মার্সিয়া রড, টনি মনোনীত আমেরিকান অভিনেত্রী, ২৭ ডিসেম্বর তার পরিবার জানিয়ে শেষ শ্বাস ত্যাগ করেন। ৮৭ বছর বয়সে তিনি এই পৃথিবী ছেড়ে গেছেন। তার মৃত্যু সংবাদ শিল্প জগতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
রডের প্রথম প্রেম ছিল মঞ্চ, যেখানে তিনি ১৯৬৯ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত নিউইয়র্কের ব্রডওয়ে মঞ্চে নিল সিমনের “লাস্ট অব দ্য রেড হট লাভার্স” নাটকে ববি চরিত্রে অভিনয় করেন। ববি ছিলেন গাঁজা ধূমপানকারী তরুণী, যার সঙ্গে লিন্ডা লাভিন, জেমস কোকো ও ডোরিস রবার্টসের পারফরম্যান্স সমন্বিত ছিল। এই নাটকের দীর্ঘায়ু এবং রডের উজ্জ্বল উপস্থিতি তাকে মঞ্চের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্রে পরিণত করে।
১৯৭৩ সালে রডকে টনি পুরস্কারের সেরা নারী অভিনেত্রী (সঙ্গীত) বিভাগে মনোনয়ন করা হয়, যখন তিনি অস্টিন পেন্ডলটনের পরিচালনায় “শেল্টার” নাটকে বিচ্ছিন্ন স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেন। যদিও তিনি গ্লিনিস জনসের “এ লিটল নাইট মিউজিক” পারফরম্যান্সের সামনে হারের মুখে পড়েন, এই মনোনয়ন তার ক্যারিয়ারের শীর্ষে পৌঁছানোর সূচক ছিল।
১৯৭১ সালের জুলস ফেইফার রচিত কালো কমেডি “লিটল মার্ডার্স” এ রড অ্যালান আরকিনের পরিচালনায় প্যাটসি নিউকুইস্টের চরিত্রে অভিনয় করেন। প্যাটসি ছিলেন নিউ ইয়র্কের এক অভিজাত অভ্যন্তরীণ ডিজাইনার, যার পরিবারে ভিনসেন্ট গার্ডেনিয়া, এলিজাবেথ উইলসন ও জন কর্কেসের মতো বিশিষ্ট অভিনেতা ছিলেন। ছবিতে তিনি এলিয়ট গুল্ডের সঙ্গে রোমান্টিক সংযোগ গড়ে তোলেন, যখন গুল্ডের চরিত্রটি হুমকির মুখে থাকে। এই ভূমিকায় রডের তীক্ষ্ণ অভিনয় এবং চরিত্রের জটিলতা দর্শকদের মুগ্ধ করে।
মার্চ ১৯৭২-এ “অল ইন দ্য ফ্যামিলি” সিরিজের দ্বিতীয় সিজনের শেষ পর্বে রড ক্যারোল ফাইন্ডলে নামের চরিত্রে উপস্থিত হন, যা নরম্যান লিয়ারের নতুন শো “মড” এর পাইলট হিসেবে কাজ করে। ক্যারোলের বিবাহের দৃশ্যটি টাকাহো, নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তিনি পূর্বের বিবাহের সন্তানসহ একটি ইহুদি পুরুষের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এই পর্বটি পরে “মড” সিরিজের সূচনা বিন্দু হয়ে ওঠে, যদিও রড সিরিজে ধারাবাহিকভাবে অংশ নিতে অনিচ্ছুক ছিলেন।
সেপ্টেম্বর মাসে যখন “মড” টেলিভিশন সিরিজ হিসেবে চালু হয়, তখন ক্যারোলের ভূমিকা অ্যাড্রিয়েন বারবোর কাছে হস্তান্তর করা হয়। রডের টিভি সিরিজে দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি না নেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে এই পরিবর্তন ঘটে। তবে তিনি পরে টেলিভিশনের দিকে ফিরে আসেন, যখন ১৯৭৬ সালে নরম্যান লিয়ার তৈরি করা সিটকম “দ্য ডাম্পলিংস” এ গেরাল্ডিন ব্রুকসের চরিত্রের বোনের ভূমিকায় অভিনয় করেন। এই শোটি মাত্র এগারোটি পর্বের পরই বন্ধ হয়ে যায়, তবে রডের টিভি জগতে পুনরায় উপস্থিতি তার বহুমুখিতা প্রকাশ করে।
এরপর রড আবার নরম্যান লিয়ারের আরেকটি কমেডি প্রকল্পে অংশ নেন, যেখানে তিনি এবিসি চ্যানেলের “১৩ কুইন্স বুলেভার্ড” সিরিজে ইলিন ব্রেনানের চরিত্রের সেরা বন্ধু ও প্রতিবেশী হিসেবে কাজ করেন। এই সিরিজে তার চরিত্রটি শহুরে জীবনের রঙিন দিকগুলোকে তুলে ধরে, এবং রডের স্বাভাবিক হাস্যরস ও মানবিক স্পর্শ দর্শকদের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠে।
মার্সিয়া রডের ক্যারিয়ার নাটক, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জুড়ে বিস্তৃত, যেখানে তিনি প্রতিটি মাধ্যমেই নিজস্ব ছাপ রেখে গেছেন। তার অভিনয়শৈলী, চরিত্রের গভীরতা এবং মঞ্চের প্রতি অটল ভালোবাসা তাকে শিল্পের একটি অমলিন নক্ষত্রে পরিণত করেছে। মৃত্যুর পরেও তার কাজগুলো নতুন প্রজন্মের শিল্পী ও দর্শকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।



