নতুন যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য নির্দেশিকা ৭ জানুয়ারি হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস ও কৃষি বিভাগ প্রকাশ করেছে, যা দেশের খাদ্য নীতি পুনর্গঠন করে।
নতুন নির্দেশিকায় খাবারের পিরামিড উল্টো ত্রিভুজের রূপে উপস্থাপিত, যেখানে মাংস, পূর্ণ‑চর্বিযুক্ত দুগ্ধ, অলিভ তেল ও শাকসবজি শীর্ষে এবং শস্য ও ফলের স্থান নিচে। এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার ও সম্পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুগ্ধকে অগ্রাধিকার দেওয়া, একই সঙ্গে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও পরিশোধিত শস্যের ব্যবহার কমানো।
স্যাচুরেটেড ফ্যাটের গ্রহণ সীমা পূর্বের মতোই মোট ক্যালোরির ১০ শতাংশের বেশি না হওয়ার শর্ত বজায় রাখা হয়েছে, যা হৃদরোগ, স্থূলতা ও টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায় বলে জানা যায়। নতুন নির্দেশিকায় অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবারকে দীর্ঘস্থায়ী রোগের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, ফলে সেগুলোর গ্রহণ কমাতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
১৯৮০ সাল থেকে প্রথমবারের মতো অ্যালকোহল সেবনের দৈনিক সীমা নির্ধারণ করা হয়নি, যদিও অতিরিক্ত মদ্যপান বিভিন্ন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় বলে গবেষণা নির্দেশ করে। পূর্বের নির্দেশিকাগুলি বিশাল প্রযুক্তিগত নথি ছিল, তবে নতুন সংস্করণ মাত্র ছয় পৃষ্ঠায় সংক্ষিপ্তভাবে মূল বিষয়গুলো তুলে ধরেছে।
এই নির্দেশিকা স্কুলের খাবার, সামরিক ক্যাম্পের রেশন এবং ফেডারেল খাদ্য সহায়তা প্রোগ্রামের মেনু নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পুষ্টি ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বিশিষ্ট একাডেমিক বিশেষজ্ঞরা নতুন নির্দেশিকাকে “৪০ বছরের পুরনো পদ্ধতি উল্টে দেয়া” হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন, যা খাদ্যাভ্যাসে মৌলিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, প্রোটিন ও পূর্ণ‑চর্বিযুক্ত দুগ্ধের ওপর জোর দেওয়া মানে শাকসবজি, বাদাম ও বীজের সঙ্গে সমন্বিত একটি সুষম খাবার পরিকল্পনা গড়ে তোলা। একই সঙ্গে শস্যের পরিমাণ কমিয়ে ফলের অংশও হ্রাস করা হয়েছে, যা কার্বোহাইড্রেটের অতিরিক্ত গ্রহণ সীমিত করতে সহায়ক।
নতুন পিরামিডে অলিভ তেলকে প্রধান চর্বি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটের উৎস এবং হৃদয় স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে বিবেচিত। নির্দেশিকায় উল্লেখ আছে, অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন রেডি‑টু‑ইট মিৎস, স্ন্যাকস ও মিষ্টি পণ্যগুলোতে উচ্চমাত্রার লবণ, চিনি ও কৃত্রিম উপাদান থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে।
হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেসের মুখ্য কর্মকর্তা বলেছেন, নতুন নির্দেশিকায় বিজ্ঞানভিত্তিক প্রমাণকে ভিত্তি করে খাবারের গুণগত মান উন্নত করার লক্ষ্য রয়েছে। USDA‑র প্রতিনিধিও উল্লেখ করেছেন, ফেডারেল খাদ্য সহায়তা প্রোগ্রামগুলোতে এই নতুন মানদণ্ড অনুসরণ করে গ্রাহকদের স্বাস্থ্যকর পছন্দে সহায়তা করা হবে।
নতুন নির্দেশিকায় উল্লেখযোগ্য যে, শাকসবজি ও ফলের পরিমাণ এখনও গুরুত্বপূর্ণ, তবে তাদের স্থান পিরামিডের নিচে স্থানান্তরিত হয়েছে, যা পরিমাণের চেয়ে গুণগত মানের ওপর জোর দেয়। এই পরিবর্তনগুলোকে নিয়ে কিছু পুষ্টিবিদ সতর্কতা প্রকাশ করেছেন, যে শস্য ও ফলের যথাযথ গ্রহণ বাদ দিলে পুষ্টি ঘাটতি হতে পারে, তাই সুষম খাবার পরিকল্পনা অপরিহার্য।
সামগ্রিকভাবে, নতুন নির্দেশিকা স্বাস্থ্যকর ও টেকসই খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার জন্য প্রোটিন, পূর্ণ‑চর্বিযুক্ত দুগ্ধ ও শাকসবজির সমন্বয়কে মূল ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছে। এই নীতিমালা আগামী বছরগুলোতে স্কুলের ক্যাফেটেরিয়া, সামরিক রেস্তোরাঁ এবং ফেডারেল সহায়তা প্রোগ্রামের মেনুতে ধীরে ধীরে প্রতিফলিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাঠকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যে, নতুন নির্দেশিকায় উল্লেখিত নীতিগুলোকে দৈনন্দিন খাবারে অন্তর্ভুক্ত করে সুষম ও বৈচিত্র্যময় খাবার গ্রহণ করা উচিত। শেষ পর্যন্ত, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখতে পুষ্টিকর খাবার নির্বাচন, অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার সীমিত করা এবং শারীরিক কার্যকলাপের সঙ্গে সমন্বয় করা জরুরি।



