আর্জেন্টিনার ফুটবলের কিংবদন্তি লিওনেল মেসি, ৩৮ বছর বয়সে ইন্টার মায়ামির সঙ্গে ২০২৮ পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও, তার পরবর্তী পদক্ষেপকে কোচিং নয়, ক্লাবের মালিকানা হিসেবে দেখছেন। মেসি সম্প্রতি একটি স্থানীয় স্ট্রিমিং চ্যানেলে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে তিনি নিজের ক্লাব গড়ে তুলতে চান এবং তরুণ খেলোয়াড়দের বিকাশের সুযোগ দিতে চান।
মেসি জানান, কোচিংয়ের চেয়ে ক্লাবের মালিকানা তার জন্য বেশি আকর্ষণীয়, কারণ এতে তিনি শূন্য থেকে শুরু করে একটি দলকে শীর্ষে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারেন। তিনি বলছেন, যদি বিকল্প বেছে নিতে হয়, তবে ক্লাবের মালিকানা তার জন্য বেশি উপযুক্ত।
ইন্টার মায়ামি ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো এমএলএস কাপ জয় করে, যেখানে মেসির নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার বর্তমান চুক্তিতে ক্লাবের ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বের ধারা রয়েছে, যা তাকে দলের মালিকানার অংশীদার করে তুলবে। এই ধারা অনুযায়ী, মেসি দলের ছোট অংশের মালিকানা পাবেন, যা তার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ভিত্তি গড়ে তুলবে।
মেসি একই সময়ে তার প্রাক্তন সহকর্মী লুইস সুয়েজারের সঙ্গে উরুগুয়েতে একটি নতুন চতুর্থ বিভাগীয় ক্লাব, ডিপোর্টিভো এলএসএম, প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন। সুয়েজার তার মাতৃভূমিতে এই ক্লাবের সূচনা করতে চেয়েছিলেন, এবং মেসি তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রকল্পে অংশ নিতে সম্মতি জানান। মেসি প্রকাশ্যে বলেন, সুয়েজারকে এই সুযোগের জন্য ধন্যবাদ জানাতে চান এবং ক্লাবের উন্নয়নে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করবেন।
মেসি এবং ইন্টার মায়ামি ২০২৬ সালের এমএলএস মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচে ২১ ফেব্রুয়ারি লস এঞ্জেলেস এফসির সঙ্গে মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচটি নতুন মৌসুমের সূচনা চিহ্নিত করবে এবং মেসির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রথম দৃশ্যপট হিসেবে বিবেচিত হবে।
মেসি তার ক্যারিয়ারে দুইবার এমএলএস এমভিপি এবং আটবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন, যা তাকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শীর্ষ খেলোয়াড় করে তুলেছে। তার এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, অর্থাৎ ক্লাবের মালিকানা এবং তরুণ প্রতিভা গড়ে তোলার ইচ্ছা, ফুটবল জগতে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
মেসি উল্লেখ করেন, ক্লাবের মালিকানা তাকে তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো এবং সুযোগ-সুবিধা তৈরি করার স্বাধীনতা দেবে। তিনি চান, ভবিষ্যতে এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলা যেখানে প্রতিভা সঠিকভাবে চিহ্নিত এবং বিকাশ পাবে।
ইন্টার মায়ামি এবং মেসির এই যৌথ পরিকল্পনা, ক্লাবের দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি স্থাপন করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। মেসির অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ক্লাবের আর্থিক এবং ক্রীড়া দিক উভয়ই শক্তিশালী হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
মেসির এই ঘোষণার পর, উরুগুয়েতে ডিপোর্টিভো এলএসএমের প্রতিষ্ঠা এবং ইন্টার মায়ামির ভবিষ্যৎ মালিকানা পরিকল্পনা উভয়ই ফুটবল প্রেমিকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। উভয় প্রকল্পই তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য নতুন সুযোগের দরজা খুলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মেসি শেষ পর্যন্ত বলেন, তার লক্ষ্য হল ফুটবলের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উন্নত পরিবেশে খেলতে সক্ষম করা। তার এই দৃষ্টিভঙ্গি, কোচিংয়ের পরিবর্তে ক্লাবের মালিকানার মাধ্যমে ফুটবলের উন্নয়নে নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করবে।



