নতুন বছরের প্রথম দিকে দুইজন মিডিয়া সম্পাদক চাকরি হারিয়ে, নিজের ক্যারিয়ারকে পুনর্গঠন করার প্রক্রিয়া শেয়ার করেছেন। উভয়েই কাঠামোগত পরিবর্তনের ফলে পদত্যাগের মুখোমুখি হন এবং প্রথমে এটি শেষের মতো অনুভব করেন।
কৃতিত্বপূর্ণ কাজের প্রতি তাদের নিবেদন ও প্রতিষ্ঠানের মূল্যবোধের প্রতি বিশ্বাস ছিল দৃঢ়, তবে চাকরি শেষ হলে সেই মূল্যবোধের অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই অভিজ্ঞতা থেকে তারা “ফায়ার্ড” শব্দটি ব্যবহার করে নিজের পরিস্থিতি স্বীকার করার সিদ্ধান্ত নেন।
চাকরি হারানোর পর সত্যিকারের স্বীকারোক্তি ও খোলামেলা আলোচনা দ্রুত পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে, এটাই তাদের মূল বার্তা। যত দ্রুত সত্যকে মুখোমুখি করা হবে, তত দ্রুত নতুন দিকনির্দেশে অগ্রসর হওয়া সম্ভব।
আজ তারা দুজনই নতুন ভূমিকা গ্রহণ করেছেন; একজন নিজস্ব মিডিয়া সংস্থা চালাচ্ছেন, আর অন্যজন সথবিসের ম্যাগাজিনের প্রধান সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন। এই সাফল্য দেখায় যে চাকরি হারানো শেষ নয়, বরং নতুন সুযোগের সূচনা হতে পারে।
চাকরি পরিবর্তন বা নতুন ক্যারিয়ার অনুসন্ধানকারী ব্যক্তিদের জন্য চারটি মূল কৌশল প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথম ধাপ হল নতুন চাকরি খোঁজার আগে অতীত বছরের কাজের অভিজ্ঞতা ও অর্জনগুলো পুনর্বিবেচনা করা।
এই পর্যায়ে নিজের কাজের কোন দিকগুলোতে বেশি আনন্দ পান, কোনগুলোতে ক্লান্তি অনুভব করেন তা নির্ণয় করা গুরুত্বপূর্ণ। যা আপনাকে উদ্দীপনা দেয় এবং যা আপনার শক্তি শোষণ করে, সেগুলো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করলে পরবর্তী পদক্ষেপ সহজ হয়।
সফলতার উদাহরণগুলোকে থিম অনুযায়ী বিশ্লেষণ করলে নিজের শক্তির মূল ক্ষেত্রগুলো প্রকাশ পায়। সাম্প্রতিক মাসের ফলাফলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের প্যাটার্ন দেখলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে পক্ষপাত কমে।
কাজের স্থানীয়তা নির্ধারণ করাও অপরিহার্য। কাজের সময়, সামাজিক ও পারিবারিক জীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্য কতটা, তা নিয়ে স্বচ্ছ হওয়া উচিত। কাজের পরিমাণ ও গুণমানের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করলে জীবনের সামগ্রিক মান উন্নত হয়।
চাকরি হারানোর পর নিজের পরিচয়কে কাজের সঙ্গে সীমাবদ্ধ না করে, ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ও আগ্রহের ভিত্তিতে নতুন দিকনির্দেশ গড়ে তোলা যায়। কাজের বাইরে থাকা সম্পর্ক ও শখগুলোকে পুনরায় গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনার জন্য ছোট ছোট পদক্ষেপ নেওয়া কার্যকর। উদাহরণস্বরূপ, একজন উদ্যোক্তা সাত বছর ধরে কর্পোরেট কাজ থেকে নিজের ব্যবসা পূর্ণ সময়ে চালু করার জন্য পরিকল্পনা করেছেন। এই ধাপ-ধাপ পদ্ধতি ঝুঁকি কমায় এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
সারসংক্ষেপে, নিজের অভিজ্ঞতা পুনরায় মূল্যায়ন, কাজের আনন্দ ও ক্লান্তি চিহ্নিত করা, কাজের জীবনের ভারসাম্য নির্ধারণ এবং ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে বড় রূপান্তর অর্জন করা সম্ভব। এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে নতুন চাকরি বা ক্যারিয়ার গঠনে আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
আপনার বর্তমান কাজের কোন দিকটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি প্রেরণা দেয়, আর কোন দিকটি আপনার শক্তি শোষণ করে? এই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে আজই আপনার ক্যারিয়ার পরিকল্পনা শুরু করুন।



