বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি এবং পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় পটুয়াখালী বাউফল উপজেলার ১ নম্বর ওয়ার্ডে বাউফল পৌর জামায়াতের আয়োজিত শহীদ শরীফ ওসমান হাদি স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন।
সভায় তিনি উল্লেখ করেন, ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে যদি নিজের প্রাণ দান করতে হয়, তবে তা স্বীকার করতে তিনি প্রস্তুত। এই বক্তব্যের পেছনে তিনি শহীদ শরীফ ওসমান হাদির ত্যাগকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ইসলামের জন্য আত্মত্যাগের চেয়ে বড় কোনো কাজ নেই; যদি কেউ ন্যায়ের পথে দাঁড়ায়, তবে কোনো শক্তি তার সামনে দাঁড়াতে পারবে না। তিনি যুক্তি দেন, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি যদিও বড় কোনো পদে ছিলেন না, তবু তার ত্যাগের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ অনুপ্রাণিত হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শরীফ ওসমান হাদি ৩২ বছর বয়সে তার জীবন উৎসর্গ করে দেশের জন্য একটি শক্তিশালী উদাহরণ রেখে গেছেন। তার ত্যাগের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার কাজের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়, বয়স, দল বা পদ নয়।
ভোটাধিকার সংক্রান্ত বর্তমান উদ্বেগের দিকে ইঙ্গিত করে, শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, কিছু সময়ে শোনা যায় যে মহিলাদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া হতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি যেন ন্যায়ের জন্য নিজের জীবন দিয়েছেন, তেমনি তিনি মহিলাদের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য নিজের জীবন দান করতে প্রস্তুত।
শহীদ ওসমান হাদির ত্যাগের কথা স্মরণ করে, তিনি উল্লেখ করেন, হাদি তার শত্রুর সাথেও ন্যায়বিচার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তাই যারা মহিলাদের হুমকি দেয়, তাদের সাথেও ন্যায়ের পথে চলা উচিত, এটাই তার দৃষ্টিভঙ্গি।
শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, যারা শহীদদের স্মরণে ত্যাগের ইচ্ছা রাখে, তাদের এককে হত্যা করা যায়, তবে তাদের ত্যাগের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ জন্ম নেয়। তিনি সতর্ক করেন, যদি কেউ বাউফলে অন্যায়ের প্রতিবাদ থামাতে চায়, তবে আরও বেশি মানুষ তার বিরোধে উঠে দাঁড়াবে।
তিনি সরকারের কাছে শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। বিচার না হওয়া পর্যন্ত চলমান আন্দোলনের পূর্ণ সমর্থন বজায় রাখবেন, এ কথাও তিনি স্পষ্ট করেন।
শফিকুল ইসলাম মাসুদের এই বক্তব্যের পেছনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট রয়েছে; তিনি আসন্ন নির্বাচনের আগে ভোটাধিকার সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে জনমত গঠন করতে চান। তার উক্তি বিশেষ করে নারীদের ভোটদানের অধিকার নিয়ে আলোচনাকে তীব্র করে তুলতে পারে।
বাউফল উপজেলা জামায়াতে ইসলামী শাখা এই সভায় শফিকুলের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে, ভোটাধিকার রক্ষায় সকল ধরণের বাধা দূর করার আহ্বান জানায়। তারা উল্লেখ করে, ন্যায়বিচার না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
শফিকুল ইসলাম মাসুদের এই প্রকাশনা স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভোটারদের মধ্যে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তার বক্তব্যের মাধ্যমে ভোটাধিকার সংক্রান্ত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান হবে।
সামগ্রিকভাবে, শফিকুলের উক্তি ভোটাধিকার রক্ষার জন্য ত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ন্যায়বিচার ও সমতা বজায় রাখার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



