গুগল ক্লাসরুমে শিক্ষকদের জন্য জেমিনি‑ভিত্তিক একটি নতুন টুল চালু হয়েছে, যা পাঠ্যবস্তুকে পডকাস্ট‑শৈলীর অডিও রূপে রূপান্তর করতে সক্ষম। এই ফিচারটি গুগল ওয়ার্কস্পেস এডুকেশন ফান্ডামেন্টালস, স্ট্যান্ডার্ড এবং প্লাস সাবস্ক্রিপশন ব্যবহারকারীদের জন্য উপলব্ধ। শিক্ষার্থীর পডকাস্ট শোনার প্রবণতা কাজে লাগিয়ে শিক্ষার গভীরতা বাড়ানোই এর মূল লক্ষ্য।
টুলটি গুগল ক্লাসরুমের মধ্যে জেমিনি ট্যাব থেকে অ্যাক্সেস করা যায়। শিক্ষকরা এই ট্যাবে ক্লিক করে সহজেই পডকাস্ট‑স্টাইলের অডিও পাঠ তৈরি করতে পারেন। টুলের ইন্টারফেসটি সরল, ফলে প্রযুক্তি-সচেতন না হলেও ব্যবহার করা সহজ।
প্রথম ধাপে শিক্ষককে পাঠের গ্রেড স্তর, বিষয়বস্তু এবং স্পষ্ট শিক্ষাগত লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হয়। এই তথ্যগুলো ইনপুট করার পর টুলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিষয়ের সাথে মানানসই স্ক্রিপ্ট তৈরি করে। ফলে শিক্ষককে দীর্ঘ সময় লিখতে হয় না, বরং কাস্টমাইজেশন অপশনগুলো দিয়ে চূড়ান্ত রূপ দিতে পারেন।
কাস্টমাইজেশন অপশনের মধ্যে রয়েছে বক্তার সংখ্যা নির্ধারণ এবং কথোপকথনের ধরন বেছে নেওয়া। শিক্ষক একক বক্তা, দুইজনের ডুয়েট অথবা ত্রয়ী রাউন্ডটেবিলের মতো ফরম্যাট বেছে নিতে পারেন। এছাড়া সাক্ষাৎকার, গোষ্ঠী আলোচনা বা স্বাভাবিক কথোপকথনের শৈলীও নির্বাচন করা সম্ভব, যা শিক্ষার্থীর পছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই ফিচারটি বর্তমানে গুগল ওয়ার্কস্পেস এডুকেশন ফান্ডামেন্টালস, স্ট্যান্ডার্ড এবং প্লাস প্ল্যানের সাবস্ক্রাইবারদের জন্য সক্রিয়। অর্থাৎ, পাবলিক বা ফ্রি ব্যবহারকারীরা এখনো এই সুবিধা পাবে না, তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যদি এই প্ল্যানগুলোর কোনো একটিতে যুক্ত থাকে তবে তারা সুবিধা নিতে পারবেন।
পডকাস্টের জনপ্রিয়তা শিক্ষার্থীর শোনার অভ্যাসে স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন জেন-জি মাসিক শ্রোতা পডকাস্টে সময় ব্যয় করে। এই সংখ্যা দেখায় যে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অডিও কন্টেন্টের চাহিদা বাড়ছে, যা শিক্ষার নতুন মাধ্যম হিসেবে পডকাস্টকে উপযুক্ত করে তুলছে।
বিশ্বের বহু বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যে নিজস্ব পডকাস্ট সিরিজ চালু করেছে, এবং শিক্ষার্থীরাও স্বতন্ত্রভাবে শিক্ষামূলক সিরিজ অনুসন্ধান করে। এই প্রবণতা দেখায় যে পডকাস্ট কেবল বিনোদন নয়, বরং জ্ঞান অর্জনের একটি কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
পডকাস্ট‑স্টাইলের পাঠের একটি বড় সুবিধা হল পুনরাবৃত্তি করা সহজ। শিক্ষার্থী যখন কোনো বিষয় বুঝতে অসুবিধা বোধ করে, তখন তারা সহজেই অডিও পুনরায় শুনে ধারণা পরিষ্কার করতে পারে। এছাড়া ক্লাস মিস করা শিক্ষার্থীর জন্যও এটি একটি ব্যাকআপ হিসেবে কাজ করে।
তবে, শিক্ষকদের মধ্যে এআই টুলের ব্যবহার নিয়ে কিছু উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে জেনারেটিভ এআই, যেমন চ্যাটজিপিটি, শিক্ষার্থীর কাজের স্বয়ংক্রিয়তা বাড়াতে পারে বলে কিছু শিক্ষক সতর্ক। এই উদ্বেগের মোকাবিলায় গুগল শিক্ষকদের দায়িত্বশীল এআই ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছে।
গুগল জোর দিয়ে বলছে যে শিক্ষকরা সবসময় জেনারেটেড কন্টেন্ট পর্যালোচনা ও প্রয়োজনমতো সম্পাদনা করবেন, যাতে তথ্যের সঠিকতা ও স্থানীয় নীতিমালা মেনে চলা যায়। এভাবে অডিও পাঠের গুণমান বজায় থাকবে এবং শিক্ষার্থীর জন্য উপকারী হবে।
জেমিনি ফর ক্লাসরুম প্রথমবার ২০২৪ সালে চালু হয় এবং তখন থেকে নিয়মিত নতুন ফিচার যুক্ত করা হচ্ছে। এই ধারাবাহিক আপডেটগুলো টুলের ব্যবহারযোগ্যতা ও শিক্ষামূলক প্রভাব বাড়াতে লক্ষ্যভিত্তিকভাবে ডিজাইন করা হয়েছে।
নতুন পডকাস্ট‑স্টাইল টুলের মাধ্যমে শিক্ষকরা ক্লাসরুমে অডিও কন্টেন্টকে সহজে সংযোজন করতে পারবেন, যা শিক্ষার্থীর মনোযোগ ও শিখন দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক। ভবিষ্যতে এ ধরনের এআই‑চালিত সেবা শিক্ষার পদ্ধতিতে আরও বড় পরিবর্তন আনতে পারে, বিশেষত স্বতন্ত্র ও পুনরাবৃত্তিমূলক শিখনের ক্ষেত্রে।
সারসংক্ষেপে, গুগল ক্লাসরুমের জেমিনি‑টুল শিক্ষকদের জন্য পডকাস্ট‑শৈলীর অডিও পাঠ তৈরি করার নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে, যা শিক্ষার্থীর পছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং স্বতন্ত্র শিখনকে উৎসাহিত করে। এআই ব্যবহারকে দায়িত্বশীলভাবে পরিচালনা করলে এই প্রযুক্তি শিক্ষার গুণগত মানকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করতে পারে।



