22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধএসপির স্বামীর সঙ্গে বাসচালককে মারধর, তদন্তে ত্রিসদস্য কমিটি গঠিত

এসপির স্বামীর সঙ্গে বাসচালককে মারধর, তদন্তে ত্রিসদস্য কমিটি গঠিত

সাপাহার থেকে রাজশাহীর দিকে হিমাচল বাসে ৪ জানুয়ারি ঘটিত এক ঘটনার পর, এসপির স্বামী ও তার দেহরক্ষীসহ এসপি শ্যামলী রানি বর্মণ বাসচালককে শারীরিক হিংসা চালিয়ে অভিযোগে জড়িয়ে পড়েন। ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গে জেলা পুলিশ একটি ত্রিসদস্য অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে তদন্ত শুরু করে।

ডিস্ট্রিক্ট পুলিশ সুপারমোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম ৭ জানুয়ারি বিকেলে ‘পুলিশ মিডিয়া গ্রুপ’ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে লিখিত বিবৃতি দিয়ে জানিয়ে দেন যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) নেতৃত্বে তিনজন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দ্রুত তদন্তের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার মূল সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল প্রায় ৯ টার দিকে শ্যামলীর স্বামী, কলেজ শিক্ষক জয়ন্ত বর্মণ, সিটবিহীন টিকিট নিয়ে সাপাহার থেকে রাজশাহীর পথে হিমাচল বাসে চড়েন। দিঘার মোড়ে পৌঁছালে বাসের সুপারভাইজার সিয়াম তাঁকে নির্দিষ্ট যাত্রীর সিট ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন।

সেই মুহূর্তে জয়ন্ত নিজেকে সার্কেল এসপির স্বামী বলে পরিচয় দিয়ে সুপারভাইজারকে হুমকি দিতে শুরু করেন। তার সঙ্গে বাসচালক বাদলরাও তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং দুজনের মধ্যে কথাবার্তা বাড়ে।

ধানসুরা পৌঁছানোর পর জয়ন্ত বাস থেকে নামেন এবং চালক ও সুপারভাইজারকে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিয়ে বাস ছেড়ে দেন। তবে রাত ১০টার দিকে বাসটি আবার সাপাহারে ফিরে এলে, বাদলকে বাসস্ট্যান্ড থেকে সরাসরি সার্কেল অফিসে ডেকে নেওয়া হয়।

অফিসে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে শ্যামলী রানি বাদলের মোবাইল ফোনটি জোরে জোরে ছিনিয়ে নেন এবং শারীরিকভাবে আক্রমণ করেন। এরপর জয়ন্ত ও তার দেহরক্ষী আনন্দ বর্মণ একটি পাইপ ব্যবহার করে বাদলকে মারধর করেন, যার ফলে চালক গুরুতরভাবে আহত হন এবং অচেতন অবস্থায় পড়ে যান।

আহত চালককে তৎক্ষণাৎ কোনো হাসপাতালের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়নি; তিনি প্রাথমিকভাবে কোনো চিকিৎসা না নিয়ে বাড়িতে রেখে দেওয়া হয়। পরে, সোমবার ৫ জানুয়ারি, বাদলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) নেতৃত্বে গঠিত অনুসন্ধান কমিটি এখন পর্যন্ত সব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিবৃতি সংগ্রহ করেছে এবং প্রমাণাদি যাচাই করছে।

কমিটির প্রধানের নির্দেশে, তদন্তের ফলাফল দ্রুত উপস্থাপন করা হবে এবং প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা পুলিশ জোর দিয়ে বলেছে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কোনো কর্মকর্তা হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

এই তদন্তের অগ্রগতি এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য জেলা পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত সংস্থাগুলি পর্যবেক্ষণ করবে, যাতে জনসাধারণের আস্থা বজায় থাকে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments