অভিনেতা টিমোথি শালামেট এবং পরিচালক জোশ সাফডি ২০২৬ সালে ‘মার্টি সুপ্রিম’ শিরোনামের নতুন চলচ্চিত্রের কাজ শেষ করেছেন। এই ছবিতে শালামেটকে ১৯৫২ সালের নিউইয়র্কের টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়ন মার্টি রেইসম্যানের ভূমিকায় রূপান্তরিত করা হয়েছে। এফিল্মটি এ২৪ স্টুডিওর সমর্থন ও বিতরণে তৈরি, মোট বাজেট প্রায় ৭০ মিলিয়ন ডলার, যা সাফডির পূর্বের কাজের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ছবির পটভূমি ১৯৫০-এর দশকের নিউইয়র্ক, যেখানে সময়ের সঠিক পরিবেশ পুনর্নির্মাণের জন্য বিশাল সংখ্যক পিরিয়ড এক্সট্রা ব্যবহার করা হয়েছে।
জোশ সাফডি, যিনি ‘গুড টাইম’ ও ‘আনকাট জেমস’ মতো তীব্র থ্রিলার পরিচালনা করে পরিচিত, ২০০৮ সালের ‘দ্য প্লেজার অব বিিং রোবড’ পর থেকে প্রথম একক ফিচার পরিচালনা করছেন। এই প্রকল্পে তিনি পূর্বে কখনো না করা পিরিয়ড ফিল্মের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন এবং বিশাল বাজেটের ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। সাফডির স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তার স্ত্রী সারা রোসসেইন একটি টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নের আত্মজীবনী উপস্থাপন করেন, যা সাফডির সৃজনশীলতা জাগিয়ে তোলে।
সেই আত্মজীবনীটি মার্টি রেইসম্যানের জীবনের গল্প বলে, তবে সাফডি রেইসম্যানের জীবনী সরাসরি অনুসরণ না করে ১৯৫০-এর দশকের নিউইয়র্কের টেবিল টেনিস সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে একটি বৃহৎ গল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন। তিনি ছোটবেলায় টেবিল টেনিস খেলতেন এবং তার পিতাও একই খেলায় লিপ্ত ছিলেন; এ কারণে তিনি এই ক্রীড়া সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে পরিচিত ছিলেন। এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ছবির বাস্তবতা ও আবেগকে সমৃদ্ধ করেছে।
‘মার্টি সুপ্রিম’ এর স্ক্রিপ্ট তৈরি করতে সাফডি দীর্ঘদিনের সহযোগী রোনাল্ড ব্রনস্টেইনের সঙ্গে কাজ করেন। দুজনই একসঙ্গে গল্পের কাঠামো গড়ে তোলার সময় শালামেটের চরিত্রকে টেবিল টেনিসের দক্ষতা অর্জনের প্রক্রিয়া ও তার মানসিক সংগ্রামকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলেন। শালামেটের অভিনয়কে টেবিল টেনিসের সূক্ষ্ম নড়াচড়া ও ক্রীড়া মানসিকতা প্রকাশের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
চিত্রগ্রহণের সময় ১৯৫২ সালের নিউইয়র্কের রাস্তায় গাড়ি, সাইনবোর্ড, ফ্যাশন ও খাবারের দিক থেকে সঠিক পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। পিরিয়ড এক্সট্রা হিসেবে শতাধিক অভিনেতা ও কর্মীকে ঐ সময়ের পোশাক ও আচরণে সাজিয়ে শহরের ব্যস্ততা ও রঙিন দৃশ্য পুনরায় তৈরি করা হয়েছে। সাফডি এই বিশাল দলকে পরিচালনা করতে “উৎপাদনশীল অস্থিরতা” নামে পরিচিত পদ্ধতি ব্যবহার করেন, যেখানে স্বতঃস্ফূর্ততা ও সৃজনশীল ঝুঁকি নেওয়া উৎসাহিত করা হয়। ফলে ছবির দৃশ্যগুলোতে স্বাভাবিকতা ও তীব্রতা বজায় থাকে।
বাজেটের বড় পরিমাণ সত্ত্বেও সাফডি ও তার দল খরচের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করেন। প্রোডাকশন ডিজাইন, কস্টিউম ও সেটের জন্য ঐতিহাসিক গবেষণা ও আর্কাইভ ফটোগ্রাফি ব্যবহার করা হয়েছে, যা অতিরিক্ত ব্যয় কমাতে সহায়তা করে। এছাড়া, এ২৪ স্টুডিওর সমর্থন প্রকল্পের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বিতরণের জন্য শক্তিশালী নেটওয়ার্ক সরবরাহ করে।
‘মার্টি সুপ্রিম’ এর মূল আকর্ষণ হল শালামেটের চরিত্রে টেবিল টেনিসের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে রূপান্তর। শালামেটের শারীরিক রূপান্তর ও ক্রীড়া দক্ষতা প্রশিক্ষণ তাকে এই ভূমিকায় বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে। ছবিতে টেবিল টেনিসের গেমপ্লে, কৌশল ও মানসিক চাপের দৃশ্যগুলো বিশদভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, যা দর্শকদের ক্রীড়া প্রেমী ও ঐতিহাসিক নাটক উভয়ই উপভোগ করতে পারবেন।
সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া এই প্রকল্পটি সাফডির ক্যারিয়ারের নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি পিরিয়ড ফিল্মের জটিলতা, বড় বাজেটের পরিচালনা এবং টেবিল টেনিসের অনন্য সংস্কৃতি একত্রে উপস্থাপন করে চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। ‘মার্টি সুপ্রিম’ এ২৪ এর বিতরণ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাবে এবং টেবিল টেনিসের ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রাখে।
এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে টেবিল টেনিসের প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং ১৯৫০-এর দশকের নিউইয়র্কের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। দর্শকরা শালামেটের পারফরম্যান্স, সাফডির দৃষ্টিভঙ্গি ও পিরিয়ড পুনর্নির্মাণের বিশদে মুগ্ধ হবেন, যা বিনোদন ও সংস্কৃতির সমন্বয় ঘটাবে।



