গুগল ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারা ক্যাম্পাসে অবস্থিত কোয়ান্টাম AI ল্যাবের সর্বাধুনিক কোয়ান্টাম কম্পিউটার উইলোর অভ্যন্তরীণ অবস্থা সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। এই মেশিনটি তেল পাত্রের সমান আকারের গোলাকার ডিস্কের সমষ্টি, যা শত শত কালো কন্ট্রোল তারের মাধ্যমে সংযুক্ত এবং একটি ব্রোঞ্জ রঙের তরল হেলিয়াম শীতলকরণ সিস্টেমে নিমজ্জিত। শীতলকরণ ব্যবস্থা মাইক্রোচিপকে শূন্যের এক হাজার ভাগ ডিগ্রি উপরে রাখে, যা কোয়ান্টাম গেটের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য।
উইলোতে কোনো স্ক্রিন, কিবোর্ড, হোলোগ্রাফিক হেডসেট বা মস্তিষ্ক-সিগন্যাল পড়ার যন্ত্র নেই; এর নকশা সম্পূর্ণভাবে শারীরিক হার্ডওয়্যারের উপর নির্ভরশীল। কাঠামোটি ১৯৮০-এর দশকের বৈদ্যুতিক যন্ত্রের স্মৃতি জাগিয়ে দেয়, ধাতব ও তারের জেলিফিশের মতো দেখায়, তবে এর সম্ভাব্য প্রয়োগ ক্ষেত্র আধুনিক প্রযুক্তির শীর্ষে।
গুগলের কোয়ান্টাম প্রধান হার্টমুট নেভেনের নেতৃত্বে এই ল্যাবটি কোয়ান্টাম তত্ত্বকে ব্যবহারিক কম্পিউটিংয়ে রূপান্তর করার লক্ষ্যে কাজ করছে। নেভেনের মতে, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এমন সমস্যার সমাধান দিতে পারে যা প্রচলিত সুপারকম্পিউটারের ক্ষমতার বাইরে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য উইলোকে বিশ্বের সর্বোচ্চ পারফরম্যান্সের কোয়ান্টাম চিপ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।
উইলোর নকশা ও উৎপাদন প্রক্রিয়া কঠোর গোপনীয়তা ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের অধীনে পরিচালিত হয়। ল্যাবের প্রবেশদ্বার উচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা দিয়ে সজ্জিত, এবং গবেষণার কিছু অংশ ভিডিও রেকর্ড করা নিষিদ্ধ। কারণ, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং প্রযুক্তি আর্থিক নিরাপত্তা, ক্রিপ্টোকারেন্সি (বিশেষ করে বিটকয়েন), সরকারী গোপনীয়তা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এই ধরনের উচ্চ ক্ষমতার কোয়ান্টাম মেশিনের প্রতিটি উপাদান—ডিস্কের জ্যামিতি, তারের বিন্যাস, শীতলকরণ তরলের গুণমান—বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তৈরি করতে পারে। তাই গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এই প্রযুক্তি নিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার এই ল্যাবের পরিবেশে প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার মিশ্রণ দেখা যায়; নেভেনের পোশাকের স্টাইল এবং সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহ ল্যাবের উদ্ভাবনী মনোভাবকে প্রতিফলিত করে। যদিও এই দিকগুলো সরাসরি প্রযুক্তিগত নয়, তবে গবেষকদের কাজের পরিবেশে সৃজনশীলতা ও স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিশাল। যদি উইলো সফলভাবে স্কেলযোগ্য এবং স্থিতিশীল কোয়ান্টাম চিপ উৎপাদন করতে পারে, তবে জটিল সিমুলেশন, অপ্টিমাইজেশন, ক্রিপ্টোগ্রাফিক নিরাপত্তা এবং বড় ডেটা বিশ্লেষণে বিপ্লব ঘটতে পারে। বিশেষ করে আর্থিক সেক্টরে ঝুঁকি বিশ্লেষণ ও পোর্টফোলিও অপ্টিমাইজেশন দ্রুততর হবে, এবং সরকারী গোপনীয়তা রক্ষায় নতুন এনক্রিপশন পদ্ধতি উদ্ভব হবে।
গুগলের এই উদ্যোগ কোয়ান্টাম গবেষণার আন্তর্জাতিক দৌড়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। যদিও প্রযুক্তিটি এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে, তবে উইলোর নকশা ও কর্মক্ষমতা ভবিষ্যতে কোয়ান্টাম কম্পিউটিংকে বাণিজ্যিক ও শিল্পিক ব্যবহারে নিয়ে যাওয়ার ভিত্তি স্থাপন করবে।
সারসংক্ষেপে, গুগলের সান্তা বারবারা ল্যাবের উইলো কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সর্বশেষ সংস্করণ, যা শূন্যের কাছাকাছি তাপমাত্রায় কাজ করে এবং উচ্চ নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের অধীনে বিকশিত হচ্ছে। এর সম্ভাব্য প্রয়োগ আর্থিক, নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিপ্লবী পরিবর্তন আনতে পারে, যা ২১শ শতাব্দীর শেষের দিকে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার দিক নির্ধারণ করবে।



