জামায়াত‑ই‑ইসলামি প্রার্থী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মানীর সাম্প্রতিক সম্পদ ঘোষণায় দেখা যায়, তিনি সুনামগঞ্জ‑২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং তার মোট সম্পদ ১.১২ কোটি টাকা, যা তার স্ত্রীর ৩.৭৭ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ত্রিগুণ কম। এই তথ্যগুলো তার নির্বাচনী সময়ে দাখিল করা অ্যাফিডেভিট থেকে নেওয়া হয়েছে, যেখানে সম্পদ, আয় ও করের বিশদ উল্লেখ রয়েছে।
শিশির মানীর মোট সম্পদ ১.১২ কোটি টাকা, আর তার স্ত্রী সুমাইয়া রশিদ রায়হান, যিনি বেসরকারি সেবা কর্মী, তার সম্পদ ৩.৭৭ কোটি টাকা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। উভয়ের সম্পদে নগদ, ব্যাংক জমা, সঞ্চয় সনদ, স্বর্ণ ও অন্যান্য চলমান সম্পদ অন্তর্ভুক্ত।
গত আর্থিক বছরে শিশির মানীর আইনগত চর্চা থেকে প্রায় ৫২ লাখ টাকা আয় হয়েছে এবং তিনি ১১.৪৩ লাখ টাকা কর প্রদান করেছেন। একই সময়ে সুমাইয়া রাশিদ রায়হান ৮৯.২৭ লাখ টাকার বেশি আয় করে ১৯.৮২ লাখ টাকা কর পরিশোধ করেছেন।
সুমাইয়া রাশিদ রায়হানের বার্ষিক বেতন প্রায় ৬৫ লাখ টাকা, যা তার বেসরকারি চাকরি থেকে আসে। অন্যদিকে শিশির মানীর ব্যাংক ডিভিডেন্ড ৯৬,৫৯৩ টাকা, আর তার স্ত্রীর ডিভিডেন্ড ২০.৮৭ লাখ টাকা হয়েছে।
নগদ রূপে শিশির মানীর হাতে ৯.৫২ লাখ টাকা, আর সুমাইয়ার হাতে ৯.৯৪ লাখ টাকা রয়েছে। তবে ব্যাংক জমা ক্ষেত্রে পার্থক্য স্পষ্ট: শিশিরের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মাত্র ২,৩০০ টাকা, যেখানে সুমাইয়া ৩৮.২৬ লাখ টাকা সঞ্চয় রেখেছেন।
সুমাইয়া রাশিদ রায়হান সঞ্চয় সনদ ও ফিক্সড ডিপোজিটে ৯১.৯০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন, যা তার মোট সম্পদের একটি বড় অংশ গঠন করে।
স্বর্ণসম্পদে শিশির মানীর ২৫ ভোরি স্বর্ণ গহনা রয়েছে, যা তিনি উপহার হিসেবে পেয়েছেন। তার স্ত্রীর স্বর্ণ গহনার মূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা হিসেবে ঘোষিত হয়েছে।
চলমান সম্পদের মোট মূল্য বিবেচনা করলে শিশির মানীর সম্পদ প্রায় ৫১ লাখ টাকা, আর সুমাইয়ার সম্পদ ১.৯৫ কোটি টাকা। এই পার্থক্য উভয়ের আর্থিক অবস্থার বৈষম্যকে স্পষ্ট করে।
অস্থাবর সম্পদে শিশির মানীর কোনো সম্পত্তি না থাকলেও, তার কর রিটার্নে ৭.৫৫ লাখ টাকার সম্পত্তি রয়েছে বলে প্রকাশ পেয়েছে। অন্যদিকে সুমাইয়া প্রায় দুই একর অ-কৃষি জমি মালিক, যার মূল্য ১.৮১ কোটি টাকা।
অ্যাফিডেভিট অনুযায়ী উভয়ের কোনো ঋণ বা দায়বদ্ধতা নেই। তবে শিশির মানীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের হয়েছে; একটি তদন্তাধীন এবং অন্যটি হাই কোর্টের আদেশে স্থগিত রয়েছে।
এই সম্পদ প্রকাশের পর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বামী-স্ত্রীর সম্পদ পার্থক্য ও সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্যের স্বচ্ছতা ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে এই তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিপক্ষের দলগুলো সম্পদ যাচাইয়ের দাবি বাড়াতে পারে, যা নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করবে।



