গুইনেথ প্যালট্রো, দুই একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী, সম্প্রতি একটি পডকাস্টে তার ক্যারিয়ারের এক অপ্রত্যাশিত ঘটনার কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, ক্রিস মার্টিনের সঙ্গে বিচ্ছেদের পরই তাকে একটি চলচ্চিত্র থেকে বাদ দেওয়া হয়। সেই সময়ের মিডিয়া পরিবেশ কঠোর ছিল এবং তার পেশাগত জীবনে প্রভাব ফেলেছিল।
প্যালট্রো এবং মার্টিন ২০০৩ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন, ২০১৪ সালে আলাদা হন এবং ২০১৬ সালে বৈধভাবে বিবাহবিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। যদিও দুজনের সম্পর্ক শেষ হয়েছে, দুজনেই পরস্পরের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন এবং দুই সন্তানকে একসাথে লালন-পালন করছেন। প্যালট্রো উল্লেখ করেন, এখন মার্টিনকে তিনি নিজের ভাইয়ের মতোই অনুভব করেন এবং পারিবারিক বন্ধনকে নতুন রূপে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।
অভিনেত্রীর মতে, একটি নারী যখন নিজের জেনেটিক দায়িত্বের সঙ্গে কোনো পুরুষের সম্পর্ক শেষ করে, তখন তা মানসিকভাবে কঠিন হতে পারে, বিশেষ করে যদি কোনো অবশিষ্ট বিরোধ না থাকে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের পরিস্থিতিতে সম্পর্ককে নতুনভাবে গঠন করা এবং পারিবারিক পরিবেশকে পুনর্গঠন করা সম্ভব, যা উভয়ের জন্যই মানসিক স্বস্তি এনে দেয়।
গুইনেথ ২০১৯ সালে “অ্যাভেঞ্জারস: এন্ডগেম” ছবির পর থেকে অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন এবং সেই সময়ে তিনি নিজের লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড গুপের উপর মনোযোগ দেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আবার বড় পর্দায় ফিরে আসছেন। জোশ সাফডির পরিচালিত “মার্টি সুপ্রিম” ছবিতে তিনি কায় স্টোন চরিত্রে অভিনয় করছেন, যেখানে টিমোথি শ্যালামেটের সঙ্গে কাজ করছেন। এই প্রকল্পটি তার দীর্ঘদিনের বিরতির পর প্রথম প্রধান ভূমিকা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির একটি সম্মেলনে প্যালট্রো তার ফিরে আসার মুহূর্তে চোখে জল নিয়ে বলেছিলেন, শিল্প জগত তাকে আবার স্বাগত জানিয়েছে। তিনি এই স্বীকৃতিকে তার ক্যারিয়ারের পুনরুত্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখেছেন।
প্যালট্রোর এই প্রকাশনা তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের দু’টি গুরুত্বপূর্ণ দিককে একসাথে তুলে ধরেছে। একদিকে তিনি ক্রিস মার্টিনের সঙ্গে তার বিচ্ছেদের পরের মানসিক পরিবর্তন এবং পারিবারিক সম্পর্কের নতুন রূপকে ব্যাখ্যা করেছেন, অন্যদিকে তিনি তার অভিনয় জীবনের পুনরায় সূচনা এবং গুপের ব্যবসায়িক সাফল্যকে উল্লেখ করেছেন।
এই সব তথ্যের ভিত্তিতে স্পষ্ট হয় যে গুইনেথ প্যালট্রো তার অতীতের কঠিন মুহূর্তগুলোকে স্বীকার করে, তা থেকে শিখে এবং বর্তমানের সুযোগগুলোকে কাজে লাগিয়ে নিজের ক্যারিয়ারকে পুনর্নির্মাণের পথে অগ্রসর হচ্ছেন। তার গল্পটি দেখায় যে ব্যক্তিগত জীবনের পরিবর্তন এবং পেশাগত চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে মোকাবেলা করা সম্ভব, যদি সঠিক মানসিকতা এবং সমর্থন থাকে।



