যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার গুস্তাভো পেট্রো, কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমন্ত্রণটি আসে এমন এক সময়ে, যখন ট্রাম্প কয়েক দিন আগে পেট্রোকে মাদক পাচার সংক্রান্ত অভিযোগে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়ে সতর্ক করেছিলেন। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের পেছনে ভেনেজুয়েলায় নিকোলাস মাদুরোকে উৎখাত করার পরের সামরিক অভিযান এবং দক্ষিণ আমেরিকায় মার্কিন প্রভাব বাড়ানোর ইচ্ছা উল্লেখযোগ্য।
ইউএস ফোর্সেস শনিবার ভোরে ক্যারাকাসে আক্রমণ চালিয়ে সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করে মাদুরোর সরকারকে দুর্বল করার চেষ্টা করে। এই আক্রমণটি ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদ নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ট্রাম্পের প্রশাসন এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার রক্ষার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
৩ জানুয়ারি ট্রাম্প পেট্রোকে সরাসরি সতর্ক করে বলেন, “তোমার পেছনে নজর রাখছি”—এটি মাদক পাচার সংক্রান্ত অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর পেট্রোকে এবং তার পরিবারকে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। তবে ট্রাম্প কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি যে পেট্রো মাদক ব্যবসায় জড়িত।
রবিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্পের বক্তৃতায় কলম্বিয়ার প্রতি একই রকম সামরিক হুমকি পুনরায় উল্লেখ করা হয়। তিনি বলেছিলেন, যদি পরিস্থিতি প্রয়োজনীয় হয় তবে কলম্বিয়ার ওপরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। এই মন্তব্যের পর পেট্রো সোমবার প্রকাশ্যে জানান, তিনি এমন হুমকির মুখে অস্ত্র তোলার প্রস্তুতি নিতে পারেন।
বুধবার পেট্রো এবং ট্রাম্পের মধ্যে প্রথম ফোন কলটি অনুষ্ঠিত হয়, যা ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের পরের প্রথম সরাসরি সংযোগ। কলের সময় পেট্রো মাদক সমস্যার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান অন্যান্য বিরোধের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। ট্রাম্পের অফিসিয়াল পোস্টে তিনি পেট্রোর কলের স্বর ও মনোভাবকে প্রশংসা করে, শীঘ্রই হোয়াইট হাউসে সাক্ষাৎ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি পেট্রোর কলের টোনকে প্রশংসা করেছেন এবং শীঘ্রই হোয়াইট হাউসে সাক্ষাৎ করার পরিকল্পনা করছেন। তবে সাক্ষাতের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। এই আমন্ত্রণটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, কারণ এটি দুই দেশের সম্পর্কের নতুন মোড় নির্দেশ করে।
পেট্রো কলম্বিয়ার বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ আহ্বান জানান, যেখানে তিনি ট্রাম্পের হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী র্যালি আয়োজনের পরিকল্পনা করেন। র্যালিতে তিনি উপস্থিত হয়ে হোয়াইট হাউসে নির্ধারিত সাক্ষাতের প্রস্তুতি সম্পর্কে মন্তব্য করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মুখে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেন।
কলম্বিয়ার উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাউরিসি জারামিলো এএফপির সঙ্গে সাক্ষাতে উল্লেখ করেন, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ পুরো ল্যাটিন আমেরিকায় একটি বিপর্যয়কর প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি এই ধরনের হস্তক্ষেপকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখেন।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপগুলো এখনও অনিশ্চিত। ট্রাম্পের আমন্ত্রণের ফলে দুই দেশের শীর্ষকর্তা হোয়াইট হাউসে কখনও না কখনও সাক্ষাৎ করবেন, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পুনর্গঠন বা নতুন উত্তেজনার সূচনা হতে পারে। পেট্রোর র্যালি ও প্রতিবাদগুলো দেশের অভ্যন্তরে সরকারের নীতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিতর্ককে তীব্র করে তুলবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে, এই সাক্ষাতের ফলাফল ল্যাটিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের পুনর্মূল্যায়নকে প্রভাবিত করতে পারে।
উল্লেখযোগ্য যে, ট্রাম্পের সামরিক হুমকি এবং পেট্রোর প্রতিক্রিয়া উভয়ই রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবে বাস্তবিকভাবে এই দ্বন্দ্বের সমাধান নির্ভর করবে পরবর্তী আলোচনার স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক বিশ্বাসের পুনর্গঠনের উপর। ভবিষ্যতে হোয়াইট হাউসে নির্ধারিত সাক্ষাতের তারিখ ও এজেন্ডা প্রকাশিত হলে, উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারণে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



