যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র সম্প্রতি নতুন পুষ্টি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছেন, যা পাঁচ বছর পরপর কৃষি বিভাগ ও স্বাস্থ্য ও মানব সেবা বিভাগের সমন্বয়ে প্রকাশিত হয়। এই নির্দেশিকায় আমেরিকানদেরকে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ বাড়াতে এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও যোগ করা চিনি কমাতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
নতুন নীতিমালায় পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুগ্ধ পণ্যকে দৈনিক তিন সার্ভিং গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা পূর্বের কম চর্বি বা চর্বি-মুক্ত দুগ্ধের তুলনায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। একই সঙ্গে অ্যালকোহল সেবনের সীমা নিয়ে পূর্বের নির্দিষ্ট পরিমাণ (মহিলার জন্য এক গ্লাস, পুরুষের জন্য দুই গ্লাস) বাদ দিয়ে, সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য কম পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তবে নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
দিকনির্দেশনা অনুযায়ী, প্রোটিন, পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুগ্ধ, ফাইবার সমৃদ্ধ সম্পূর্ণ শস্য, ফল ও শাকসবজি গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, আর চিনি ও উচ্চ প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাকস যেমন চিপস, কুকি, ক্যান্ডি ইত্যাদি এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। তেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে অলিভ অয়েলকে প্রধান বিকল্প হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে গরুর চর্বি (বিফ ট্যালো)কেও বিকল্প হিসেবে অনুমোদন করা হয়েছে, যদিও এতে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেশি।
এই নতুন নির্দেশিকা ফেডারেল পুষ্টি প্রোগ্রাম, বিশেষ করে স্কুলের খাবার পরিকল্পনা, গঠনে মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। প্রকাশের পর বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। কিছু চিকিৎসা সংস্থা, যেমন আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন, পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুগ্ধ ও প্রোটিনের ওপর জোরকে স্বাগত জানিয়েছে, তবে অ্যালকোহল ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটের নতুন অনুমোদন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
কেনেডি জুনিয়র সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন যে, তার মূল বার্তা হল “প্রাকৃতিক খাবার গ্রহণ করুন”; অর্থাৎ প্রক্রিয়াজাত নয় এমন, তাজা ও পুষ্টিকর খাবারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, নতুন নির্দেশিকায় উল্লেখিত পরিবর্তনগুলো দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়ক হতে পারে।
অ্যালকোহল সেবন সম্পর্কে নতুন নীতি বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য সতর্কতা নির্দেশ করে। গর্ভবতী নারী, অ্যালকোহল নির্ভরতা থেকে সেরে ওঠা ব্যক্তিরা, অথবা এমন ওষুধ গ্রহণকারী যাদের জন্য অ্যালকোহল বিপরীত প্রভাব ফেলতে পারে, তাদেরকে সম্পূর্ণভাবে অ্যালকোহল পরিহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, নতুন পুষ্টি নির্দেশিকায় প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ানো, পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুগ্ধের গ্রহণ বাড়ানো, এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অতিরিক্ত চিনি কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। যদিও কিছু বিশেষজ্ঞের মতে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের অনুমোদন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে, অন্যদিকে পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুগ্ধের পুষ্টিগুণের স্বীকৃতি পাওয়া গেছে।
এই পরিবর্তনগুলো ভবিষ্যতে স্কুলের খাবার মেনু, ফেডারেল খাদ্য সহায়তা প্রোগ্রাম এবং সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন খাবার নির্বাচনে কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে। তবে বর্তমান নির্দেশিকায় উল্লেখিত মূল নীতি হল প্রাকৃতিক, কম প্রক্রিয়াজাত খাবারকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনকে উৎসাহিত করা।
পাঠক হিসেবে আপনি কি আপনার দৈনন্দিন খাবারে প্রোটিন ও পূর্ণ চর্বিযুক্ত দুগ্ধের পরিমাণ বাড়াতে প্রস্তুত? আপনার মতামত ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন, যাতে আমরা একসাথে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে পারি।



