27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধমিনিয়াপোলিসের উপশহরে আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী নারী নিহত

মিনিয়াপোলিসের উপশহরে আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী নারী নিহত

মিনেসোটা রাজ্যের সর্ববৃহৎ শহর মিনিয়াপোলিসের পার্শ্ববর্তী একটি আবাসিক এলাকায় বুধবার গুলিবর্ষণ ঘটেছে। গুলির লক্ষ্য ছিল ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তারা, এবং গুলির ফলে ৩৭ বছর বয়সী এক নারী প্রাণ হারিয়েছেন। ঘটনাটি অভিবাসনবিরোধী বৃহৎ অভিযানকে বিরোধিতা করা প্রতিবাদে সংঘটিত হয়।

প্রতিবাদটি অভিবাসী নীতি কঠোর করার পরিকল্পনা নিয়ে গৃহীত এক সিরিজের কর্মসূচির বিরোধে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। অংশগ্রহণকারীরা শহরের বিভিন্ন পাড়া থেকে সমবেত হয়ে আইসিই কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ও কার্যক্রমের বিরোধিতা প্রকাশ করে। গুলিবর্ষণটি সেই প্রতিবাদে উত্তেজনা বাড়ার মুহূর্তে ঘটেছে, তবে গুলির সঠিক সময় ও অবস্থান এখনও তদন্তাধীন।

মৃত্যুবার্তা পাওয়া গৃহীত নারীর নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হয়নি, তবে স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী তার বয়স ৩৭ বছর। তার পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে, যা প্রয়োজনে পরিবার ও নিকটজনদের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য করা হয়েছে। মৃতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে শহরের মেয়র জ্যাকব ফ্রের অফিসে, যেখানে তিনি এই তথ্য প্রকাশের দায়িত্ব নিয়েছেন।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মুখপাত্র ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন গুলির পরিণামে নারীকে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, গুলির সময় ওই নারী আইসিই কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করেন এবং তার গাড়িকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন। এই বিবরণে তিনি ঘটনাটিকে “অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড” বলে অভিহিত করেছেন।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েমও একই শব্দ ব্যবহার করে গুলিটিকে দেশীয় সন্ত্রাসের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মন্ত্রীর মন্তব্যে তিনি আইসিই কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন এবং গুলিবর্ষণকে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরুতর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রি এই অভিযোগগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আইসিই কর্মকর্তারা গুলিবর্ষণের সময় অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছেন এবং তা নাগরিকদের নিরাপত্তা হুমকির দিকে নিয়ে গেছে। মেয়র আরও উল্লেখ করেন যে, গুলির ফলে শহরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে এবং অনধিকৃত প্রাণহানি ঘটেছে।

স্থানীয় পুলিশ ও ফেডারেল তদন্তকারী সংস্থা ঘটনাস্থলে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। গুলির সময় গৃহীত ভিডিও রেকর্ডিং, গুলি-ধ্বংসের চিহ্ন এবং গাড়ির অবস্থানসহ বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। আইসিই কর্মকর্তার পরিচয় ও গুলির সঠিক কারণ নির্ধারণের জন্য ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালু রয়েছে।

আইসিই কর্মকর্তার গুলিবর্ষণকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের বিবৃতি পারস্পরিক বিরোধপূর্ণ হওয়ায় আইনগত প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে যাওয়া প্রত্যাশিত। যদি গুলিবর্ষণটি স্ব-রক্ষা বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে হয়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, যদি গুলিবর্ষণটি অযৌক্তিকভাবে ঘটায়, তবে তা নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের দিক থেকে তদন্তের বিষয় হবে।

ফেডারেল বিচার বিভাগ গুলিবর্ষণের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ দায়েরের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। অভিযোগের ধরণে গুলিবর্ষণ, আত্মরক্ষা, এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে দায়বদ্ধতা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। আদালতকে গুলিবর্ষণের সব দিক—প্রতিবাদ, গাড়ি ব্যবহার, এবং গুলির সঠিক সময়—পর্যালোচনা করতে হবে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষ উভয়ই নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি নাগরিকদের অধিকার রক্ষার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। গুলিবর্ষণটি অভিবাসন নীতি নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে কঠোর নীতি প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments