মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার 13তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফী বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ভোটকেন্দ্র ও সেগুলোর যাতায়াতের রাস্তাগুলো পরিদর্শন করেন। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হল ভোটদান প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা, সুষ্ঠু পরিচালনা এবং ভোটারদের সহজ প্রবেশ নিশ্চিত করা।
পরিদর্শনের সময় তিনি শিমুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (নং ৩০), রেফায়েত উল্লাহ খান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (নং ৮৭), দত্তেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (নং ২৯) এবং চরচাষী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (নং ৩১) সহ অন্যান্য নির্ধারিত ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটার প্রবেশের পথ, সাইনেজ এবং ভোটদান সরঞ্জামের অবস্থান পরীক্ষা করা হয়।
পরিদর্শনের মূল অংশে সিসিটিভি ক্যামেরা, নিরাপত্তা গেট এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা হয়। বিদ্যমান ত্রুটি ও ঘাটতি চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক সংস্কারের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সফরসঙ্গী ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজাউল করিম, গজারিয়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান এবং নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা। এই দলটি একত্রে নিরাপত্তা, অবকাঠামো এবং ভোটদান প্রক্রিয়ার সামগ্রিক প্রস্তুতি মূল্যায়ন করে।
পরিদর্শনের সময় বিশেষভাবে ভোটকেন্দ্রের চারপাশের রাস্তাঘাটের অবস্থা, আলো ব্যবস্থা এবং জরুরি প্রস্থান পথের যথাযথতা পরীক্ষা করা হয়। ভোটারদের নিরাপদ ও দ্রুত প্রবেশ নিশ্চিত করতে যথাযথ সাইনেজ এবং আলো ব্যবস্থা স্থাপন করা জরুরি বলে জোর দেওয়া হয়।
পরিদর্শনে কিছু ভোটকেন্দ্রের বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত, আলো কম এবং সিসিটিভি ক্যামেরা কাজ না করা দেখা যায়। এসব সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে মেরামত ও আপডেট করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্থানীয় বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা, বিশেষত গজারিয়া উপজেলার বিএনপি কর্মীরা, এই পরিদর্শনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন যে ভোটকেন্দ্রের প্রস্তুতি নিশ্চিত করা নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য। তারা সকল সংশোধনী কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার এবং তৃতীয় পক্ষের পর্যবেক্ষকদের অংশগ্রহণের দাবি করেন।
বিপক্ষের এই দৃষ্টিভঙ্গি নির্বাচন প্রক্রিয়ার ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রয়েছে এবং তারা আশা প্রকাশ করেন যে প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত থাকবে।
নির্বাচন কমিশনও গজারিয়া সহ পুরো মুন্সীগঞ্জ জুড়ে সমজাতীয় পরিদর্শন চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে। তারা উল্লেখ করেন যে নিরাপত্তা, লজিস্টিক্স এবং ভোটার সুবিধা নিশ্চিত করা নির্বাচনকে বৈধতা প্রদান করার মূল শর্ত।
13তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ এখনও নির্ধারিত না হলেও, ভোটকেন্দ্রের প্রস্তুতি ভোটার অংশগ্রহণ এবং ভোটের স্বচ্ছতায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেন। প্রস্তুতি যত ভালো হবে, ততই ভোটারদের আস্থা বাড়বে।
অধিকন্তু, জেলা প্রশাসন পরবর্তী সপ্তাহে পুনরায় পরিদর্শন করার পরিকল্পনা করেছে যাতে পূর্বে নির্দেশিত সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে কিনা তা যাচাই করা যায়। এই ফলো‑আপ পরিদর্শন ভোটদানের দিন পর্যন্ত চলবে।
গ্রামীণ ভোটকেন্দ্রের ক্ষেত্রে রোড নেটওয়ার্ক এবং মৌলিক অবকাঠামোর ঘাটতি প্রায়শই ভোটার প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে। তাই এই ধরণের পরিদর্শন এবং তৎক্ষণাৎ সংস্কার কাজ ভোটারদের সহজে ভোটদান নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে প্রশাসনিক দায়িত্বশীলতা এবং স্বচ্ছতা ভোটের ফলাফলে বিরোধের সম্ভাবনা কমিয়ে আনতে পারে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি যথাযথভাবে নিশ্চিত হলে নির্বাচন প্রক্রিয়া মসৃণভাবে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
সর্বশেষে, গজারিয়া উপজেলার ভোটকেন্দ্রের পরিদর্শন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে নির্দেশিত কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে, যাতে ভোটাররা নিরাপদে এবং কোনো বাধা ছাড়াই তাদের ভোট দিতে পারেন। এই প্রচেষ্টা দেশের সামগ্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার গুণগত মান উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



