বেল-এয়ার-এর এক বাড়িতে ৭৪ বছর বয়সে এন্ডি ফ্রেন্ডলি গত রবিবার নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবর তার ভাই ডেভিড ফ্রেন্ডলি, যিনি সাংবাদিকতা থেকে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রযোজনায় রূপান্তরিত হয়েছেন, জানিয়েছেন। মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করা হয়নি।
এন্ডি ফ্রেন্ডলি ৬ নভেম্বর ১৯৫১-এ জন্মগ্রহণ করেন, ঠিক সেই সপ্তাহে তার পিতা ফ্রেড ফ্রেন্ডলি ও এডওয়ার্ড আর. মারো একই সঙ্গে সিবিএসের ঐতিহাসিক ডকুমেন্টারি সিরিজ “সি ইট নাও” চালু করেন। তিনি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সাউথের্নে (ইউএসসি) পড়াশোনা শেষ করে, ২২ বছর বয়সে নিউ ইয়র্কের ডব্লিউএনবিসি-টিভিতে জুনিয়র রিসার্চার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন।
ডব্লিউএনবিসি-তে কাজ করার সময় তিনি টম স্নাইডার নামক সংবাদ উপস্থাপকের সঙ্গে পরিচিত হন। স্নাইডারের সঙ্গে কাজের সম্পর্ক গড়ে তোলার পর তিনি লেখকের পদে উন্নীত হন এবং ১৯৭০-এর দশকের শুরুর দিকে স্নাইডারের “টুমোরো শো”র প্রযোজনা দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে টেলিভিশন প্রোগ্রামিংয়ের সূক্ষ্মতা শিখিয়ে দেয়।
১৯৮১ সালে এন্টারটেইনমেন্ট টুনাইটের প্রথম প্রচার শুরু হলে ফ্রেন্ডলিকে প্রথম প্রযোজক হিসেবে নিয়োগ করা হয়। তিনি শোকে সঠিক পথে চালিত করতে মূল ভূমিকা পালন করেন, যা পরবর্তীতে দৈনিক বিনোদন সংবাদ শো হিসেবে সর্বকালের দীর্ঘতম ধারাবাহিকতা অর্জন করে। তার নেতৃত্বে শোটি দ্রুত দর্শকের মন জয় করে এবং টেলিভিশন শিল্পে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করে।
ফ্রেন্ডলির কাজের স্বীকৃতি ১৯৮২ সালে একটি এমি পুরস্কারের মনোনয়নে পরিণত হয়। যদিও তিনি পুরস্কার জিততে পারেননি, তবে এই স্বীকৃতি তার প্রযোজনার দক্ষতা ও সৃজনশীলতার প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
১৯৯০ থেকে ১৯৯৫ পর্যন্ত তিনি সিএনবিসিতে ভিপি, প্রাইমটাইম প্রোগ্রামসের দায়িত্বে ছিলেন। এই সময়ে তিনি টম স্নাইডার, টিম রুসার্ট, জেরাল্ডো রিভেরার মতো পরিচিত ব্যক্তিত্বের টক শো পরিচালনা তত্ত্বাবধান করেন। সিএনবিসি তার ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে দ্রুত বৃদ্ধি ও সৃজনশীলতা অর্জন করে, যা ফ্রেন্ডলির কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির ফল।
ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি গ্রুপের সিইও ডেভিড জাসলাভ ফ্রেন্ডলির অবদানের প্রশংসা করে বলেন, তিনি প্রতিভা চিহ্নিত করা, ধারণা লালন করা এবং দলের সর্বোত্তম পারফরম্যান্স বের করার ক্ষেত্রে অতুলনীয় ছিলেন। তিনি শুধু পেশাগত দিকেই নয়, মানবিক গুণে সমৃদ্ধ ছিলেন; তার উদারতা, হাস্যরস এবং আন্তরিকতা সহকর্মীদের মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
১৯৯৫ থেকে ২০০১ পর্যন্ত তিনি কিং ওয়ার্ল্ড প্রোডাকশনের প্রোগ্রামিং ও প্রোডাকশন প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করেন। এই পদে তিনি প্রোগ্রামিং কৌশল, বিষয়বস্তু উন্নয়ন এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধান করেন, যা শোয়ের গুণগত মান ও দর্শকসংখ্যা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। কিং ওয়ার্ল্ডের সময়কালে তার নেতৃত্বে বহু সফল সিরিজ ও সিঙ্গেল এপিসোড তৈরি হয়।
পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি ফ্রেন্ডলি তার বন্ধুত্বপূর্ণ স্বভাব ও সহানুভূতির জন্য পরিচিত ছিলেন। সহকর্মীরা তাকে উদারতা, হাস্যরস এবং হৃদয়গ্রাহী আচরণে সমৃদ্ধ একজন ব্যক্তি হিসেবে স্মরণ করে। তার উপস্থিতি কর্মস্থলে একটি ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তুলত, যেখানে সবাইকে মূল্যায়ন করা হতো।
ফ্রেন্ডলির মৃত্যুর সংবাদ তার পরিবার ও শিল্পের বহুজনকে শোকাহত করেছে। তার ভাই ডেভিড ফ্রেন্ডলি পরিবারিক সূত্রে জানান, এন্ডি তার জীবনের শেষ দিনগুলো বেল-এয়ারের শান্ত বাড়িতে কাটিয়েছেন। যদিও মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করা হয়নি, তবে তার পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে প্রাপ্ত স্মৃতিচারণা তার মানবিক গুণাবলীর প্রতিফলন ঘটায়।
এন্ডি ফ্রেন্ডলি টেলিভিশন জগতে এক অনন্য ছাপ রেখে গেছেন; তার কাজের মাধ্যমে বিনোদন সংবাদ শো এবং প্রাইমটাইম টক শোয়ের গঠনমূলক পরিবর্তন ঘটেছে। ভবিষ্যৎ প্রযোজক ও মিডিয়া পেশাজীবীরা তার উদাহরণ থেকে শিখতে পারেন কিভাবে সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব এবং মানবিকতা একসঙ্গে মিলিয়ে শিল্পকে সমৃদ্ধ করা যায়। তার স্মৃতি ও অবদান টেলিভিশন ইতিহাসে চিরস্থায়ীভাবে সংরক্ষিত থাকবে।



