রিয়েলিটি টেলিভিশন শোতে পরিচিত স্পেন্সার প্র্যাট, ৪২ বছর বয়সী, লস এঞ্জেলেসের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি প্যালিসেডস অগ্নিকাণ্ডের এক বছরের স্মরণে অনুষ্ঠিত “They Let Us Burn” প্রতিবাদে এই ঘোষণা দেন, যেখানে শহরের অগ্নিকাণ্ডের পরিণতি নিয়ে বাসিন্দারা সমবেত হয়েছিলেন। প্র্যাটের লক্ষ্য হল শহরের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে উন্মোচন করা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশোধনের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া।
প্রতিবাদটি ৭ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে প্যাসিফিক প্যালিসেডসে শুরু হওয়া প্যালিসেডস ফায়ার এবং তার পরের দিনই ইটন ফায়ার ঘটনার এক বছরের স্মরণে অনুষ্ঠিত হয়। প্যালিসেডস ফায়ার সমৃদ্ধ উপকূলীয় পাড়া ধ্বংস করে, আর ইটন ফায়ার শহরের অন্য পাশে ছড়িয়ে পড়ে। দুটো আগুনের ফলে মোট ৩১ জনের মৃত্যু হয় এবং ১৬,০০০টিরও বেশি বাড়ি ও ব্যবসা ধ্বংস হয়।
প্র্যাট তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ক্যাম্পেইন ফরম পূরণ করার ছবি শেয়ার করেন, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম নিবন্ধন হয়নি। তিনি সমাবেশে উল্লেখ করেন যে, লস এঞ্জেলেসে বর্তমান অবস্থা আর কোনো পরিবর্তন না আনার মানে শহরের জন্য মৃত্যুদণ্ডের সমতুল্য, এবং তিনি আর অপেক্ষা করতে চান না। তিনি তার প্রচারণাকে “একটি মিশন” হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখানে তিনি শহরের রাজনৈতিক অন্ধকার কোণগুলোতে প্রবেশ করে সঠিকতা ও স্বচ্ছতা আনতে চান।
স্পেন্সার প্র্যাট এবং তার স্ত্রী হেইডি মন্টাগ, যাঁর সঙ্গে তিনি ২০০৮ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন, প্যালিসেডস ফায়ারে তাদের বাড়ি হারিয়েছেন। এই ব্যক্তিগত ক্ষতি তাদেরকে শহরের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র সমালোচক করে তুলেছে। প্র্যাট কেরেন বাস, লস এঞ্জেলেসের মেয়র, এবং গ্যাভিন নিউসম, ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নরের প্রতি তাদের পদক্ষেপের সমালোচনা প্রকাশ করেছেন, যদিও উভয় পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্র্যাটের রাজনৈতিক পটভূমি সীমিত; তিনি প্রথমবারের মতো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা একটি ব্যস্ত তালিকায় রয়েছে, যেখানে বহু অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও স্থানীয় নেতা অংশগ্রহণ করবেন। জুনে অনুষ্ঠিত অ-দলীয় মেয়র নির্বাচনে তার জয় অর্জনের সম্ভাবনা কম বলে অনুমান করা হচ্ছে, তবে তিনি জনমত গঠনে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতে সক্ষম হতে পারেন।
প্র্যাটের জনপ্রিয়তা মূলত ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি এমটিভি চ্যানেলের “দ্য হিলস” শো থেকে শুরু হয়, যেখানে তিনি এবং হেইডি মন্টাগের সম্পর্ক কেন্দ্রীয় কাহিনীর অংশ ছিল। দম্পতি পরবর্তীতে “I’m a Celebrity…Get Me Out of Here” এবং যুক্তরাজ্যের “Celebrity Big Brother”-এ অংশগ্রহণ করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করেন। তাদের দুই সন্তান রয়েছে এবং পরিবারিক জীবনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মিডিয়া কভারেজ হয়েছে।
প্রার্থীর ঘোষণা লস এঞ্জেলেসের রাজনৈতিক দৃশ্যে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে। যদিও তিনি অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ নন, তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং মিডিয়া উপস্থিতি তাকে কিছু ভোটারদের দৃষ্টিতে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। তবে, শহরের প্রশাসনিক কাঠামো ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে তার সমালোচনা এবং প্রস্তাবিত সংস্কারগুলি বাস্তবায়নের জন্য তাকে ব্যাপক সমর্থন ও কৌশলগত পরিকল্পনা প্রয়োজন হবে।
ভবিষ্যতে, প্র্যাটের ক্যাম্পেইন কীভাবে বিকশিত হবে এবং তিনি কীভাবে শহরের মূল সমস্যাগুলোর সমাধানে প্রস্তাব দেবেন, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ হবে। লস এঞ্জেলেসের নাগরিকরা এখনো তার নীতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে পারেনি, তবে তার উপস্থিতি নির্বাচনী আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে, লস এঞ্জেলেসের মেয়র কেরেন বাস এবং গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের অফিস থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো প্রকাশিত হয়নি। তবে, শহরের ভবিষ্যৎ নীতি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত আলোচনায় প্র্যাটের মতামত ও প্রস্তাবনা অবশ্যই বিবেচনা করা হবে। নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে, প্র্যাটের ক্যাম্পেইন কীভাবে ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে এবং তার মিশনকে বাস্তবায়নযোগ্য নীতিতে রূপান্তরিত করবে, তা নির্ধারণ করবে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।



