বুড়িগঙ্গা নদীর তলদেশে একটি জাহাজের নোঙরের আঘাতে তিতাস গ্যাসের প্রধান পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া‑পাড়িতে গ্যাস সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হয় এবং লক্ষাধিক গ্রাহক দীর্ঘ কয়েক দিন ঘরে রান্না করতে না পারার সমস্যার মুখোমুখি হন।
ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি গত রোববার শনাক্ত হওয়া সত্ত্বেও, চার দিনব্যাপী ডুবুরি, ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড, নৌ‑পুলিশ ও বাংলাদেশ ড্রাইড ড্রিলিং ও ওয়াটার টেকনোলজি (বিডিবিডব্লিউটিএ) এর সমন্বয়ে মেরামত কাজ শেষ হয় বুধবার বিকেলে। তবে আমিন বাজার, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, আদাবর, আজিমপুর, পুরান ঢাকা সহ আশেপাশের কয়েকটি এলাকায় গ্যাসের চাপ এখনও স্বাভাবিক স্তরে পৌঁছায়নি।
তিতাস গ্যাসের অপারেশন বিভাগে কাজী মোহাম্মদ সাইদুল হাসান জানান, মেরামতের পর গ্যাস পুনরায় সরবরাহ শুরু করা হয়েছে, তবে পূর্ণ স্বাভাবিকতা পেতে কয়েক দিন সময় লাগবে। তিনি উল্লেখ করেন, গ্যাসের চাপ কম থাকলে দ্রুত স্বাভাবিক হয়, তবে কর্মদিবসে গ্যাসের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় চাপ পুনরুদ্ধার ধীরগতিতে হচ্ছে। পরিস্থিতি শুক্রবার বা শনিবারের মধ্যে স্বাভাবিক হতে পারে, তবে উত্তরা এলাকায় একটি আলাদা কাজের জন্য গ্যাসলাইন আবার বন্ধ থাকবে, ফলে পুরো ঢাকা অঞ্চলে স্বাভাবিকতা পেতে শুক্রবারের পরেও কিছুটা সময় লাগতে পারে।
শীতকালে গ্যাসের চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও, এই ধরণের অবকাঠামোগত সমস্যার ফলে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দেয়। ত্রুটিপূর্ণ লিকেজের কারণে পাইপলাইন সম্পূর্ণ ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল, ফলে চাপ পুনরায় বাড়াতে অতিরিক্ত সময় লেগেছে। এই সময়ে অনেক গৃহস্থালি হোটেল ও রেস্তোরাঁর ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়, যেখানে খাবারের দাম স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি।
বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে গ্যাস সরবরাহের এই ব্যাঘাত গৃহস্থালি ও ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য অস্থায়ী খরচ বৃদ্ধি করে। গ্যাসের পরিবর্তে লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বা বিদ্যুৎ ব্যবহার বাড়ার সম্ভাবনা আছে, যা তিতাস গ্যাসের বিক্রয় আয়কে প্রভাবিত করতে পারে। এছাড়া, গ্যাসের ঘাটতি রেস্তোরাঁ ও ক্যাফের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ক্ষতি ঘটাতে পারে, ফলে সামগ্রিক সেবার মূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
অবকাঠামো মেরামত সম্পন্ন হওয়ার পর গ্যাসের চাপ পুনরায় বাড়ানো হচ্ছে। তবে কর্মদিবসে গ্যাসের ব্যবহার বাড়ার ফলে চাপ দ্রুত স্বাভাবিক না হওয়ায়, তিতাস গ্যাসের অপারেশন টিম চাপ নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত মনোযোগ দিচ্ছে। তারা ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড, নৌ‑পুলিশ ও বিডিবিডব্লিউটিএর সমন্বয়ে লিকেজে ক্ল্যাম্প বসিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে এবং এখন ঢাকা নেটওয়ার্কে ২৫ পিএস চাপ বজায় রাখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, গ্যাস সরবরাহের এই ধরণের অস্থায়ী ব্যাঘাত ভবিষ্যতে অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরবে। তিতাস গ্যাসের জন্য দ্রুত পুনরুদ্ধার ও চাপ স্থিতিশীলতা বজায় রাখা গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি হবে।
সারসংক্ষেপে, বুড়িগঙ্গা নদীর নিচে নোঙরের আঘাতে গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ঢাকা জুড়ে গ্যাস সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। মেরামত কাজ চার দিন পর সম্পন্ন হলেও পুরো শহরে স্বাভাবিক সরবরাহে পৌঁছাতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। এই সময়ে গৃহস্থালি ও ব্যবসায়িক খাতের উপর অতিরিক্ত খরচের চাপ বাড়বে, যা গ্যাস কোম্পানির আয় ও বাজারের গতি প্রভাবিত করতে পারে। অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও জরুরি ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ ভবিষ্যতে অনুরূপ সমস্যার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।



