27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলামার্টিন চিভার্স, প্রাক্তন টটনহ্যাম ও ইংল্যান্ড ফরোয়ার্ড, ৮০ বছর বয়সে পরলোক গমন

মার্টিন চিভার্স, প্রাক্তন টটনহ্যাম ও ইংল্যান্ড ফরোয়ার্ড, ৮০ বছর বয়সে পরলোক গমন

ইংল্যান্ডের প্রাক্তন আন্তর্জাতিক ফরোয়ার্ড মার্টিন চিভার্স ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি টটনহ্যাম হটস্পার এবং ইংল্যান্ড জাতীয় দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। চিভার্সের মৃত্যু সংবাদ টটনহ্যামের অফিসিয়াল বিবৃতি এবং সাউথ্যাম্পটন ক্লাবের শোকসূচক বার্তায় প্রকাশ পেয়েছে।

চিভার্সের ফুটবল ক্যারিয়ার ১৯৬২ সালে সাউথ্যাম্পটনের সঙ্গে শুরু হয়, যেখানে তিনি নিজের শহরের ক্লাবে প্রথম ম্যাচে পদার্পণ করেন। ১৯৬৮ সালে টটনহ্যাম হটস্পার তার দলে যোগ দেন এবং পরের দশকটি তিনি লন্ডনের এই ক্লাবে কাটান।

টটনহ্যাম হটস্পারে চিভার্সের সময়কালটি তার সেরা শীর্ষে গন্য হয়। তিনি লিগ কাপ এবং ইউইফা কাপ জয়ের অংশ ছিলেন, এবং ক্লাবের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্কোরারদের মধ্যে স্থান পেয়েছেন। মোট ৩৬৭টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ১৭৪ গোলের রেকর্ড তিনি গড়ে তুলেছেন।

১৯৭১ সালের লিগ কাপ চূড়ান্তে তিনি অ্যাস্টন ভিলার বিরুদ্ধে দুটো গোল করে টটনহ্যামকে বিজয়ী করে তোলেন। একইভাবে, ১৯৭২ সালের ইউইফা কাপের দুই লেগের ফাইনালে উলভসের বিরুদ্ধে দুটো গোল করে দলকে চ্যাম্পিয়নশিপের পথে এগিয়ে নেন। এই পারফরম্যান্স তাকে ক্লাবের কিংবদন্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

চিভার্সের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারও সমৃদ্ধ ছিল। ১৯৭১ থেকে ১৯৭৩ পর্যন্ত তিনি ইংল্যান্ডের হয়ে ২৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন এবং ১৩টি গোল করেছেন। তার গতি, শুটিং ক্ষমতা এবং শারীরিক শক্তি সেই সময়ের ইংলিশ ফুটবলের জন্য আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হয়।

১৯৭৩ সালে টটনহ্যাম আবার লিগ কাপ জিততে সক্ষম হয়, যেখানে চিভার্সের অবদান অপরিসীম। তার অবদানের স্বীকৃতিতে ২০০৭ সালে তাকে টটনহ্যাম হল অফ ফেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই সম্মান তার ক্লাবের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধনের প্রতীক।

টটনহ্যাম ক্লাবের অফিসিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমাদের কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড মার্টিন চিভার্সের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করছি। তার পরিবার, বন্ধু এবং প্রাক্তন সহকর্মীদের প্রতি আমাদের সমবেদনা জানাই।” ক্লাবের খেলোয়াড়রা পরবর্তী ম্যাচে, এএফসি বৌচার্ডের সঙ্গে, কালো ব্যান্ডেজ পরিধান করবে।

সাউথ্যাম্পটন ক্লাবও চিভার্সের মৃত্যুর খবর পেয়ে শোক প্রকাশ করে। ক্লাবের মতে, চিভার্স সাউথ্যাম্পটনের হয়ে ১৮৯টি ম্যাচে ১০৮টি গোল করেছেন, যা ক্লাবের ইতিহাসে অন্যতম সাফল্য। তার প্রারম্ভিক বছরগুলোই তার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বলতার ভিত্তি গড়ে তুলেছিল।

টটনহ্যাম ছাড়ার পর চিভার্স সুইজারল্যান্ডের সার্ভেটে গিয়ে ইউরোপীয় ফুটবলের নতুন দিগন্তে পা রাখেন। সেখানে তিনি অতিরিক্ত সাফল্য অর্জন করেন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার নামকে আরও উজ্জ্বল করেন। পরে তিনি ইংল্যান্ডে ফিরে নরউইচ এবং ব্রাইটনসহ কয়েকটি ক্লাবে খেলেন।

চিভার্সের ক্যারিয়ার শেষের দিকে তিনি ফুটবলের পরিবর্তনশীল প্রকৃতি সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, তার সময়ে পেছন থেকে ট্যাকল সাধারণ ছিল, মাঠের পৃষ্ঠ মাটি ও অসমান, বল ভারী এবং পেশাদার ডায়েটিশিয়ান বা সাইকোলজিস্টের সহায়তা ছিল না। আজকের খেলোয়াড়দের গতি ও ফিটনেসের তুলনায় তিনি বিশ্বাস করেন, তার খেলা শৈলী আধুনিক ফুটবলে মানিয়ে নিতে পারত।

চিভার্সের অবদান শুধুমাত্র গোলের পরিমাণে সীমাবদ্ধ নয়; তিনি তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য একটি আদর্শ ছিলেন। তার কঠোর প্রশিক্ষণ শৃঙ্খলা এবং মাঠে দৃঢ়তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে। তার স্মৃতি এখনো টটনহ্যাম ও সাউথ্যাম্পটন উভয় ক্লাবের ভক্তদের হৃদয়ে বেঁচে আছে।

মার্টিন চিভার্সের মৃত্যু ক্রীড়া জগতে একটি বড় ক্ষতি, তবে তার অর্জিত সাফল্য এবং ফুটবলের প্রতি অবিচল ভালোবাসা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অনন্য ঐতিহ্য হিসেবে রয়ে যাবে। তার পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে, ফুটবলের জগতে তার নাম চিরকাল গৌরবময় থাকবে।

৮৮/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: The Guardian – Football
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments