বার্লিনের শীতল রাস্তায় পাঁচ দিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল, যা শীতের তাপমাত্রা শূন্যের নিচে নেমে যাওয়ার সময় ঘটেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মতে, এই বিচ্ছিন্নতা একটি সন্দেহভাজন অগ্নিকাণ্ডের ফল, যা শহরের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে ঘটেছে।
এই অন্ধকারকালটি যুদ্ধোত্তর সময়ের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। পূর্বে কোনো সমান সময়ের বিচ্ছিন্নতা নথিভুক্ত হয়নি, ফলে এটি শহরের ইতিহাসে একটি অস্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
একটি বামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী এই কাজের দায় স্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটি নিজেকে দূর-ডানপন্থী সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করে এবং এই ধরনের আক্রমণকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ বলে ব্যাখ্যা করেছে।
বিচ্ছিন্নতার ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে, জার্মানির অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত সন্ত্রাসী হুমকির প্রতি উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা এখন দেশের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর নিরাপত্তা ও দুর্বলতা নিয়ে পুনর্বিবেচনা করছেন।
শহরের স্কুল, হাসপাতাল, বৃদ্ধাশ্রমসহ দশ হাজারেরও বেশি প্রতিষ্ঠান এই অন্ধকারে আক্রান্ত হয়েছে। রোগী ও শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, তবে অনেক স্থানে সেবা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে এখনও সময় লাগবে।
স্টেগলিট্জ-জেলেনডর্ফ জেলা, মেক্সিকোপ্লাটজে একটি পুলিশ ভ্যান ট্যানয় ব্যবহার করে বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারের সময়সূচি জানিয়েছে। বাসিন্দারা এই ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করে, কখনও কখনও সরাসরি কর্মীদের কাছে সর্বশেষ তথ্য জানতে গিয়েছেন।
লেনা নামের এক পরিবার ব্যাটারি চালিত রেডিওয়ের ওপর নির্ভর করে খবর সংগ্রহ করছিল। বিদ্যুৎ না থাকায় তারা ক্যাম্পিং স্টোভে খাবার রান্না করছে এবং পানির নল জমে যাওয়া রোধে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে।
৭৯ বছর বয়সী রেইনহোল্ড এখনও বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ছিলেন এবং তার মেয়ের বাড়িতে গিয়ে উষ্ণতা পেতে চেষ্টা করছিলেন। তবু তিনি শীতের রাতে আবার নিজের বাড়িতে ফিরে ঘুমিয়ে শীতল বাতাসের সঙ্গে সামলাতে বাধ্য হচ্ছিলেন।
প্রাক্তন স্থপতি রেইনহোল্ডের শৈশবের স্মৃতি এই পরিস্থিতিতে উন্মোচিত হয়েছে। তিনি ১৯৪৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং শৈশবের সময় -২০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় তার মা ও তিনি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গরমের জন্য একে অপরের হাত ধরে রাখতেন।
বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধার ধাপে ধাপে চলছে, যা অগ্নি সেবার মুখপাত্রের মতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সম্পদ পাঠানো হয়েছে। মোট প্রায় এক লক্ষ মানুষ এই বিচ্ছিন্নতার কারণে প্রভাবিত হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
হাসপাতালগুলো জরুরি জেনারেটরের ওপর নির্ভর করে রোগীর সেবা চালিয়ে যাচ্ছে, আর কিছু স্কুলে শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে অস্থায়ী বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার রাতের দিকে, বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করার জন্য মূল কেবলগুলো মেরামত করা শুরু হয়। তবে পুরো শহরে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসতে এখনও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।



