প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস সম্প্রতি অস্কার-শর্টলিস্টেড লিভ-অ্যাকশন শর্ট ফিল্ম ‘অনুজা’তে নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে নাম যুক্ত করেছেন। চলচ্চিত্রটি ৯ বছর বয়সী অনুজার গল্প, যিনি তার বোন পলকের সঙ্গে গলিপথের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন। এই প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ও পুরস্কার ক্ষেত্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
‘অনুজা’র কাহিনী শিশুরা যে কঠিন পছন্দের মুখোমুখি হয়, তা গভীরভাবে তুলে ধরে। অনুজা ও পলক দুজনেই ছোটবেলা থেকেই পরিবারের জীবিকা রক্ষার জন্য শ্রমিকের কাজ করে, যেখানে তাদের ভবিষ্যৎ ও স্বপ্নের পথে বাধা সৃষ্টি হয়। চলচ্চিত্রটি তাদের আত্মত্যাগ ও দৃঢ়তার মুহূর্তগুলোকে সংবেদনশীলভাবে উপস্থাপন করে।
এই শর্ট ফিল্মের দায়িত্বে আছেন পরিচালক অ্যাডাম জে. গ্রেভস, যিনি বাস্তব জীবনের কাঁচা দিকগুলোকে সিনেমাটিক রূপে গড়ে তোলার জন্য পরিচিত। গ্রেভসের নেতৃত্বে ‘অনুজা’ প্রথমবারের মতো ডেডসেন্টার ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রিমিয়ার হয়, যেখানে দর্শক ও সমালোচক উভয়ই প্রশংসা জানায়।
ডেডসেন্টার ফেস্টিভ্যালে প্রাথমিক স্বীকৃতি পাওয়ার পর, ‘অনুজা’ ২০২৫ সালের একাডেমি অ্যাওয়ার্ডের লিভ-অ্যাকশন শর্ট ফিল্ম ক্যাটেগরিতে শীর্ষ তালিকায় স্থান পায়। এই স্বীকৃতি চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক মান ও সামাজিক প্রভাবকে আরও দৃঢ় করে, এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত দর্শকের কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি করে।
প্রযোজনা দলে রয়েছে সুচিত্রা মাটাই, যিনি প্রকল্পের মূল প্রযোজক হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়া সলাম বালাক ট্রাস্ট (এসবিটি) এবং শাইন গ্লোবাল নামক দুইটি স্বনামধন্য অলাভজনক সংস্থার সহযোগিতায় চলচ্চিত্রটি তৈরি হয়েছে। এসবিটি হল এমন একটি সংস্থা, যা রাস্তা ও কাজের শিশুর অধিকার রক্ষায় কাজ করে, আর শাইন গ্লোবাল বহু অস্কার জয়ী চলচ্চিত্রের পেছনে রয়েছে।
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাসের অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, এই চলচ্চিত্রটি বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ শিশুর মুখোমুখি হওয়া কঠিন সিদ্ধান্তকে আলোকিত করে। তিনি বলেন, অনুজার গল্প আমাদেরকে মানবিক পছন্দের গুরুত্ব ও তার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করতে বাধ্য করে। এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়া তার জন্য গর্বের বিষয়।
প্রিয়াঙ্কার পাশাপাশি, অস্কার বিজয়ী গুনীত মঙ্গা কাপুরও নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে কাজ করছেন। মঙ্গা কাপুরের অভিজ্ঞতা ও নেটওয়ার্ক চলচ্চিত্রের গুণগত মান ও বিতরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া মাইন্ডি কালিংও প্রযোজক হিসেবে যুক্ত, যার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রকল্পে সমৃদ্ধ পোর্টফোলিও রয়েছে।
‘অনুজা’র প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন সজদা পাথান, যিনি নিজে দিল্লির গলিপথে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা থেকে অনুজনের চরিত্রে আত্মসাত করেছেন। সজদা পাথান পূর্বে সলাম বালাক ট্রাস্টের সহায়তায় জীবনের নতুন দিক পেয়েছিলেন, যা তার অভিনয়ে স্বাভাবিকতা ও গভীরতা যোগ করেছে।
চলচ্চিত্রের পরিচালক অ্যাডাম জে. গ্রেভস প্রিয়াঙ্কার অংশগ্রহণকে নিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রিয়াঙ্কা শুধু তার আন্তর্জাতিক খ্যাতি নয়, শিশু ও মেয়েদের অধিকার রক্ষার জন্য তার সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে প্রকল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। তার সমর্থন চলচ্চিত্রের সামাজিক বার্তাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।
‘অনুজা’র মাধ্যমে শিশু শ্রম, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ গঠনের সমস্যাগুলোকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরা হবে। চলচ্চিত্রটি দর্শকদেরকে এই সমস্যাগুলোর সমাধানে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করবে, এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাজকে সমর্থন করার আহ্বান জানাবে।
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাসের এই পদক্ষেপ তার সামাজিক দায়িত্ববোধের আরেকটি উদাহরণ, যা তার গ্লোবাল আইকন অবস্থানকে আরও সমৃদ্ধ করে। তার অংশগ্রহণের ফলে ‘অনুজা’ আন্তর্জাতিক বিনোদন বাজারে আরও দৃশ্যমানতা পাবে, এবং সম্ভাব্য বিতরণ চ্যানেলগুলোতে প্রবেশের সুযোগ বাড়বে।
চলচ্চিত্রের রিলিজের তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে অস্কার শীর্ষ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় শীঘ্রই বিশ্বব্যাপী স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ও চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের সম্ভাবনা রয়েছে। দর্শকরা এই মানবিক গল্পটি বড় পর্দা ও অনলাইন মাধ্যমে উপভোগ করার অপেক্ষায় রয়েছে।
‘অনুজা’র সাফল্য ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো শিশু অধিকার সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রকল্পে তহবিল সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে উত্থাপিত আলোচনাগুলো বাস্তব নীতি পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে।
সর্বশেষে, এই প্রকল্পটি বিনোদন জগতে সামাজিক দায়িত্বের নতুন মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস, গুনীত মঙ্গা কাপুর, মাইন্ডি কালিং এবং সলাম বালাক ট্রাস্টের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ‘অনুজা’ দর্শকদেরকে মানবিক মূল্যবোধের পুনঃমূল্যায়ন করতে অনুপ্রাণিত করবে।



