লন্ডনের ক্রিস্টাল প্যালেসে অনুষ্ঠিত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে, ফুলহ্যাম ২-১ স্কোরে চেলসিকে পরাজিত করে। হ্যারি উইলসনের গৌরবময় গোল এবং মার্ক কুকুরেলার প্রারম্ভিক লাল কার্ডই ম্যাচের মূল মোড় নির্ধারণ করে। এই জয়টি চেলসির নতুন প্রধান কোচ লিয়াম রোজেনিয়রের জন্য কঠিন সূচনা হিসেবে রয়ে যায়।
ম্যাচের শুরুর মাত্রই চেলসির ডিফেন্সে বড় ধাক্কা লাগে; মার্ক কুকুরেলা ৩২তম মিনিটে লাল কার্ড পেয়ে মাঠ থেকে বহিষ্কৃত হয়। তার বদলে দলটি দশজন খেলোয়াড়ে খেলা শুরু করে, যা তাদের গঠনগত শৃঙ্খলা ও রক্ষণাত্মক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করে। কুকুরেলার বহিষ্কারের পর চেলসির মাঝখানে চাপ বাড়ে, তবে তারা তা সামলাতে পারে না।
ফুলহ্যামের আক্রমণাত্মক খেলোয়াড় হ্যারি উইলসন ৭৫তম মিনিটে গুরুত্বপূর্ণ গোল করেন, যা শেষ স্কোরকে ২-১ করে। উইলসনের শটটি গলপোস্টের নিচে গিয়ে নেটের মধ্যে ঢুকে যায়, ফলে চেলসির সমান করার সুযোগ শেষ হয়ে যায়। এই গোলটি ফুলহ্যামের জয়কে নিশ্চিত করে এবং কুকুরেলার বহিষ্কারের পর চেলসির দুর্বলতা প্রকাশ করে।
চেলসির নতুন প্রধান কোচ লিয়াম রোজেনিয়র ম্যাচের সময় ডিরেক্টরস বক্সে বসে দলের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করেন। রোজেনিয়রের পূর্বে ফুফহ্যামের ডান ব্যাক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে দলের দুর্বল দিকগুলো দ্রুত শনাক্ত করতে সহায়তা করে। কোচের সহ-নিয়ন্ত্রক বেহদাদ এঘবালি সঙ্গে বসে তিনি রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলা ও শৃঙ্খলার অভাব নিয়ে আলোচনা করেন।
ম্যাচের আগে চেলসির অস্থায়ী হেড কোচ ক্যালাম ম্যাকফার্লেনের সিদ্ধান্তে দলটি ব্যাপক রোটেশন করে। অ্যান্ড্রে সান্তোসকে মিডফিল্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং লিয়াম ডেলাপের আক্রমণাত্মক বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যদিও কিছু মুহূর্তে চেলসির খেলায় উজ্জ্বলতা দেখা যায়, তবে রোটেশন ও অনুপস্থিতি দলকে সামগ্রিকভাবে অস্থির করে তুলেছে।
ফুলহ্যাম ডিফেন্সে পাঁচজন খেলোয়াড়ের ব্যাকলাইন গঠন করে, যা লিভারপুলের সঙ্গে ড্রের সময়ও ব্যবহার করা হয়েছিল। এই পদ্ধতি তাদেরকে চেলসির আক্রমণকে সীমাবদ্ধ করতে সাহায্য করে, যদিও ১৮তম মিনিটে সান্তোসের হেডারটি পোস্টে আঘাত করে এবং মোইসেস ক্যাসেডোর রিবাউন্ড শটটি বর্ন্ড লেনোর চমৎকার সেভে থেমে যায়।
ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে ফুলহ্যামের শারীরিকতা ও কঠোর ট্যাকল চেলসির খেলোয়াড়দের মানসিকতা পরীক্ষা করে। স্যান্ডার বার্জে মিডফিল্ডে তীব্রতা বাড়িয়ে দলের গতি নিয়ন্ত্রণ করে, আর কুকুরেলার বহিষ্কারের পর চেলসির শৃঙ্খলা ভেঙে যায়। এই পরিস্থিতি রোজেনিয়রের জন্য একটি সতর্কবার্তা, যেহেতু তিনি দলকে শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস পুনর্গঠন করতে চান।
পরবর্তী সপ্তাহে চেলসির সূচিতে ম্যানচেস্টার সিটি এবং আরেকটি গৃহস্থলীয় ম্যাচ রয়েছে, যেখানে রোজেনিয়র তার কৌশলগত পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করবেন। একই সঙ্গে ফুলহ্যাম তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, যা তাদের জয়ী ধারাকে বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ হবে। উভয় দলই এই ফলাফল থেকে শিখে নিজেদের পারফরম্যান্স উন্নত করার চেষ্টা করবে।



