাকতে চাই, এবং আমি কখনো বলব না যে আমি সর্বোচ্চে আছি।” তার এই মনোভাব দলকে প্রায় নিখুঁত সিজনের দিকে ধাবিত করতে সহায়তা করবে।
বার্সেলোনার জয় দিয়ে দলটি রিয়াল মাদ্রিদ ও আটলেটিকো মাদ্রিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে, যা রবিবারের ফাইনালে নির্ধারিত। উভয় দলই বৃহস্পতিবারের ম্যাচে মুখোমুখি হবে, এবং বিজয়ী বার্সেলোনার পরবর্তী প্রতিপক্ষ হবে।
ফ্লিকের কৌশলগত পরিবর্তনেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তিনি লামিন ইয়ামালকে বেঞ্চে রেখে তরুণদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছেন, তবু দলটি কোনো সমস্যায় পড়েনি। এই সিদ্ধান্তের ফলে বার্সেলোনার আক্রমণাত্মক ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ভেঙে দেয়।
অন্যদিকে, অ্যাথলেটিক বিলবাও এই মৌসুমে কঠিন সময় পার করছে। তাদের দুর্বল পারফরম্যান্সের ফলে রাফিনহার দু’গোল এবং টোরেসের শুরুর গোলের সামনে তারা কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। দলটি এখন পর্যন্ত ধারাবাহিক পরাজয়ের মুখে, যা তাদের ভবিষ্যৎ ম্যাচে চাপ বাড়িয়ে দেবে।
তৃতীয় গোলটি সুইডিশ উইং রুনি বার্ডগিজির দায়িত্বে আসে। অ্যাথলেটিকের গোলকিপার উনাই সিমনের ভুলে তিনি নিজের দেহের নিচে থাকা লো শটটি ভুলভাবে হ্যান্ডল করেন, ফলে বলটি নেটের মধ্যে গিয়ে স্কোর বাড়ায়। এই গোলটি বার্সেলোনার আধিপত্যকে আরও দৃঢ় করে।
বার্সেলোনার পরবর্তী চ্যালেঞ্জ স্পেনীয় সুপার কাপের চূড়ান্ত ম্যাচে অপেক্ষা করছে। রিয়াল মাদ্রিদ বা আটলেটিকো মাদ্রিদ যেই জয়ী হোক না কেন, বার্সেলোনার লক্ষ্য শিরোপা জয় নিশ্চিত করা এবং ফ্লিকের অধীনে আরও বড় সাফল্য অর্জন করা। দলটি এখন পর্যন্ত ধারাবাহিক জয় এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ফাইনালে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে।



