ব্রেন্টফোর্ডের ঘরে অনুষ্ঠিত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে ব্রেন্টফোর্ড দু’গোলের ব্যবধানে সানডারল্যান্ডকে পরাজিত করে। থিয়াগো দু’বার গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যায়, আর সানডারল্যান্ডের এনজো লে ফে পেনাল্টি থেকে কাওহিন কেলেহারের দিকে প্যানেঙ্কা শৈলীতে শট মিস করে।
ব্রেন্টফোর্ডের প্রধান কোচ কীথ অ্যান্ড্রুজের অধীনে দলটি ধারাবাহিকভাবে আক্রমণাত্মক খেলা দেখিয়েছে। প্রথমার্ধের শুরুর মুহূর্তেই থিয়াগোর গোলের ফলে সানডারল্যান্ডের সমতা অর্জনের সুযোগ কমে যায়। এরপর সানডারল্যান্ডের গোলরক্ষক রবিন রোয়েস একটি কীভিন শ্যাডের শটকে চমৎকারভাবে রক্ষা করে, যা দু’দলই আক্রমণাত্মক মনোভাব বজায় রাখে।
সানডারল্যান্ডের কোচ রেজিস লে ব্রিসের দলটি আফ্রিকা কাপ অফ নেশনসের কারণে ছয়জন খেলোয়াড় হারিয়ে কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়। তবে টুর্নামেন্টের পর চারজন খেলোয়াড় ফিরে এসেছে, যা দলের রক্ষণশক্তিতে কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়। ড্যান ব্যালার্ডের আঘাত থেকে ফিরে আসা এবং মাইকেল কায়োডের লম্বা থ্রো সানডারল্যান্ডের আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ব্রেন্টফোর্ডের আক্রমণকে সমর্থন করে থিয়াগোর পাশাপাশি টিম ফ্র্যাঙ্কের সঙ্গে নতুন বছরের পুনর্মিলনও দলকে আত্মবিশ্বাসী করেছে। টিম ফ্র্যাঙ্কের সঙ্গে গৃহযুদ্ধে ব্রেন্টফোর্ড চারটি গোল করে, যা টটেনহ্যামবির সঙ্গে শূন্য-শূন্যের ম্যাচের পর ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।
সানডারল্যান্ডের আক্রমণে ব্রায়ান ব্রোবি উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, তবে প্রথমার্ধে তার শটটি গোলের বদলে পাশের দিকে গিয়ে শেষ হয়। থিয়াগো প্রথমে দুইবার শটের সুযোগ পায়, প্রথমে ম্যাথিয়াস জেনসেনের পাসে দেরি হয়, আর দ্বিতীয়বার রোয়েসের চতুর সেভে থেমে যায়। এরপর ক্রিস্টোফার আজার জেনসেনের ফ্রি-কিককে হিল দিয়ে বাধা দেয়, যা সানডারল্যান্ডকে প্রথম ৩০ মিনিটে চাপের মধ্যে রাখে।
মধ্যমাঠে ভিটালি জ্যানেল্ট নর্ডি মুকিয়েলের কাছ থেকে বল জিততে সফল হয় এবং তার সঠিক পাসের মাধ্যমে দলকে আক্রমণাত্মক সুযোগ তৈরি করে। জ্যানেল্টের সঠিক ওজনের পাস সানডারল্যান্ডের রক্ষণকে অস্থির করে, যদিও শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি মিসের পর সানডারল্যান্ডের আক্রমণ তীব্রতা হারায়।
সানডারল্যান্ডের ভক্তরা ৬০০ মাইলের দীর্ঘ যাত্রা করে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়, এবং পুরো ম্যাচ জুড়ে তাদের চিৎকার শোনা যায়। তবে ব্রেন্টফোর্ডের ধারাবাহিক আক্রমণ এবং থিয়াগোর দু’গোলের ফলে সানডারল্যান্ডের চাপ বাড়ে এবং শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি মিসের পর দলটি সমানভাবে ফিরে আসে না।
পরবর্তী ম্যাচে ব্রেন্টফোর্ডের সূচিতে টটেনহ্যামবির সঙ্গে পুনরায় মুখোমুখি হওয়া রয়েছে, যেখানে দলটি ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার স্বপ্নকে আরও দৃঢ় করতে চায়। সানডারল্যান্ডের পরবর্তী প্রতিপক্ষের সঙ্গে ম্যাচে দলটি আবার রোস্টারকে শক্তিশালী করতে এবং পেনাল্টি মিসের পরের মানসিকতা পুনর্গঠন করতে চায়।
ব্রেন্টফোর্ডের এই জয় দলকে শীর্ষে উঠতে সাহায্য করবে, আর সানডারল্যান্ডের জন্য পেনাল্টি মিসের পর পুনরুদ্ধার করা এবং আফ্রিকা কাপের পর ফিরে আসা খেলোয়াড়দের সমন্বয় করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।



